তৌকিরের সাথে হালদায় ভাসি

জয়যাত্রা, রূপকথার গল্প, দারূচিনি-দ্বীপ, অজ্ঞাতনামা এরকম কিছু ভিন্নধারার সিনেমা সর্বদাই উপহার দিয়ে এসেছেন তিনি। এবারো এর ব্যাতিক্রম কিছু ঘটছে না। এক ডিসেম্বর, মানে কাল এরকমই একটি ভিন্ন ধারার সিনেমা নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘হালদা’।

নির্মাতা তৌকির আহমেদ। তিনি একাধারে একজন অভিনেতা, নির্মাতা এবং লেখক। আশির দশকে মঞ্চে অভিনয় করার দ্বারাই তার অভিনয় জগতের সূচনা ঘটে। তার অভিনীত প্রথম নাটকটি সম্প্রচারিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। তার অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তানভির মোকাম্মেল ১৯৯৬ সালে ‘নদীর নাম মধুমতি’ নামক সিনেমায় কাজ করার সুযোগ করে দেন। এই থেকেই একজন অভিনেতা হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয় সিনেমা জগতে।

তবে একজন অভিনেতা হিসেবেই তিনি থেমে থাকতে চাননি। যার কারণেই হয়তো, প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা শেষে তিনি লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট থিয়েটার থেকে মঞ্চ নাটক পরিচালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । পরবর্তীতে, নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে চলচ্চিত্রে ডিপ্লোমা করেন তিনি।

সিনেমা এবং নাটক বিষয়ক এতো জ্ঞান অর্জন করেছেন তা যদি প্রয়োগই না করেন তাহলে কি করে হয়। তাইতো তিনি নেমে পড়লেন চলচিত্র নির্মান জগতে। বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের অনুপ্রেরণাতেই মূলত চলচিত্র নির্মাণে তার অনুপ্রবেশ ঘটে।

তৌকির আহমেদের পরিচালিত প্রথম নাটক ‘তোমার বসন্ত দিনে’। ২০০৪ সালে তিনি তার ষষ্ঠ নাটক ‘অরণ্যের সুখ-দুঃখ’ পরিচালনা করেন। একই বছর অর্থাৎ ২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাহিনী নিয়ে নির্মিত ‘জয়যাত্রা’ সিনেমা দিয়ে একজন সিনেমা নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তৌকির আহমেদ।

তার এই প্রথম সিনেমা দিয়েই তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার সম্মাননা অর্জন করে নেন। একজন নবাগত পরিচালক এতো বড় সম্মাননা অর্জন করেছেন এই ভেবেই যেন তিনি আরো ভালো সিনেমা নির্মানের অনুপ্রেরণা পান। সেই অনুপ্রেরণাকে কাজে লাগিয়েই হয়তো তিনি ২০০৬ সালে তার পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমা, ‘রূপকথার গল্প’ তৈরি করেন।

রূপকথার গল্প সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করতে পারলেও এটি পেয়েছে ২টি বিশেষ সম্মাননা। মেরিল প্রথম আলো সম্মাননায় সেরা চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। একই সাথে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শকের ভোটে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে রূপকথার গল্প।

তৌকির আহমেদ তার প্রায় প্রতিটি সিনেমার চিত্রনাট্য, গল্প তিনিই করে থাকেন। তিনি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরষ্কার অর্জন করেছেন। তৌকির আহমেদ নির্মিত ‘দারুচিনি-দ্বীপ’ সিনেমাটি বালি চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শকদের ভোটে সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়।

দারুচিনি –দ্বীপ সিনেমা নির্মানের পর দীর্ঘ আট বছর তৌকির আহমেদকে কোনো সিনেমা পরিচালনা করতে দেখা যায় নি। ২০১৬ সালে সেই বিরতির ইতি টেনে অজ্ঞাতনামা সিনেমার কাজ শুরু করেন তিনি।

গেল বছরের কান্ চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত, তৌকির আহমেদ পরিচালিত সিনেমা অজ্ঞাতনামা। ২০১৬ সালের অন্যতম একটি সেরা সিনেমা হিসেবে ‘অজ্ঞাতনামা’-র নাম শোনা যায় অনেকের মুখেই। এই সিনেমার মূল বিষয়বস্তু ছিলো জাল পাসপোর্ট তৈরি করে অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর গল্প। অজ্ঞাতনামা সিনেমার কাহিনী একটি শিক্ষামূলক বার্তা বহন করে মূলত।

তৌকির আহমেদকে সিনেমা বিষয়ক প্রচারণা করতে খুব কমই দেখা গেছে। প্রচারণার অভাবে তার চতুর্থ সিনেমা অজ্ঞাতনামা দর্শকের কাছে তেমনভাবে পৌঁছায় নি। এমনিতেই সেই সময়টাতে ভালো সিনেমার অভাব ছিলো। যার কারণে দর্শক প্রায় সিনেমাহলকে ভুলতে বসেছিলো। এরকম সময়ে সিনেমা বানানোর ঝুঁকি কোনো পরিচালক বা প্রযোজক গরহণ করেন না। তৌকির আহমেদ ঝুঁকি নিয়ে সিনেমা মুক্তি দিলেও তা যথাসময়ে দর্শকের কাছে পৌঁছায় নি ।

তার পরিচালিত পঞ্চম সিনেমা হিসেবে দেশের ৯০ টি সিনেমা হলে ডিসেম্বর মুক্তি পেতে যাচ্ছে হালদা। হালদা নদী ও এর তীরবর্তি মানুষের জীবনযাত্রা এবং তাদের গল্প নিয়েই তৈরি করা হয়েছে হালদা সিনেমার মূল গল্প।

এবারো হালদা নিয়ে তেমন কোনো প্রচারণা করতে দেখা যায় নি তৌকির আহমেদকে। তবে ইতোমধ্যেই ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে এই সিনেমার ৩ টি গান এবং ট্রেইলার। ট্রেইলারটি মুক্তি পাবার পর দর্শক সমাজে একটু হৈ-হুল্লোড় তৈরি করতে পেরেছে।

এই প্রথম একযোগে ৯০ টি সিনেমা হলে তৌকির আহমেদ পরিচালিত কোনো সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে সারাদেশে। এই বিষয় নিয়ে তৌকির আহমেদকে বেশ আশাবাদী মনে হয়েছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।