টয়লেটের বিড়ম্বনা || ছোটগল্প

ব্যাচেলর বাসায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গার ছেলেরা থাকতে আসে৷ কয়েক মাস আগে চিটাগাং থেকে তিনটা ছেলে আমার ভাড়া ফ্ল্যাটে একটা রুম নিয়েছিলো। তারা খুব সম্ভবত চিটাগাং -এর শহর দূরবর্তী কোন গ্রামে থাকে।

ঢাকায় এসেছিলো ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন টেস্ট দেওয়ার জন্য। ফার্মগেটে একটা কোচিং সেন্টারে ক্লাস করতো।

ছেলে তিনটা বাসা নেওয়ার পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যেয়ে দেখি, হাই কমোডের উপর পায়ের ছাপ। আমাদের ফ্ল্যাটে দুইটা টয়লেটের দুটাই হাই কমোড। কোন লো কমোড সিস্টেম নাই। হাই কমোডের উপর পায়ের ছাপ দেখে আমি কিছুটা চিন্তিত হয়ে ভাবলাম, কেমনে সম্ভব? মানে, হাই কমোডের উপর লো কমোড সিস্টেমে বসে প্রাকৃতিক কাজ-কর্ম সম্পন্ন করা একটা ঝুকিপূর্ণ কাজ। যে কোন সময় যে কোন ধরনের এক্সিডেন্ট হতে পারে।

পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার যখন টয়লেটে গেলাম, এবার আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। টয়লেটের দরজার সামনেই কেউ একজন ত্যাগেই প্রকৃত সুখ তত্ব এক্সপেরিমেন্ট করেছে। এমনকি কর্ম সম্পাদনের পর পানি খরচ করেছে কিনা, সেটাও বুঝার কোন উপায় নেই।

টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষন চিৎকার চেচামেচি করে অফিসে যেয়ে ফ্রেশ হইলাম। কেউ কোন টু-শব্দটাও করলো না।

সন্ধ্যায় বাসায় এসে নতুন ছেলে তিনটাকে ডেকে এনে বললাম- ভাইয়া, এই বাসাতে কি তোমাদের কোন সমস্যা হচ্ছে?

তারা তিনজনই একসাথে বললো – না তো ভাইয়া।

আমি আবার বললাম – টয়লেট ইউজ করতে কোন প্রবলেম হচ্ছে?

তারা তিন জনই কাচুমাচু করতে করতে বললো – একটু সমস্যা হচ্ছে।

এরপর তাদের তিনজনকে একই সাথে টয়লেটে নিয়ে গিয়ে বললাম – এটা হলো কমোড। এটার উপর চেয়ারে বসার মতো বসে তারপর টয়লেট করতে হয়।

এই কথা শুনেই একজন ফিঁক করে হাসি দিয়ে বললো – কি কন ভাই এগুলা? কেমনে সম্ভব?

কেম্নে সম্ভব তা তাদেরকে ডেমো দেখাতে না পারলেও, বলে বুঝিয়ে দিলাম যে ওটার উপর প্যান্ট খুলে বসে নিচের দিকে প্রেশার দিলেই হবে।

তারা আমার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো কিন্তু মুখে হাসিও দিল। মানে, বুঝতে দিলো না যে তারা আমার এই টয়লেট ক্লাস করতে বিরক্ত।

তাদের মধ্যে একজন বললো – ভাইয়া, সবই ঠিক আছে, তবে বদনা নাই কেন?

আমি বললাম – এই যে, এইটা হ্যান্ড শাওয়ার! এটা চাপ দিয়ে পশ্চাদদেশে ধরলেই জল বেরুবে।

আরেকজন বললো – মানে, এত ঝামেলা কেন এই টয়লেটে?

আমি বললাম – প্রাকটিসে ব্যপারটা সহজ হয়ে যাবে।

পরেরদিন সন্ধ্যায় অফিস শেষে বাসায় এসে ফ্রেশ হওয়ার জন্য বাথরুমে যেয়ে দেখি, কমোড পুরাই ফুল। আমার মনে পরলো, সবই তো বলছি কিন্তু টয়লেট কার্য সম্পাদনের পর ফ্ল্যাশ করার কথা তো বলিনি। টয়লেটের কমোডে ভেতর টমেটুর খোশার মতো পরে আছে। খুব সম্ভবত ঠিক মতো হজম না হওয়া টমেটোর স্মৃতিচিহ্ন রয়ে গেছে কমোডে।

আমি ওয়াশরুম থেকে এক দৌড়ে বের হয়ে ওদের রুমে যেয়ে বললাম – ভাইয়ারা, কেমন আছো?

সবাই একসাথে বাধ্যগত ছাত্রের মতো বললো – জ্বী ভালো আছি, ভাইয়া!

আমি আবার বললাম – পড়াশুনা কেমন চলছে?

তারা জবাব দিল – ভালো, ভাইয়া!

তারপর বললাম – তোমাদের মধ্যে শেষে কে ওয়াশরুমে গিয়েছো?

কেউই কোন উত্তর দিল না। নির্বাক তিনটা মুখ দেখে কিছুতেই অনুমান করতে পারছিলাম না, কে এই মহান পুরুষ!

কোন উত্তর না পেয়ে আমি আবার প্রশ্ন করলাম – দুপুরে খেয়েছো তোমরা?

সবাই একসাথে জবাব দিল – জ্বী ভাইয়া!

আমি প্রশ্ন করলাম – আজকে টমেটোর তরকারি দিয়ে কে ভাত খেয়েছো?

একজন হাসি হাসি মুখ নিয়ে বললো – আমি ভাইয়া! ফুলকপি, টমেটো দিয়ে কৈ মাছের ঝোল! উফফ, কি যে জোস ছিল!

এবার আমি হাসতে হাসতে বললাম – তাহলে টয়লেটে যেয়ে একটু কমোডের ফ্ল্যাশটা চাপ দিয়ে আসো!

সে ভ্যাব্যাচ্যাকা খেয়ে বললো – কেন ভাইয়া?

আমি মুখ গম্ভীর করে জবাব দিলাম – তোমার টমেটো বোধহয় ঠিক মতো হজম হয়নি!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।