জয় বাবা গামিনি, তোমার নাম জপে থামিনি

‘ওকে শক্ত আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, মাশরাফি, মোসাদ্দেক একই কথা বলেছে উইকেট নিয়ে। বিদেশি ক্রিকেটাররাও বলেছে। কিন্তু তামিমের ব্যাপারটি ছিল পুরো ভিন্ন। সবকিছু আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে পারছি না, কারণ সেটির প্রভাব বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর আসতে পারে।’

‘তবে ওর কথাবার্তা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ছিল বিপজ্জনক। এটা আমাদের ক্রিকেটের প্রচুর ক্ষতি করতে পারে বা পারত। এজন্য আমরা মনে করেছি, সহ-অধিনায়ক হিসেবে কথাবার্তা বলায় ওকে আরও অনেক সতর্ক হতে হবে।’

‘একটা পিচ নিয়ে ক্রিকেটাররা বলতেই পারে যে টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ নয়। কিন্তু আপনি আউটফিল্ড নিয়ে বলবেন কেন? আউটফিল্ডের কি হয়েছে? কিউরেটর নিয়ে বলবেন কেন?’

‘আমাদের আউটফিল্ড এর মধ্যেই দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়ে বসে আছে। চারটা হলে ঢাকা শহরে আর কোনো খেলা হবে না। তো এটা কি ধরনের কথাবার্তা? একজন অধিনায়ক তো এ ধরনের কথা বলতে পারেন না! আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

– বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন

__________

আজ আমরা যা শিখলাম

বিপিএল এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই তো আইসিসির ডিমেরিট পয়েন্টের ব্যাপার বিপিএলেও চলে আসছে।বিপিএলে উইকেট-আউটফিল্ড ভালো না হলেও আইসিসি ডিমেরিট পয়েন্ট দিতে পারে। তাই হুঁশিয়ার, সমালোচনা করা যাবে না।

আইসিসি মাঠকে ডিমেরিট পয়েন্ট দেয় ক্রিকেটারদের কথা শুনে। আইসিসির ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়াররা খেলা পরিচালনা করলেও মাঠ দেখেন না। মাঠ খারাপ হলে সমস্যা নেই। ক্রিকেটাররা সেটি বললেই কেবল আইসিসি হস্তক্ষেপ করে। তামিম আউটফিল্ডের সমালোচনা করেছেন, আইসিসি তাই আরও দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট দিতে পারে।

তামিম ইকবাল বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘কিম জং উন’। মুখে পারমাণবিক বোমা নিয়ে বসে আছেন। মুখ খুললেই বাংলাদেশের ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যাবে। ভয়ঙ্কর বিপজ্জনক!

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ঢুকলেই প্রায় সবার মনে হাহাকার জাগে। আহারে, সেই সবুজের গালিচা কোথায় হারিয়ে মাঠ কেমন বাদামী প্রান্তর! তবে এই ‘প্রায়’ সবার দলের যারা আছেন, তারা সবাই টিনের চশমা পড়ে মাঠে যান। আউটফিল্ড আসলে এত সবুজ যে নিউজিল্যান্ডের গরুগুলোকে এখানে ছেড়ে দিলে খুশিতে তাদের চোখে পানি চলে আসবে।

সামান্য একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হয়ে কিউরেটরকে নিয়ে কথা বলবেন কেন? যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা! হতে পারেন তামিম দেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যান, কিন্তু এমন তো সব দেশেই আছে। এমন কিউরেটর কয়টা দেশে আছেন! আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার চেয়েও কঠিন একজন গামিনিকে পাওয়া। অথচ তার সমালোচনা করেন কোথাকার কোন টেস্ট সহ-অধিনায়ক! আরে, কে না জানে, ‘যার নাই কোনো গতি, সে হয় সহ-সভাপতি, যে নয় নায়ক, সে হয় সহ-অধিনায়ক!’ তার এত বড় সাহস হয় কি করে?

শের-ই-কিউরেটর, মিরপুর সালতানাতের মহান অধিপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মৃত্তিকা বিজ্ঞানী, ঘাস গবেষণায় নোবেল পাওয়ার যোগ্য দাবীদার, সবুজ আর বাদামী ঘাসের ভেল্কি দেখানো জাদুকর, ২২ গজের নিখুঁত কুটির শিল্পী, এদেশের ক্রিকেটে তামিমদের চেয়েও বেশি অবদান রাখা এবং এদেশকে তামিমদের চেয়েও বেশি ভালোবাসা সিংহ হৃদয় পুরুষ, মহামান্য কিউরেটর গামিনিকে সর্বদা সবচেয়ে সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গায় রাখতে হবে। তিনি স্পর্শের বাইরে।

জয় বাবা গামিনি

তুমি শ্বেতশুভ্র কামিনী

কত শত যামিনী

তোমার নাম জপে থামিনি…

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।