৫৫’র ঢাকা স্টেডিয়াম ও এক অলৌকিক ঘটনা

বহুদিন পূর্বের একটি অলৌকিক ঘটনা। সময়টা ১৯৫৫ সনের ইংরেজি নববর্ষ। সেই সময়ে এই মাঠটিকে বলা হত ঢাকা স্টেডিয়াম। নতুন একটি রাষ্ট্রের জন্ম হতে তখনও আরও ১৬ বছর বাকি।

বাংলাদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে বাকি আরও ৩৩ বছর। সে সময় অবশ্য এটি পরিচিত হবে জাতীয় স্টেডিয়াম নামে। এবং সেখানেই ১৯৮৮ সনে পাকিস্তান শ্রীলংকার কাছে ৫ উইকেটে পরাজিত হবে এশিয়া কাপে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম নামকরণের পর এই রঙ্গভূমি সাক্ষী হবে ১৯৯৮ সনে কোকা কোলা সিলভার জুবলি স্বাধীনতা কাপে অনুষ্ঠিত টেস্ট পূর্ববর্তী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের। সেখানে জাভাগাল শ্রীনাথের ভয়ংকর স্পেলে স্বাগতিক দের ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে পড়ার পর মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন এবং শচীন টেন্ডুলকার অভিজ্ঞ ভারতীয় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিবেন।

১৯৯৯ সালের মার্চে এই মাঠেই বাংলাদেশের মাটিতে সর্বপ্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সে ম্যাচে ইনজামাম-উল-জল এর দ্বিশতকের উপর ভর করে উদ্বোধনী এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে ইনিংস ও ১৭৫ রানের ব্যবধানে পরাজিত করবে।

সেই ১৯৫৫ সালের নববর্ষের ৪৫ বছর পর এই মাঠেই বাংলাদেশ দল খেলবে তাদের সর্বপ্রথম টেস্ট ম্যাচ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সদ্য প্রবেশ করা বাংলাদেশ দল ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে গুড়িয়ে যাওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে নিজেদের ধরে রাখার চেষ্টা করবে।

হ্যা, টেস্টে বাংলাদেশের প্রবেশের পূর্বেই বাংলাদেশে টেস্ট ক্রিকেটের আগমন ঘটেছিল।

বদলে যাওয়া ঢাকা স্টেডিয়াম, এখনকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম

এবং সবকিছুর শুরুই সেই ১৯৫৫ সনের নববর্ষে, যা একটি অলৌকিক ঘটনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না!

এর কিছুদিন আগেও সেই জায়গায় কোন স্টেডিয়াম ছিল না। ছিল কেবল অস্থায়ী গ্যালারীসহ একটি মাঠ ছিল যেখানে সময়ে অসময়ে দুই-একটি খেলা হত।

স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হয় কেবল ১৯৫৪ সনের অক্টোবর মাসে। প্রায় ৩.৫ মিলিয়ন রুপি খরচ করা হয় এই কাজে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০০০ শ্রমিক দিন রাত কাজ করেন।

পাকিস্তান তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে ১৯৫২-৫৩ সালের শীতে। দিল্লীর সেই ম্যাচে ভারতের কাছে হারার পর ফজল মাহমুদের ব্যতিক্রমী ফাস্ট বোলিং এর জোরে তারা লখনৌতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সিরিজে ফেরে। এরপর বিজয় হাজারে, পলি উমরিগার এবং ভিনু মানকাদ সম্মিলিত ভাবে বোম্বে টেস্টে বজয় নিশ্চিত করে সিরিজ নির্ধারণ করেন।

এবার পালা ছিল পাকিস্তানের তাদের প্রতিবেশীদের আতিথেয়তা দেওয়ার।

ভারতীয় উপমহদেশের কুখ্যাত বিভাজনের মধ্য দিয়ে জাতিগুলি বিভক্ত হওয়ার খুব বেশিদিন হয় নি। সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছিল। সেখানে দাঙ্গা, মৃত্যু, কুফরী ছিল, তবু  মানুষ একত্রিত হয়েছিল। এবং ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়ও একই প্রতিচ্ছবি ছিল।

খেলার মধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়ে আবেগ ছিল খুব বেশী। এটা শুধু ক্রিকেট নয় ভরপুর প্রতিযোগিতার পরও ম্যাচটি দারুণভাবে আবেগের দিক থেকে কষ্টদায়ক ছিল। কোন পক্ষই হারতে চায় নি। উভয় পক্ষ এবং তাদের সমর্থকরা জয়ের চেয়েও বেশি কিছু চাইছিলেন। বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্ডার অতিক্রম করে মানুষ খেলা দেখতে এসেছিলেন, এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষ নিজেদের অতীত জন্মভূমির মাটিতে চোখের জল ফেলার সুযোগ গ্রহণ করেন।

