তাহলে রাজ্জাককে টেস্ট স্কোয়াডে ডাকা কেন?

এত আলোড়ন তুলে, আয়োজন করে রাজ্জাককে চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হলো তাহলে সানজামুলকে টেস্ট ক্যাপ পরিয়ে দিতে?

দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক সবসময়ই থাকে। বাংলাদেশের মত দেশে আরও বেশি। আমি প্রায় সবসময়ই নির্বাচকদের দিক থেকে ভাবার চেষ্টা করি। তাদের ভাবনা, দলের চাওয়া মনে রাখার চেষ্টা করি। যারা অনেক সমালোচনা করেন, আমি নির্বাচকদের ভাবনা থেকে তাদের অনেককে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝেমধ্যে নিজেই হিসাব মেলাতে পারি না। আজ যেমন পারছি না। ঘিলুতে কিছু ঢুকছে না।

সাকিব ছিটকে যাওয়ার পর সেদিন রাতেই বদলী হিসেবে নেওয়া হলো সানজামুল ও তানবীরকে। পরদিন দুপুরে শুনলাম রাজ্জাকও চট্টগ্রামে যাচ্ছেন। কিন্তু বিসিবি অফিসিয়ালি কিছু জানাচ্ছে না, নির্বাচকরা মুখ খুলছেন না। নিশ্চিত খবর, তবু কেন লুকোচুরি? যাই হোক, রাতে অফিসিয়ালি জানানো হলো। রাজ্জাকও চট্টগ্রাম টেস্টের দলে।

রাজ্জাকের দলে ডাক পাওয়া হয়ত প্রাপ্যই ছিল, বিশেষ করে সাকিব ছিটকে যাওয়ার পর। কিন্তু ফেরানোর প্রক্রিয়াটা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই। এভাবে হুট করে ফেরানোর কারণ? প্রধান নির্বাচকের ব্যখ্যা – ‘হুট করে নয়, এটা প্রক্রিয়াতেই ছিল। রাজ্জাক অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। আমাদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব চোট পেয়েছে। আমরা চিন্তা করলাম যে সানজামুল তো নতুন। ও আমাদের প্রক্রিয়ার মধ্যেই আছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে। তাইজুলও আছে। আমরা চিন্তা করলাম রাজ্জাক যেহেতু ঘরোয়াতে ভালো করছে, ওকে দলের সঙ্গে রাখলে যদি সুযোগ আসে তাহলে দেখা যাবে। এই চিন্তা করেই ডাকা হয়েছে।’

‘সানজামুল একদম অনভিজ্ঞ, একটি টেস্টও খেলেনি। তাইজুলের ফর্মটাও চিন্তা করতে হবে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১টি টেস্ট খেলেছে। অত ভালো করেনি। তো সেই হিসেবে ফর্মের কথা চিন্তা করেই আমরা বাড়তি স্পিনার নিয়েছি। যার পজিশন ভালো থাকবে আগামীকাল, তাকে নিয়েই চিন্তা করব।’

সাকিবের বদলে যদি অভিজ্ঞ কাউকে নিতেই হয়, তাহলে আগের রাতেই কেন রাজ্জাক নয়? প্রশ্ন ছিল। প্রধান নির্বাচকের উত্তর – ‘অবশ্যই বিবেচনায় ছিল (রাজ্জাক)। খেলা শেষে আমরা ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করতে পারিনি। আরেকজনকেও দেওয়ার চিন্তা ছিল। যেহেতু দেশের মাটিতে দুটি টেস্ট আছে সিরিজে, এজন্য ১৬ জনের স্কোয়াড করেছি।’

এই কথা থেকে যা বোঝা গিয়েছিল, সাকিব ছিটকে যাওয়ার পর নির্বাচকরা বদলী দিয়ে ফেলেছেন। তার পর টিম ম্যানেজমেন্টের মনে হয়েছে, সাকিবের জায়গায় অভিজ্ঞ কোনো স্পিনার দরকার। প্রশ্ন থাকেই। তবু মেনে নেওয়া গেল। প্রধান নির্বাচক আবার বললেন, ‘সানজামুল একদম অনভিজ্ঞ, একটি টেস্টও খেলেনি। তাইজুলের ফর্মটাও চিন্তা করতে হবে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১টি টেস্ট খেলেছে। অত ভালো করেনি। তো সেই হিসেবে ফর্মের কথা চিন্তা করেই আমরা বাড়তি স্পিনার নিয়েছি।’

