টুথব্রাশের বিবর্তন: ৫০০০ বছরের অজানা ইতিহাস

আচ্ছা টুথব্রাশ ছাড়া আমরা কী একদিনও চলতে পারি? বলে না দিলেও চলে যে, এটা খুবই নিত্যদিনে কাজে লাগে এমন পণ্যের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, এর ইতিহাসে আমরা কতটুকুই বা জানি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

এখন আমরা যে কাঠামোর টুথব্রাশ ব্যবহার করি সেটার উদ্ভাবন চীনে, ১৪৯৮ সালে। তখন বাশ কিংবা হাড়ের আগায় শূকরের ঘাড়ের ঘন পশম শক্ত করে বেঁধে বানানো হত টুথব্রাশ।

যদিও টুথব্রাশের আদি সংস্করণের ব্যবহার ছিল খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগে থেকেই। আদি যুগের মানুষরা ‘চিউ স্টিক’ বা ‘চিবোনোর লাঠি’ নামের যে জিনিসটা ব্যবহার করতো তাই পরবর্তীতে অনেক পরিবর্ধনের ফলে টুথব্রাশে রূপ নেয়।

জনগনের স্বার্থে বানিজ্যিক ভাবে টুথব্রাশের ‘প্রোডাকশন’ প্রথম শুরু করেন উইলিয়াম অ্যাডিস। ইংল্যান্ডের ক্লার্কওয়ার্ডে সেটা শুরু হয় ১৭৮০ সালের দিকে। যদিও, প্রথম আমেরিকান হিসেবে টুথব্রাশ আবিষ্কারের পেটেন্ট ১৮৫৭ সালে পান এইচ.এন. ওয়ার্ডসওর্থ। আর আমেরিকয়া এটা জনগনের ব্যবহারের জন্য বাজারজাত করা হয় ১৮৮৫ সালে।

আধুনিক ট্রুথব্রাশের জন্ম হয় উনবিংশ শতাব্দীতে এসে। ১৯৩৮ সালে প্রথম টুথব্রাশে পশমের বিকল্প হিসেবে নাইলনের ব্যবহার শুরু হয়। সেট ছিল ডিউপন্ট ডি নেমোর্সের আবিষ্কার। নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডক্টর ওয়েস্ট’স মিরাকল টুথব্রাশ’। স্বাস্থগত দিক থেকে এই টুথব্রাশ ছিল ঝুঁকিমুক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে সেনাবাহিনীর মধ্যে এই টুথব্রাশ ব্যবহারের বিধি জারি করা হয়। আমেরিকান বাজারে বৈদ্যতিক টুথব্রাশ আসে এই ষাটের দশকে। ১৯৬০ সালে ‘ব্রোক্সোডেন্ট’ নামের টুথব্রাশটি নিয়ে আসে ‘স্কুইব’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

– লাইব্রেরি অব কংগ্রেস অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।