ষাটের দশকের ঢাকা স্টেডিয়ামে চলমান এক টেস্ট ম্যাচ

একই সময়ে, পাকিস্তানে ফাস্ট বোলিংয়ের মাধ্যমে টেস্ট খেলোয়াড়ের উন্নতির জন্য ভারতের কঠিন সমর্থন ছিল। ভারতীর বোর্ডই ইম্পেরিয়াল টেস্ট ক্রিকেট ফোল্ডে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তির জন্যে আইসিসিকে চাপ দেয়। ভারতীয় বোর্ড আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় যখন এমসিসি পাকিস্তানকে একটি আনুষ্ঠানিক ক্রিকেটীয় দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছিল তখন বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীরা নিশ্চিত করেছিল যে, ভারত সফরকারী দল পাকিস্তান সফরে অলিখিত ম্যাচ খেলেছে। ১৯৫২ সালে ক্রিকেট ইতিহাসে সপ্তম টেস্ট খেলার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই প্রস্তাবটি বারবার জমা দেওয়া হয়।

এই দিনগুলো ছিল ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার বরফ শীতল সম্পর্কের আগে। পাকিস্তান, ভৌগোলিকভাবে আদর্শগতভাবে ক্ষমতাধরদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামরিক শাসনের অতিরিক্ত ‘যোগ্য’ বৈশিষ্ট্য সঙ্গে যুক্ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি সহায়তাকারী সহযোগী হয়ে ওঠে। সীমান্তের অন্য দিকে, ভারত ছিল সোভিয়েত-পন্থী। এই সম্পর্ক যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে দুই দেশের মধ্যে তা দাঙ্গা ও বিভাজনের ইতিহাস থেকে কম হবেনা।

কিন্তু, এটা ছিল ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমের সেই তুষারপাতের আগে।

১৯৫২-৫৩ মৌসুমে ভারত সফর শেষে ফজল মাহমুদকে পাকিস্তানের অন্যতম সেরা জয় এনে দিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন ওভালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টের সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়েছিল, এবং আবদুল হাফিজ কর্দারের দল ঝড় তোলার মাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্বকে জয় করে নিয়েছিলেন।

তারপর ক্রিকেটের ভ্রাতৃত্বের প্রধান শক্তি হিসেবে তাদের ভারতকে আতিথেয়তা দিতে হত। সেজন্য পাঁচটি টেস্টের পরিকল্পনা ছিল। এবং এই ধরনের মাত্রার একটি সিরিজ আয়োজন করার জন্যে যথেষ্ট স্থান ছিল না। তাই পাকিস্তান সরকার ও বেসরকারী নাগরিকদের কাছ থেকে রেডিও পাকিস্তানে সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলেন।

সেই উদ্যম পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তানের উভয়ের মধ্যেই বিরাজমান ছিল। বর্তমান বাংলাদেশের মাটিতে অবস্থিত চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামটি এক বছরের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল। ভারতীয়রা সেখানে গিয়ে একটা তিনদিনের ম্যাচও খেলে আসে।

দত্ত ফাদকার এবং সুভাষ গুপ্তের প্রথম ইনিংসে ৯৮ রানের পার্টনারশিপ এবং পরবর্তীতে গুপ্ত ৩৭ রানে ৬ উইকেট নিলে পাকিস্তানীরা দ্বিতীয়ার্ধে ৮৭ রানে আত্মসমর্পণ করে। এক ইনিংসে জয়ী হয় ভারতীয়রা।

এর মধ্যেই ঢাকা স্টেডিয়ামটির কাজ চলছিল। সারা দিন সারা রাত কাজ করেন ২০০০ শ্রমিক। প্রতিদিন সকালে কয়েকটি নতুন বসার সারি দেখা যায়। সবশেষে, পাকিস্তানের প্রথম টেস্টটি সেখানে খেলা হয়।

হ্যাঁ, এই ‘ঢাকা স্টেডিয়াম’, ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়াম’ এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত এই স্টেডিয়ামই দুটি জাতির প্রথম টেস্ট আয়েজন করা একমাত্র স্টেডিয়াম।

