ড্রেসিংরুমে আরাম মানেই মাঠে চরম

‘আমি বলব না আগে, আমরা স্বাধীন ভাবে খেলতে পারতাম না। তবে এখন আমরা স্বাধীন ভাবে খেলার পাশাপাশি সিদ্ধান্তও নিতে পারি। তাই আমাদের মনে হয়, দলের ভেতর সবাই সম্পৃক্ত থাকার জন্য আমাদের কাছে এটা একটা সুবিধা। সুজন ভাই আছে, রিচার্ড আছে দুইজনই জানে আমাদের কী দরকার। দুইজনই এগুলোর জোগান দিতে পারছে। আমরাও মাঠে সেসব কাজে লাগাতে পারছি।’

– চান্দিকা হাতুরুসিংহে পরবর্তী যুগে দলের বদল নিয়ে সাকিব আল হাসান।

ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের আগে-মাঝে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার প্রতিটির প্রায় প্রেস কনফারেন্সে হাতুরুসিংহে প্রসঙ্গ ছিল অবধারিত। সেটি খুব অস্বাভাবিকও নয়। হাতুরুসিংহে এখনও বাংলাদেশের ‘সদ্য সাবেক’ কোচ। এই দলটার নাড়ী-নক্ষত্র তার জানা। তার নতুন দলের প্রথম মিশন এই দেশেই। প্রথম ম্যাচের আগে প্রসঙ্গ বারবার আসবেই।

যেটা বলতে চাচ্ছি, হাথুরুসিংহের প্রসঙ্গ বা প্রশ্নে সবচেয়ে পেশাদার ছিলেন সাকিব। বাংলাদেশ থেকে তার চলে যাওয়ায় ড্রেসিং রুমে স্বস্তির হাওয়া বা প্রতিপক্ষ শিবিরে তিনি থাকায় সেটির প্রভাব, কোনোটিকেই খুব বড় করে দেখা বা পাত্তা দিতে চাননি।

তবে আজকে হাতুরুসিংহের দলকে প্রথম দেখায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মনের দুয়ার একটু খুলেছেন সাকিব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটিও বলে দিয়েছেন খুব দারুণ ভাষায়, দারুণ ভাবে।

ব্যাপারটা এরকম ছিল, ঘুড়ি উড়িয়ে বলে দেওয়া হয়ছে স্বাধীনভাবে উড়তে থাকো। কিন্তু নাটাই এমন ভাবে হাতে রাখা হয়েছে যে মাঝেমধ্যেই হেঁচকা টান দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া হতো, এই স্বাধীনতা আসলে পরাধীনতার সুতোয় বাধা। ঘুড়ির নাটাই এখনও নিশ্চয়ই কারও কারও হাতে আছে। তবে হেঁচকা টান দেওয়ার লোক হয়ত ‘আপাতত’ নেই। সুতো যত লম্বা, ততটা ওড়ার স্বাধীনতা আছে। গুটানোর প্রয়োজন হলেও হয়ত যত্ন করেই হবে।

‘সিদ্ধান্ত নিতে পারি’ – সাকিবের এই কথাটিতে আবার অনেকে ভুল বুঝতে পারে। ক্রিকেটাররা অবশ্যই সব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সব ক্রিকেটার তো নয়ই। তবে সাকিব বোঝাতে চেয়েছেন লিডারশিপ গ্রুপকে। মাঠের ভেতরে খেলাটা পরিচালনায়, নির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা যাদের। অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক। সিনিয়র আরও ২-৩ জন। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারছেন। মাশরাফি-সাকিবকে ‘কোচ’ ঘোষণা দিয়ে দায়িত্বের যে পরিধি বোঝাতে চেয়েছিলেন বিসিবি প্রধান, সেই দায়িত্ব তারা পালন করতে পারছেন। লিডারশিপ গ্রুপ হাতুরুসিংহের সময়ও ছিল। তবে সেটি ছিল আসলে এক সদস্য বিশিষ্ট গ্রুপ!

হাথুরুসিংহের সাফল্য-ব্যর্থার খতিয়ান বা কোচ হিসেবে সামর্থ্য-শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে গবেষণা করছি না। এই টুর্নামেন্টেই শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। বা আমরা ফাইনালে হারতে পারি। বা হাতুরুসিংহের কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কা নতুন শিখর ছুঁতে পারে। আমরা সামনে খারাপ করতে পারি। সেটা অন্য ব্যাপার। ক্রিকেটে সেসব হয়ই।

তবে, আমরা যারা পেশার সৌজন্যে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাই, আমরা বারবারই বলছিলাম, হাতুরুসিংহের বাংলাদেশ দলে ড্রেসিং রুমের হাওয়া ঠিক স্বস্তিদায়ক নয়। সেখানে সংশয়, দ্বিধা, অস্বস্তি, ক্ষোভ, অসহায়ত্বের আনাগোণা। যেটি কোনো দলের জন্যই আদর্শ নয়। অনেকেই সেসব বিশ্বাস করতে চাননি। কিন্তু এভাবেই আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসবে। ক্রিকেটাররা অবশ্যই কখনও সরাসরি বলবেন না। বলতে পারেন না। তবে এভাবেই কারও কারও কথায় কখনও কখনও টুকটাক ফুটে উঠবে।

কোন দল কোন পথে এগোবে, সেটা সময়ই ঠিক করে দেবে। তবে ড্রেসিং রুমের হাওয়ায় যখন আরাম লাগে, মাঠে খেলাটাও তখন ‘চরম’ হয়। ড্রেসিং রুমের পরিবেশ যত উপভোগ্য থাকে, মাঠে প্রতিপক্ষের ওপর দুর্ভোগও ততটা নেমে আসে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।