টাইটানিক আদৌ ডুবেছিলো কী!

এটা বোধহয় পৃথিবীরই দুর্ভাগ্য যে তার ইতিহাসে নির্মিত সবচেয়ে আলোচিত জাহাজ, ‘আরএমএস টাইটানিক’ তার ডুবে যাওয়া কারণেই আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বিলাসী যাত্রীবাহী জাহাজটি, তার প্রথম যাত্রাকালেই একটি বরফখন্ডে আঘাত হানে। দিনটি ছিলো ১৫ এপ্রিল, ১৯১২।

আঘাতের ৩ ঘন্টার মধ্যে, এটি সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যায়, একই সাথে বিস্মৃত হয়ে যায় জাহাজটির ১৫০০ যাত্রী।

বেলফাস্টের হারলান্ড ও উলফ শিপইয়ার্ডে নির্মিত, তিনটি অলিম্পিক শ্রেণীর জাহাজের একটি ছিলো আরএমএস টাইটানিক। আর অন্য দুটি জাহাজ ছিলো আরএমএস ব্রিটানিক এবং আরএমএস অলিম্পিক।

আরএমএস অলিম্পিক টাইটানিকের এক বছরেরও বেশি সময় পূর্বে জলে নেমেছিলো, কিন্তু তার পরবর্তী বছরে তার বোনপ্রতীম আরএমএস টাইটানিককেই ডুবে যাবার ভাগ্য বরণ করতে হয়।

তবে আসলেই কি টাইটানিক ডুবেছিলো? সম্প্রতি প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, ১৯১১ সালে যখন আরএমএস অলিম্পিক প্রথম যাত্রা শুরু করে, শুরুতেই জাহাজটি দুটি গুরুতর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলো। যার দ্বিতীয়টি ঘটে আইল অব উইটে এর তীরে অবস্থিত রয়াল নৌবাহিনীর জাহাজ ‘এইচএমএস হক’য়ের সাথে। এই দুর্ঘটনায় আরএমএস অলিম্পিকের তলদেশ এবং পার্শ্বের ইস্পাত কাঠামো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলো।

কিছু ইতিহাস লেখক বলেন যে, এই দুর্ঘটনায় অলিম্পিকের যতটা ক্ষতি হয়েছিলো বলে স্বীকার করা হয়, আদতে ক্ষতি তার চেয়েও বেশি গুরুতর ছিল। প্রকৃতপক্ষে, এই দুর্ঘটনাতেই জাহাজটির এপিটাফ লেখা হয়ে যায়।

জাহাজটির মেরামত খরচ নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল হবে এবং মেরামতে মিলিয়ন পাউন্ডের অপচয় হবে। এই দুর্ঘটনা ঘটার মাঝেই জাহাজের মালিক হোয়াইট স্টার লাইন একটি সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল।

সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে, হোয়াইট স্টার কোম্পানি এবং তার মালিক জেপি মরগান তাদের আর্থিক দুরাবস্থা ঢাকার জন্য ভিন্ন কিছুর আশ্রয় নিয়েছিলেন কি?

এটি অনুমান করা হয় যে, ক্ষতির পরিমাণ কমানোর জন্য তারা ‘আরএমএস অলিম্পিক’ জাহাজটিকে টাইটানিকের সাথে পরিবর্তন করেন এবং অলিম্পিককে একটি নাটকীয় দুর্ঘটনায় ফেলেন। পরবর্তীকালে টাইটানিক অলিম্পিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং বহুবছর সেবা প্রদান করে যায়।

টাইটানিক এবং অলিম্পিক, দুটি জাহাজই ছিল কাঠামোগতভাবে অভিন্ন ছিলো এবং ড্রাই হারবারে তারা পাশাপাশি নোঙর করানো ছিলো। যদি তাদের অদলবদল করানোও হয়, তবে তা নামফলক প্রতিস্থাপনের মতোই খুব বেশি জটিল কিছু ছিলো না।

অলিম্পিক কিংবা, যদি ‘ক্ষতিপূরণ তত্ত্ব’টি বাস্তবিক হয় তবে অলিম্পিক হিসেবে টাইটানিক প্রতিস্থাপন করা হয় এবং অনেক বছর ধরে যাত্রী পরিবহন করে।

প্রথমদিকে এই জাহাজটি ডব্লিউডব্লিউ-১ এ সেনাবাহিনী পরিবহন হিসাবে পরিচালিত হয় এবং গত শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকে জাহাজটি পুনরায় যাত্রী পরিবহনের বিলাসী সেবায় নিযুক্ত হয়। অবশেষে, ১৯৩৫ সালে জাহাজটিকে তুলে রাখা হয়।

জাহাজটি সত্যিই টাইটানিক ছিলো কিনা তা তখনকার মতো এখনও নিশ্চিত নয়। এমনকি ১৯৩৬ সালে যখন জাহাজটি ভাঙা হয়েছিল তখনও এটিকে ‘আরএমএস অলিম্পিক’ বলেই মনে করা হয়েছিলো।

লাফিং কালার্স অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।