তোমাদের ভাগ্য তোমাদেরই হাতে: ওয়ালশ

প্রায় এক বছর হল আছেন বাংলাদেশ দলের সাথে। তবে, টানা সিরিজের কারণে লম্বা সময় পেসারদের সাথে নিবীড়ভাবে কাজ করা হয়নি কোর্টনি ওয়ালশের। এবার সেই সুযোগটা পেয়েছেন। সেই বিশেষ ক্যাম্প চলাকালে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি মুখোমুখি হলেন গণমাধ্যমের।

– ক্যাম্পে মূলত কী কী বিষয় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে?

ওয়ালশ: এই প্রথম আমি তাদের নিয়ে সিরিয়াস কিছু করার সুযোগ পেলাম। আমার এখানে আসার পর থেকে তারা খেলার মধ্যে ছিল। খেলা চলা অবস্থায় খুব বেশি কিছু কাজ করা যায় না। ফলে লোকে যেমন বলছে বা লিখছে যে, আমি কারো অ্যাকশন বদলে দিয়েছি; এরকম কিছু ঘটেনি। আমরা স্রেফ তাদের আরো উত্সাহ দিয়েছি এবং একটু সহযোগিতা করেছি। এখন আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে, এ কয় দিন যেসব ত্রুটি দেখেছি, তার কিছু সংশোধন করার। এ জন্যই আমি আগে আগে চলে এসেছি। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, তা সংশোধন করব।

– পেসারদের  কেমন উন্নতি দেখছেন?

ওয়ালশ: উন্নতি হচ্ছে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাজে আবহাওয়া আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে যতটা উন্নতি আশা করেছিলাম, তা হয়নি। তারপরও আমরা সময় নষ্ট করছি না। যখনই সুযোগ পাচ্ছি, বাইরে যাচ্ছি। আর সেটা না হলে ভেতরে মিটিং করছি। ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করছি। চেষ্টা করছি যাতে ক্রিকেট মস্তিষ্ক আরো ক্ষুরধার হয়ে ওঠে।

– কোনো মৌলিক ব্যাপার নিয়ে কাজ করছেন কী?

ওয়ালশ: একটা মৌলিক ব্যাপার হলো ধারাবাহিকতা। তারা যতটা ধারাবাহিক হওয়া উচিত বা হতে পারত, তা হচ্ছে না। এটা আসলে অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা খুব একটা সফর করি না। তাদেরকে খুব বড় কিছু করতে হবে, তা নয়। তবে তাদের ধারাবাহিকতা ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। তখন ওদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যাবে।

– পেসাররা তরুণ হওয়াটা কী একটা সুবিধা হয়েছে?

ওয়ালশ: হ্যা, এটা একটা বড় সুবিধার ব্যাপার। ওরা এখনো অনেক কম বয়সী। ওরা সামনে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে আরো শিখবে। সফর খুব উপকার করে। যেমন তারা এখন নিউজিল্যান্ড আর ভারতের পার্থক্য বোঝে। এই দলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হলো ম্যাশ। ও কন্ডিশনটা ভালো বোঝে। ও তরুণদের কাছে উপদেশ ও টিপস পৌঁছে দেয়। আমাদের তরুণরা শেখার ব্যাপারে খুব আগ্রহী।

– তাসকিনের পেসটা কী কমানো হচ্ছে?

ওয়ালশ: ও আরো ধারাবাহিক হতে চাচ্ছে। আমার মনে হয়েছে, ও যেখানে বল ফেলতে চাচ্ছে, সেটা পারছে না। আমরা চাই ও জোরে বল করুন। কারণ ওর পেস আছে। ও সেটা ব্যবহার করতে পারে। তবে তার আগ্রাসনটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতে হবে। ওকে সঠিক জায়গায় বল ফেলতে হবে, তবে লোকে পেসটাকে পাত্তা দেবে।

– মুস্তাফিজ ঠিক কী অবস্থায় আছেন?

ওয়ালশ: আমি দেখলাম ও ইংল্যান্ডে সামান্য দূরে দূরে বল ফেলছিল। আমরা ওকে আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ করতে চাচ্ছি। আমরা ওর পেসটাকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি, যেটাতে ও অভ্যস্ত ছিল। আর চাচ্ছি যে, ও স্ট্যাম্পের আরেকটু কাছে বল করুক। ও আসলে জানে, ওকে কী করতে হবে। আমি ওকে কৃতিত্ব দেব, কারণ ও নিজে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। আর অনেক অনুশীলন করছে। সে সেরা হতে চায়। সে আসলেই একটা বিশেষ প্রতিভা। এই আবহাওয়ার কারণে ও একটু হতাশ। কারণ, আমরা উন্নতি করছিলাম।

– ওর বোলিং অ্যাকশন কী বদলে ফেলা হবে?

ওয়ালশ: না। ওকে নতুন বোলিং অ্যাকশনে দেখা যাবে, তা বলছি না। ওকে ক্রিজে আরেকটু ভারসাম্যপূর্ণ চাচ্ছি আমরা। আরেকটু কাছে চাচ্ছি স্ট্যাম্পের। যতক্ষণ পর্যন্ত খুব দরকার না হয়, কারো অ্যাকশন বদলানোর পক্ষে না আমি। অপারেশনের ফলে ও একটু দূরে সরে গেছে। এখন ও সঠিক পথে আছে। ফলে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না

– চম্পকা রমানায়েকে আসছেন। তার ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

ওয়ালশ: বাংলাদেশের ক্রিকেটের যাতে উপকার হবে, আমি তার পক্ষে। এখনো তো এটা অফিসিয়াল কিছু না। তবে আমি শুনেছি, সে আসছে। আমি ওকে দু হাত খুলে স্বাগত জানাব। আমরা দু জন একসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে পারব।

ক্যাম্প শেষে কী অবস্থানে পেসারদের দেখতে চান?

ওয়ালশ: আমি দেখতে চাইব যে, তাদের ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ, বৈচিত্র্য আরো বেড়েছে। এরা অনেক তরুণ। আমরা যদি এদের সামান্য একটু ধারাবাহিক করে তুলতে পারি তাহলে অনেক এগিয়ে যাবে। আমি সবসময় ওদের বলি, ‘তোমাদের ভাগ্য তোমাদেরই হাতে। মাঠে যাও আর কাজটা করে যাব। সবসময় উন্নতি করার চেষ্টা করবে এবং শেখার চেষ্টা করবে।’

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।