টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে আজব দিন

টেস্টকে মূলত ধৈর্য্যের খেলা বলা হয়ে থাকে। তাই তো টেস্টে প্রতিটি বল যেন অতি সুক্ষভাবে মেপে ব্যাট চালান ব্যাটসম্যানরা। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এই টেস্ট ফরম্যাটেই একদিনের ব্যবধানে ২০ টি উইকেট পতনেরও ঘটনা রয়েছে!

না ভুল পড়ছেন না।

১৯৫০ সালের ৪ ডিসেম্বর, এক দিনেই ২০ টি উইকেট পতনের ঘটনা ঘটেছে অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজে। তবে চলুন শুনে আসি অবিশ্বাস্য সেই টেস্ট ম্যাচটির কথা।

সেবার অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক হিসেবে দলে ছিলেন ভ্যান হ্যাসেট। ধারণা করা হয় অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক হ্যাসেটের অন্যতম সৌভাগ্য ছিল সেদিনের টস জয়টি। তবে বলে রাখা ভালো টস জয়ের দিক দিয়ে ওসি এই অধিনায়ক ১০টি টেস্ট ম্যাচের ৯ টি টেস্টেই টস জিতেছিলেন।

টস জিতে ব্যাটিং এর স্বিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক। ম্যাচের প্রথম দিনে উইকেট নিয়ে অতোটা বিপদে পড়তে হয়নি অজিদের। তবে ২২৮ রানেই গুটিয়ে যায় ওসিদের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ টি চারের মারে ব্যাটসম্যান নেইল হারভে ৭৪ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন।

টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই যতো বিপত্তি। সেদিন সকালটা ছিল বৃষ্টিঘণ একটি সকাল। নির্ধারিত সময়ের বেশ খানিক্ষন পর শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় দিনের খেলা। অস্ট্রেলিয়াদের ১ম ইনিংসের ২২৮ টপকে লিড নিতে ব্যাট করতে নামেন ইংলিশরা। কিন্তু ক্রিজের অদ্ভুত আচরণে ইংলিশদের কাছে যেন ওসিদের প্রথম ইনিংসের ২২৮ পাহাড় সমান মনে হচ্ছিল।

তবে লাঞ্চের আগ পর্যন্ত সামলেই নিয়েছিল ইংলিশরা। কিন্তু লাঞ্চের পূর্বে বিনা উইকেটে ২৮ রান রেখে গেলেও লাঞ্চের পর পথ হারিয়েছিল সবাই। লাঞ্চ বিরতির পর খেলা শুরু হবার দ্বিতীয় বলেই প্রথম উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। ওসি বোলার জনস্টনের ভয়াবহ বোলিং এ (৩৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট) ৬৭ রানে ৭ উইকেট হারায় ইংলিশরা। এই পিচে ব্যাটিং একেবারেই অসম্ভব বুঝতে পেরে ইংলিশ অধিনায়ক ব্রাউনি মাত্র ‘৬৭/৭’ স্কোর নিয়েই ইনিংস ঘোষনা করেন।

১৬০ রানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড একই দিনেই ব্যাট করতে পাঠায় অজিদের। ব্যাট করতে নেমে যেন ইংলিশদের তুলনায় ঢের বেশি বিপত্তিতে পড়ে ওসিরা। শুণ্য রানের মাথায় তিন তিনটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রান লিড পাওয়ায় এক প্রকার বেঁচে যায় দলটি।

ইংলিশ বোলার বেইলি এবং বেডস্যারের বোলিং তোপে মাত্র ১৮.১ ওভারে ৩২ রানে ৭ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। সবাইকে অবাক করে দিয়ে অধিনায়ক সেখানেই তাদের ইনিংসে ইতি টেনে ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং এর আমন্ত্রন জানায়। প্রথম ইনিংসের ১৬০ সহ তাই ইংল্যান্ডদের সামনে ছিল তখন ১৯৩ রানের টার্গেট, হাতে তখনো ছিল দু দুটি দিন।

আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটি খুব সহজ মনে হলেও সেদিনের সেই ক্রিজে ব্যাটিং করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তাই তো সেই একই দিনে মাত্র কিছু সময়ের ব্যবধানে ১২২ রানেই অল আউট হয়ে ৭১ রানের পরাজয় মেনে নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ইংল্যান্ড। ইংলিশদের হয়ে সেই ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬২ করেছিলেন ল্যান হাটন।

ইংল্যান্ডের এ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সেবার এক দিনে ২০ উইকেটের দেখা মেলেছিল টেস্ট ক্রিকেটে। রান উঠেছিল মোটে ১৩০। সেই দিনটি আজো ইতিহাসের অংশ হয়ে রয়েছে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।