দিনে ফুচকা বিক্রেতা, রাতে চিত্রশিল্পী

ঠাকুরগাঁও শহরে আজিজ ভাই নামেই তাঁকে সবাই চেনে। সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশেই তাঁর ছোট একটা অস্থায়ী ফুচকার দোকান। শহরের অলিগলিতে আজিজ ভাইয়ের ফুচকা বেশ জনপ্রিয়। এই করেই তাঁর সংসার চলে।

যদিও, এই  ফুচকা বিক্রিই তাঁর একমাত্র পেশা নয়। তাঁর আরেকটি পরিচয় জানলে রীতিমত আকাশ থেকে পড়বেন। তিনি হলেন চিত্রশিল্পী। তাঁর হাতের ফুচকা যেমন সুস্বাদু তেমনি অবসর সময়ে কাঠপেন্সিলে আঁকা তাঁর চিত্রকর্মগুলোও অনন্য।

পঞ্চাশের অধিক ছবি এঁকে ফেলেছেন। অর্থের অভাবে প্রদর্শনী করে উঠতে পারছিলেন না। অবশেষে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল এগিয়ে আসলেন। ঠাকুরগাঁওয়ের বইমেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে তাঁর চিত্রকর্ম।

প্রতিদিন আজিজ ভাইয়ের হাতে আঁকা ছবি দেখতে ভিড় করছে অসংখ্য মানুষ। বাড়ি ফিরছে এক রাশ মুগ্ধতা নিয়ে।

জানা গেল, আজকের কথা নয়, সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ফুঁচকা ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন আব্দুল আজিজ। শৈশব থেকে অনেক দারিদ্রের মধ্যে বড় হলেও শিক্ষিত হওয়ার লড়াইটা তিনি চালিয়ে গেছেন। বললেন, ‘আমি নাইট স্কুলে পড়ালেখা করেছি। দিনের বেলা হোটেলে কাজ করে রাতে পড়তে যেতাম। বাবা যুদ্ধে মারা যান। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতেন। সংসার মূলত বড় ভাই চালাতেন।’

ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর ঢাকায় এসে একটা ফাস্ট ফুডের দোকানে কর্মচারীর কাজ করেন। এর পাশাপাশি চলতে থাকে তাঁর আঁকার খাতা। ১৫ বছর পর নিজের শহর ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে সেখানেই দিয়েছেন নিজের ফুচকার দোকান।

আজিজ জানালেন, ছোট বেলা থেকেই ভেতরে ভেতরে বড় চিত্রশিল্পী হওয়ার তাড়না বোধ করতেন তিনি। বললেন, ‘ছবি আঁকার আগ্রহ ছিল ছোট থেকেই। আমার বন্ধুরা ছবি আঁকা শিখত ওদের বলেছিলাম আমাকে শেখাতে। কিন্তু ওরা আমাকে বলেছিল তুই তো পড়ালেখা জানিস না তুই আর কি আঁকবি। এই কথাটা শোনার পর আমার মধ্যে একটা জেদ সৃষ্টি হয় যে, আমি দেখিয়ে দিব সেই জেদ থেকেই আমার আঁকা শুরু। দেখি আমি ছবি আঁকতে পারি কিনা, মানুষ আমাকে শিল্পী বলে ডাকে কিনা, কাগজ পত্রিকায় শিল্পী নামটা উঠে কিনা দেখি চেষ্টা করে।’

আব্দুল আজিজ এখানেই তাঁর স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দিচ্ছেন না। এবার তিনি রাজধানী ঢাকাতে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করতে চান। বললেন, ‘আসলে শিল্পকর্মটা আমার খুব ভাল লাগে। কে দেখল, কে কে দেখল না, এটা খেয়াল করি না। আমার স্বপ্ন এটা। আমি ঢাকায় এতদিন থাকলে হয়ত ভালো জায়গায় যেতে পারতাম কিন্তুু আমি পারি নি সংসারের কারণে, পরিবারের কারণে। এখন ঢাকায় একটি প্রদর্শনী করতে পারলে আমার সব ইচ্ছে ও স্বপ্ন পূরণ হবে।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।