ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোজবিলাসীদের পাঁচ আকর্ষণ

২০১১ সালের কথা বলছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর এতো আনন্দের মধ্যেও মনে কেমন একটা খুঁতখুঁতেভাব কাজ করছিলো, ‘ক্যাম্পাসে খাবো কই? একটা ভালো দোকানও তো নাই!’ কিন্তু ‘দর্পচূর্ণ’ হলো খুব দ্রুত। আমার অজ্ঞানতার চোখে আঙ্গুল দিয়ে প্রতিদিন হাজির হতে থাকলো এমন সব ‘সারপ্রাইজ’ যেগুলো স্বাদ-মান-দাম সব ক্ষেত্রেই অনন্য।

ঢাবিকে ‘আল্টিমেট ফুড ডেস্টিনেশান’ হিসেবে খুঁজে পাওয়ার সেই সুখ-স্মৃতিই আজ বলছি। চা, ভাজাভুজি আর আড্ডা- বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই চায়ের টেবিলেগুলোতেই তো তৈরি হয় কতশত নেতা, কবি, দার্শনিক। আর ঢাবি এলাকায় চায়ের কাপে ঝড় তোলার সুযোগ আছে কয়েক কদম পর পরই।

টিএসটিস ক্যাফেটেরিয়া

প্রথম যেদিন স্বল্প পরিচিত সহপাঠীদের (এখন জানের দুশমন বন্ধু) সাথে বসে টিএসসি’র চিকেন প্যাটিসে প্রথম কামড় বসালাম, বুঝে গেলাম এ প্যাটিস হবে আমার ক্যাম্পাস জীবনের নিত্য-সঙ্গী! শুধু কি প্যাটিস?! কেক, সিঙ্গারা, সমুচা, এক টাকার লেবু চা, কফি- ক্যাফেটেরিয়ার সব নাশতারই রয়েছে নিজস্ব স্বাদ যা বাইরের কোন দোকানে মিলবে না। আর দুপুরে-রাতে ২০-২২ টাকা দামের ‘চিকেন মিল’-এ যেমন পেট খোশ, তেমনি পকেটও। (আফসোস! মাংশের টুকরার সাইজ যদি আরেকটু বড় হতো)

মধুর ক্যান্টিন

আমার মতে, মধুর ক্যান্টিনের চা-ই তো দেশের প্রধান সব নেতা তৈরিতে মূল প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। ‘মধুর চা’-এর ‘নৈতিক গুণ’ (নেতা তৈরির গুণ) তাই গবেষণার বিষয় হওয়ার দাবী রাখে! আর মধুর ক্যান্টিনের মধুমাখা ছানা-রসগোল্লার কথা নাই বা বললাম, লোকে অত্যুক্তি ভাবতে পারে। নিজে চেখে দেখাই উত্তম।

ক্যাম্পাস শ্যাডো

এবার আসি কলাভবন-ওয়ালাদের তীর্থক্ষেত্র ক্যাম্পাস শ্যাডোর প্রসঙ্গে। শ্যাডো’র চা ছাড়া আমাদের অনেকের দিনই শুরু হয় না। আর চা এর সাথে ‘টা’ হিসেবে আছে ডিম বার্গার, টোস্ট, কিমা পরোটা, স্যান্ডউইচ, সিঙ্গারা, সমুচা ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে ক্যাম্পাস শ্যাডো’র সবচেয়ে ‘চালু আইটেম’ হলো লেবুর শরবত আর বিকেলের লুচি-তরকারি।

হাকিম চত্ত্বর

সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনের ‘মামার দোকান’ আর হাকিম চত্ত্বরের টং দোকানগুলোতে দিন-রাত ভীড় লেগেই থাকে। এদের মাশরুম চপ, পাকোড়া, আর আলু্র চপ আমাদের অনেকেরই নিয়মিত আহার। আর স্বাদের দিক থেকে এদের ত্রিশ টাকার খিচুরি যেকোন ভালো রেস্তোরাকে পাল্লা দিতে পারে। সেইসাথে গলা ভেজানোর জন্যে তো আছেই লাচ্ছি আর মৌসুমী ফলের জুস, এক্কেবারে ফ্রেশ!

আইবিএ ক্যান্টিন

আইবিএ ক্যান্টিনের কথাই বা বাদ যাবে কেন; ঢাবিতে কম খরচে একটু আধুনিক খাবারের স্বাদ যে শুধু আইবিএ ক্যান্টিনেই পাওয়া যায়। এ ক্যান্টিনের পিজা, বার্গার, শর্মা, চিকেন পাই, প্যাটিসের জন্যে লাইন দিতেও কারো আপত্তি থাকে না। আর এদের চিকেন খিচুড়ি, ফ্রাইড রাইস তো ক্যাম্পাসের ছাত্র-শিক্ষক সবারই প্রিয়।

হালের নতুন সংযোজন ‘এফবিএস ক্যাফে’-ও ক্যাম্পাসের ‘খানব’-দের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। এর বাদে ঢাবি’র জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় আরো আছে মহসিন হলের নুডলস, সূর্যসেন হলের দৈ-চিড়া, জগন্নাথ হলের ভর্তা-ভাজি-ভাত, চারুকলার চিকেন ফ্রাইসহ অনেক কিছু।

আর যারা ‘স্বাস্থ্য সচেতন’ পক্ষের লোক, তারাও কিন্তু ক্যাম্পাসে ঠিক না খেয়ে মরবেন না। বিভিন্ন ধরণের জুস-শরবতের পাশাপাশি লাইব্রেরি আর কলাভবন এলাকায় পেয়ে যাবেন শসা, গাজর, তরমুজ, আনারসসহ নানা মৌসুমী ফল।

আসলে, পরীক্ষা-এসাইনমেন্টের বাইরে ক্যাম্পাস জীবনের আনন্দময় অংশটুকু এসব ক্যান্টিন আর টং দোকানগুলোকে ঘিরেই। এসব দোকানে এক প্লেট থেকে সিঙ্গারা ভাগাভাগি করে খেতে খেতেই আজীবনের বন্ধুত্বগুলো তৈরি হয়। আর ‘টানাটানির’ ছাত্রজীবনে সস্তায় মনের মতো খেতে পারার আনন্দও তো কম নয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।