দুই সুপারহিরোর পাখায় নতুন বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে ক্রিকেট বিশ্ব হিসাবের খাতা থেকে বাদ দিয়েছে অনেকদিন হতে চললো। শ্রীলঙ্কা ঠিক সেই অবস্থানে না গেলেও পথেই আছে। সাঙ্গাকারা, মাহেলা, মুরালিধরণদের বিদায়ের পর আক্ষরিক অর্থে সাফল্যের খোঁজে ধুঁকছে তারা। চান্দিকা হাতুরুসিংহে কোনো ম্যাজিক না করে বসলে তাই সহসাই বড় কোনো ক্রিকেটীয় বিল্পব করে ফেলার সম্ভাবনা কম ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

তাই, এমন দু’দলের বিপক্ষে দেশের মাটিতে, বলা ভাল নিজেদের সবেচেয়ে পছন্দের ভেন্যুতে টানা তিন ম্যাচ জিতে ফেলা খুব বড় ব্যাপার নয়। যদি, বাংলাদেশ চলতি ত্রিদেশিয় সিরিজটা জিতেও ফেলে সেটা নি:সন্দেহে বড় এক অর্জন হবে। তবে, এটা বলা যাবে না যে বাংলাদেশ অতিমানবীয় কোনো কীর্তি গড়ে ফেলেছে।

তারপরও, বলবো এই টুর্নামেন্টটা নতুন করে চেনাচ্ছে বাংলাদেশকে। বড় দলগুলোর সাথে তুলনামূলক খর্বশক্তির দলগুলোর পার্থক্য ঠিক কতটা হওয়া উচিৎ সেটা একটু একটু করে, ভেঙে ভেঙে দেখাচ্ছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। মাশরাফির এই দলটা সত্যি ভয়ডরহীন ক্রিকেটের নতুন ব্র্যান্ড।

টানা তিন ম্যাচে বাংলাদেশের জয় আক্ষরিক অর্থেই তিন রকম। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষকে অল্পতে বেঁধে ফেলা, এরপর ব্যাট করতে নেমে মাত্র দুইটা উইকেট আর ২০ ওভারেরও বেশি বাকি থাকতেই সহজ এক জয়। দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রানের পাহাড়, এরপর প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে অল্পতে গুটিয়ে ফেলা। তৃতীয় ম্যাচটা আরো অন্যরকম। স্লো, টার্নিং আর নিচু হয়ে আসা উইকেটের লো স্কোরিং ম্যাচে ২০০-এর আশেপাশে ম্যাচেও প্রতিপক্ষকে প্রবল চাপ দিয়ে ৯১ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয়াটা আর দশটা দল পারে না, পারে বড় দলগুলো। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ এখন নতুন হুমকির নাম!

এখানে একটু আলাদা করে অবশ্যই বলতে হয় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের নাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দশ বছর কাটিয়ে ফেলেছেন দু’জনই। এই ত্রিদেশীয় সিরিজের আগেও ব্যাটিং অর্ডারে সাকিব আল হাসানের অবস্থান একটু নিচের দিকেই ছিল। ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গে তাই খুব বেশি বড় জুটি নেই সাকিবের। তামিম-সাকিবের যুগলবন্দিতে আবারও শতরান দেখা গেল। ওয়ানডেতে এটি তাদের দ্বিতীয় শতরানের জুটি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ১০৬ রান যোগ করেছেন তারা।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে ১৪৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তামিম-সাকিব। এমন উইকেটে খেলা তামিম বা সাকিব কারো জন্যই সহজ ছিল না। তবুও তারা সেটা করতে পেরেছেন, হয়ে উঠেছেন প্রতিপক্ষের ত্রাস। আগের দু’দিন ব্যাটিং-বোলিং যৌথ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন সাকিব। এবার হলেন তামিম। টুর্নামেন্টটাকে তাই তামিম-সাকিবের সিরিজ বলে দিলেও তাই বেশি বলা হবে না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।