তরুণরাই আমার পাঠক: রাকিব আল হাসান

রাকিব আল হাসান। বর্তমান সময়ে তরুণদের মাঝে ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় একজন লেখক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০১৫ সালে ‘অবরুদ্ধ কারাগার’ কাব্যগ্রন্থটি দিয়ে তার লেখক জীবনের শুভ সুচনা ঘটে।

বর্তমানে তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করছেন (তৃতীয় বর্ষ)। লেখালেখির পাশাপাশি বর্তমানে কিছু গানের লিরিক্সেও কাজ করছেন তিনি। তাছাড়া এডুকেশন ভিত্তিক সফটওয়্যার এর কাজেও ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার।

এবারের বইমেলায় বর্ষা দুপুর প্রকাশনী থেকে তার পঞ্চম বই ‘দুরত্বমা’ প্রকাশিত হতে চলেছে। বইটি নিয়ে কথা বলতেই তিনি অলিগলি.কমের।

কেমন আছেন ?

– জ্বি আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো আছি। বইমেলা একদম সামনে। সেজন্য ভাল লাগাটা আরো বেশি কাজ করছে।

আপনার লেখা পড়ে বোঝা যায় আপনি মানুষকে হাসাতে বেশ পছন্দ করেন। কিন্তু বাঙালি পাঠকদের ধারণা যারা লেখায় হিউমার আনতে চায় তারা লেখক হিসেবে খুব একটা উন্নত শ্রেণির লেখক নন। একজন তরুণ লেখক হয়ে জেনে বুঝে এতো বড় ঝুঁকি নিলেন যে।

– আমি মূলত আমার রম্য লেখায় প্রচণ্ড হিউমার রাখতে পছন্দ করি। তবে সেটা শুধু আমার রম্যের জায়গাতেই। কিন্তু গল্প লেখায় আমি মূলত গল্পের ভিতরের গল্পকে প্রাধান্য দেই।

২০১৫ সালে ভিন্ন চোখ প্রকাশনী থেকে আপনার প্রথম বই ‘অবরুদ্ধ কারাগার’ বের হয়। একজন তরুণ লেখক হিসেবে প্রথম বই প্রকাশিত হবার সেই অনুভূতিটি আসলে কি রকম ছিল ?

–  যেকোনো প্রথম কিছুই প্রাপ্তির, আনন্দের। তবে আমি সবকিছুকেই প্রথম ভাবি। ভাবি নতুন একটা কিছু।

আপনার বইগুলোর মাঝে ‘মাশরাফিনামা’ বইটি সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল পাঠকদের কাছে। বইটি রকমারির বেস্ট সেলারের খাতায়ও নাম লিখিয়েছিল। আপনি আপনার পাঠকদের কথা দিয়েছিলেন সামনেই বইটির নতুন এডিশন আসতে চলেছে। নতুন এডিশনটি ঠিক কি নিয়ে করতে চাচ্ছেন ? আর পাঠকদেরকে বইটির জন্য আর কতদিনই বা অপেক্ষা করতে হবে?

– নতুন এডিশনটিতে আরো ভিন্নমাত্রা যোগ করতে চাচ্ছি। সেজন্য সময় নিয়ে কাজ করার প্ল্যান। আসতে একটু দেরি হতে পারে বাট সময়মত জানিয়ে দিবো।

এবারের বইমেলায় ‘বর্ষাদুপুর’ প্রকাশনী থেকে আপনার নতুন বই ‘দুরত্বমা’ বের হতে চলেছে। যা ২৫ টি জীবনঘনিষ্ঠ গল্প নিয়ে তৈরী। নতুন এই বইটি নিয়ে আপনি ঠিক কতটুকু আশাবাদী ?

– এটি নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। দুর্দান্ত কভারটি অনেকের নজর কেড়েছে। তাছাড়া আশা করছি বইটি পাঠকদের আনন্দ দিবে। হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। অন্তত কেনার টাকাটা লস হবে না।

একজন পাঠক হিসেবে ‘দুরত্বমা’ বইটিকে যদি নম্বর দিতে বলা হয় তবে দশে কত দিবেন ?

– এটা বেশ কঠিন প্রশ্ন। তবে ০৮ দিতে কার্পণ্য করবো না।

প্রত্যেকটি লেখকের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির পাঠক থাকে। আপনি আপনার গল্পগুলো ঠিক কোন শ্রেণির পাঠকদের শোনাতে চেয়েছেন ?

– তরুণরাই আমার পাঠক। তবে রম্যের জায়গা, কলামের জায়গা, গল্পের জায়গায় আমার আলাদা আলাদা পাঠক শ্রেণি রয়েছে।

একজন লেখক হিসেবে লেখালেখির ভবিষ্যত নিয়ে আপনি ঠিক কি রকম স্বপ্ন দেখেন ?

– স্বপ্ন দেখতে আমার ভাল লাগেনা। তবে শুধুমাত্র লেখক পরিচয়ে অনেক গল্প বলতে আমি আগ্রহী। গল্পের জীবন তুলে ধরতে চাই। অথবা গল্প শোনাতে চাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।