সেখানে আরও অন্যান্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছিল যা সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এএফএস ‘ববি’ তালেখারন, কিংবদন্তি ভারতীয় সাংবাদিক, এবং ভাষ্যকারকে প্রতিবেশী দেশ থেকে রেডিও পাকিস্তানে ম্যাচটি সম্প্রচারের জন্য পাঠানো হয়েছিল। লেনদেন এবং চা বিরতির সময় বিরতি ব্যতীত টলেখার অক্লান্ত ভাবে পুরোদিনের ম্যাচ কভার করায় তাকে ‘লৌহ ফুসফুস’ বা ‘ম্যারাথন ম্যান’ নামে আব্যাহত করা হয়েছিল। তিনি  টুর্নামেন্টের ধারাভাষ্য শোনা শ্রোতাদের জন্য অপরিহার্য করে ফেলেন। এবং সেই সময়ে, পাকিস্তান সম্প্রচারের শুরুর দিনগুলোতে রেডিও পাকিস্তান একই মানের ছিল না। ওমর কুরিশির দিনগুলি এসেছিল পরে।

সেই নির্দিষ্ট দিন যখন এল পুরো স্টেডিয়ামের কাজ তখনও শেষ হয়নি। এই মাঠে খেলা শুরু করা একটি অসম্ভব কাজ ছিল।

তবে, যখন ভারতীয় অধিনায়ক ভিনু মানকাদ কর্দারের সঙ্গে টস করতে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে ২৫ হাজার মানুষের জন্যে ব্যবস্থা করা আসনের সমস্ত আসন গ্রহণ করা হয়ে গিয়েছিল।

কারদার টসটি জিতেছিলেন। যখন মানকাদ তার দল নিয়ে ফিল্ডিংয়ে নামছিলেন, দর্শকদের সাধুবাদ ছিল অতুলনীয়। যাইহোক, তারপর থেকে অবশ্য সম্পূর্ণ গ্যালারী ছিল নিঃশব্দ।

উত্তেজনাহীন ড্র এবং নাটক

ইতোমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রিকেটারদের জন্য ঝুঁকিতে ছিল একটা ক্রিকেট ম্যাচের চেয়েও বেশি কিছু। তারা সচেতন ছিল, ক্রিকেটের চেয়েও জীবন নিয়ে বেশি শংকিত ছিল তারা। রান তোলার গতি ছিল খুবই ধীর। টেস্টটি ছিল সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোর মত, চার দিনের জন্য পূর্বনির্ধারিত ছিল, তাই এই নিস্তেজতা এড়ানোও প্রায় অসম্ভব ছিল।

১৯৫৫ সালের ঢাকা স্টেডিয়াম

প্রথম দিনেই পাকিস্তান ১০০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০৭ রান করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় দিন সকালে হালকা উন্নতি দেখা দেয়, এবং দুপুরের পর ১৩৬.২ ওভারে ২৫২ করে তাদের ইনিংস শেষ হয়।

ভারতীয়রা ফজলকে চরম সতর্কতার সাথে খেলে। ২৫-১৯-১৮-০ এর ইনিংস বিশ্লেষণে শেষ হয় এই ফাস্ট বোলারের স্পেল। তবে, অন্য দুই পেস বোলার, মাহমুদ হুসেন ও খান মোহাম্মদ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের অস্বস্তিতে ফেলেন।

দ্বিতীয় দিনের শেষে, ৫ উইকেটে ১১৫ রানে আটকে থাকে সফরকারী দল এবং এর ফলে ম্যাচের নির্দিষ্ট ফলাফল দেখার সম্ভাবনা ফিরে আসে।

তৃতীয় দিন সকালেই মাহমুদ হোসেন (৬/৬৭) এবং খান মোহাম্মদ (৪/৪২) ১৪৮ রানেই ভারতকে গুটিয়ে দিলে পাকিস্তান ১০৯ রানের বিশাল লিড পায় এবং একটি সম্ভাব্য জয়ী অবস্থানে চলে যায়।

তবে ভারতের বোলিং করা ৭৩ ওভারে পাকিস্তান কেবল খুড়িয়ে খুড়িয়ে ১ উইকেটে ৯৭ করে, যেখানে আলমুদ্দিন ও ওয়াকার হাসান দুটি সেশন পার করেন।

শেষদিন সকালে, গুপ্তের স্পিন আনা হয় আশ্চর্যজনক ভাবে ইনিংসের দেরীতে। তিনি ছয় ওভার বোলিং করে ১৯ রানে ৫ উইকেট দখল করেন। পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ১৫৮ রানে। ভারতকে জিততে রান প্রয়োজন ছিল ২৬৮, তবে খেলাটিতে প্রচুর সময় বাকি ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ৮২ ওভার ব্যাটিং করে।

কিন্তু, এই সময় এই খেলা থেকে উত্তেজনা চলে যাওয়ার পালা ছিল। বিশেষ করে যখন খান মোহাম্মদ দুটো উইকেট তুলে নিলে ভারতের স্কোর হয় ২ উইকেট ১৭ রান। এরপর খেলা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত পঙ্কজ রায় ও বিজয় মাঞ্জেরেকার দুই উইকেটে ১৪৭ রান করতে সক্ষম হন।

চারদিনের ক্রিকেটে দর্শক রা দেখেছে ৭১০ রান। টেস্ট ক্রিকেটের সেই স্বর্ণালী পুরোনো দিনগুলো!