চট্টগ্রামে আসার প্লেন টিকিট কনফার্ম করে তার পর রাজ্জাককে জানানো হয়েছিল দলে ফেরার খবর। মানে এতটাই জরুরী প্রয়োজন ছিল তাকে। প্রধান নির্বাচক বারবার বললেন অভিজ্ঞতার কথা। তাহলে তো তার একাদশে থাকা নিয়ে সংশয়ই থাকার কথা নয়।

আজ দেখা গেল, এত যাকে জরুরী প্রয়োজন, যার অভিজ্ঞতাকে এত গুরুত্ব দেওয়া, তিনিই নেই! যাকে বলা হলো অনভিজ্ঞ ও নতুন, সেই সানজামুল আছেন।

একইরকম প্রশ্ন করা যায় নাঈম হাসানকে নিয়েও। এত বড় চমক দিয়ে দলে আনা হলো। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে ফেরানো হলো। তার মানে নিশ্চয়ই তাকে নিয়ে নির্বাচকদের , টিম ম্যানেজমেন্টের বিশেষ পরিকল্পনা ছিল! অথচ নাঈমও নেই। অন্যদিকে যুব বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচে তাকে পেল না দল। টেস্ট দলের চেয়ে যুব বিশ্বকাপ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু তাকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা না থাকলে কেন ঘটা করে নিউ জিল্যান্ড থেকে আনা হলো!

হয়ত অনেক বিকল্প হাতে রাখার কথা ভাবা হয়েছে। প্রধান নির্বাচক বলেছেন একবার, ‘যেহেতু দেশের মাটিতে সিরিজ, এজন্য ১৬ জনের স্কোয়াড করেছি। যার পজিশন ভালো থাকবে, তাকেই আমরা খেলাব।’

তার মানে ধরে নেওয়া যায়, অনুশীলনে নেটে যে ভালো করবে, তাকে নেওয়া হবে। অথচ সেখানেও প্রধান নির্বাচকের ছিল উল্টো কথা, ‘নেটে দেখে নয়, এটির একটি প্রক্রিয়া আছে। টিম ম্যানেজমেন্টের একটা চিন্তা ভাবনা আছে। পরিকল্পনা আছে। সেসব নিয়ে আমরা বসব। তারপর ঠিক করব।’

তাহলে আজ কি বুঝলাম? রাজ্জাক-নাঈমদের নিয়ে পরিকল্পনাই না থাকলে কেন আনা বা ফেরানো হলো? নাঈমের ক্ষেত্রে একটা যুক্তি কাজ করতে পারে। সাকিব একাদশে থাকলে হয়ত খেলতে নাঈম। সাকি ন থাকায় মোসাদ্দেক এসেছেন, অফ স্পিনটা তিনি দেখবেন। মিরাজ আছেন। তাই আরও একজন অফ স্পিনার না নিয়ে একজন বাড়তি বাঁহাতি স্পিনার খেলানো হলো। এটাই যুক্তি হলে তবু মানার মত। কিন্তু রাজ্জাক?

সানজামুলকে খাটো করছি না। স্কোয়াডে কারও জায়গা পাওয়া মানে সে একাদশেও যোগ্য। এই টেস্টে বা সামনে সানজামুল দারুণ কিছু করতেও পারেন। তার জন্য শুভকামনাও থাকছে। আমরা টেস্ট দারুণ ভাবে জিততেও পারি। সবই ঠিক। কিন্তু রাজ্জাকের সঙ্গে যা করা হলো, এটির যুক্তি কি? পরের টেস্টেই হয়ত আবার সুযোগ আসতে পারে রাজ্জাকের সামনে। তার পরও এই টেস্টে যা হলো, সেটির যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।

একটা ব্যাপারই হতে পারে, নির্বাচক কমিটি,টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা ভাবনা পরিস্কার ছিল না। ভাবনা স্বচ্ছ ছিল না। নিজেরাও জানতেন না তারা কী করতে চান। একাগাদা ক্রিকেটার এনে, তার পর শেষ সময়ে কিছু একটা করা যাবে!

কিন্তু রাজ্জাকের কি আরেকটু সম্মান প্রাপ্য নয়? দয়া করে বা হাওয়াই সম্মান নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স আর নিবেদন দিয়েই কি রাজ্জাক সেই সম্মানের দাবীদার নন?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।