ট্রাফিক পুলিশ আমিনুল || ছোটগল্প

এই মুহুর্তে বড় রাস্তাটায় জ্যাম আছে। পায়ে ছোট পিপড়া কামড় বসিয়ে পালিয়েছে। পায়ের খানিকটা জায়গা ফোলে গেছে। চিনচিন ব্যাথা লাগছে। বাংলাদেশের রাস্তায় জ্যাম পরিচিত শব্দ।

এমনও দিন গেছে ময়মনসিংহ টু ঢাকা মহা সড়কে সারাদিন চলেগেছে। ট্রাফিক পুলিশের সাথে সাথে নেমে পড়লাম জ্যাম ছুটানোর কাজে। ট্রাফিক পুলিশের নাম আমিনুল। ঘুষ দিয়ে এসেছে চাকুরিতে, বয়সে বছর দুই বড় হবে।

যানবাহনের শব্দটা ভাল লাগেনা আমিনুলের। তবুও যানবাহনের দিকে তাকিয়ে হাত ইশারা করে, সতর্ক করে দেয় গতিতে চলা গাড়িকে। নিরাপদ রাখে  প্রত্যেকটা পথচারী কে।অথচ আমিনুলের শরীর বেয়ে ঘাম ঝড়ে, রোদঝড়ে, বৃষ্টি নামে তবুও বসে থাকেনা আমিনুলের মত শত শত ট্রাফিক পুলিশ।

আমিনুলকে প্রশ্ন করেছিলাম, জীবন সুন্দর না? তিনি হতাশ করেননি। জীবনকে সুন্দর বলেছেন। তিনি পরিশ্রম করেন। যেমনটা করে গোটা ট্রাফিকপুলিশ ইউনিট। বেকার জীবনে আমিনুল ছিল বিষণ্ণ। ঘুষ দিয়ে চাকুরিটা পেলেও এটা গোটা একটা পরিবারের কাছে রীতিমত সোনার হরিণ।

ঘুষ যোগাতে বিক্রি করেছেন বাবার রেখে যাওয়া জমি। জীবিকার তাগিদ যেন মেলে ধরেছে। যানবাহনের শব্দে, কান জ্বালা করে। ব্যাথায় অস্তির হয়ে যায় মাথা। এমনও ঝড়ের দিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক কাকতাড়ুয়ার মত। কখনো বা ছুটি মেলে না।

কোলাহলময়, ধুলাময় রাস্তায় কিংবা বৃষ্টিতে আমিনুল রা পথচারী দের নিরাপদ রাখার দায়িত্বে। তাহলে আমিনুলদের নিরাপদ রাখার দায়িত্ব কে নেয়? কেন পরে থাকল আমিনুলের প্রাণহীন নিথর দেহ?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।