যাইহোক, মাঠের বাইরে নাটকের কোন অভাব ছিল না। চলমান টেস্টের সময় কারদারের বক্তব্য ব্যাপক উত্তেজনার জন্ম দেয়।

ভারতীয় বা পাকিস্তানী কোন সংবাদ মাধ্যমেই করদারের কোন উক্তি বা তার সংশোধন নিয়ে কোন প্রতিবেদন ছিল না। দুই দেশের মধ্যে উদ্বেগপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং চলমান টেস্ট সিরিজের কারণে কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক ভাবেই সাংবাদিকদের উপর বিধি-নিষেধ জারি করে।

তবে এক দশকেরও বেশি সময় পরে যখন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন এবং বারো বছরের বেশি সময় ধরে ক্রিকেট ও বন্ধ তখন ভারতীয় ধারাভাষ্যকার এবং সাংবাদিক বেতি সর্বাধিকারী সেই সন্ধ্যার ঘটনা খোলাসা করেন।

স্পোর্টস উইকের তার প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘যখন কারদার প্রায় একটি টেস্ট সিরিজ নষ্ট করে ফেলেন’। তার মতে ১৯৫২ সালে ফ্রেড ট্রুম্যানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্ষমতাচ্যুতির সঙ্গে কারদার ব্রিটিশ ইংল্যান্ডের সাথে পাকিস্তানের বিজয়কে তুলনা করেন।

ক্রিকেটের বাকি অংশ

যাইহোক ১৯৫৪-৫৫ সালের প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা যাক। এই সিরিজ সর্বপ্রথম পাঁচটেস্ট ম্যাচ সিরিজ হিসেবে রেকর্ড করে যা ০-০ ব্যবধানে শেষ হয়। বাকি টেস্টগুলো সমানভাবে নিরস এবং উত্তেজনাহীন ছিল। ভারত ও পাকিস্তান কোন দলই ক্ষুদ্রতম ঝুঁকির জন্য প্রস্তুত ছিল না।

ঢাকায নবনির্মিত বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার আগে, ঢাকা স্টেডিয়ামে সাতটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।

এখানে যা স্মরণীয় মুহূর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হল, বিশেষত ৫০ দশকের।

পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের শেষ দিকে পাকিস্তান নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ফজল মাহমুদ ও খান মোহাম্মাদের নিউজিল্যান্ড কে ৭০ রানে গুড়িয়ে দেয়ার পূর্বে টানা তিনিদিনের বৃষ্টিপাত উভয় দলকেই উদ্বিগ্ন করে তোলে। হানিফ মোহাম্মদের সেঞ্চুরিতে ১২৫ লিড নিয়ে পাকিস্তান ইনিংস ডিক্লেয়ার করে। শেষদিনে নিউজিল্যান্ড ৯০ ওভার খেলেও ৬উইকেটে ৬৯ রান করে টিকে থাকতে সক্ষম হয়।

১৯৫৯ সালের শুরুতে স্বাগতিকেরা ওয়েস হলের অসাধারণ বোলিংয়ের মুখে ২২ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয় তবে পরবর্তীতে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ১৪৫ রান তোলে। তবে পরবর্তীতে ফজল মাহমুদের অসাধারণ বোলিং এবং কিছু বাজে আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তের ফলে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ পর্যন্ত ৪১ রানে পরাজিত হয়।

পরবর্তীতে সেই বছরের শেষের দিকে, হানিফ মোহাম্মাদ এবং নিল হার্ভি নিজ নিজ জায়গা থেকে অসাধারণ বোলিং করে যান এবং প্রথম ইনিংসে সমানভাবে কৃতিত্ব ভাগ করে নেন। কিন্তু তারপরই কেন ম্যাকেই আসেন এবং মিডিয়াম পেস ছেড়ে সঠিক লেংথে নির্ভুল অফ ব্রেক বোলিং করে ৪২ রানে ৬উইকেট তুলে নিয়ে ৮উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেন।

এরপর এই মাঠে ষাটের দশকে তিনটি ড্র হয়।

এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮-৯৯ সনের এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল এখানেই অনুষ্ঠিত হয়। এই মাঠে, বাংলাদেশের মাটিতেও অনুষ্ঠিত এটি নবম টেস্ট ম্যাচ ছিল যে ম্যাচে প্রথমবারের মত টেস্ট খেলতে নামে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মত টস করতে নামেন দুই বাঙালি অধিনায়ক।

– ক্রিকেটসকার অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।