জয়তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার

যেকোন জয়ই স্মরনীয়। আর তা যদি হয় বিশ্ব ক্রিকেটে প্রবল আধিপত্য বিস্তারকারী নাক উঁচু স্বভাবের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাহলে তো আনন্দ দ্বিগুণ হওয়ার কথা। বাংলাদেশের ১০১ তম টেষ্ট ম্যাচে ১০ম জয় পেয়েছে। আর এই জয়ে ব্যাটে-বলে চমৎকার পারফরমেন্স দেখিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়! পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ঠিক দুই দিন পূর্বে দেশবাসীকে দারুণ এক ঈদ উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০ রানের এই শ্বাস-রুদ্ধকর ম্যাচে জয়ের নায়ক নির্বাচনের জন্য  ম্যাচ অ্যাজুকেটরদের দ্বিতীয়বার ভাবনার কোন প্রয়োজন হয়নি। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতেছেন ‘বাংলাদেশের জান বাংলাদেশের প্রান’ সাকিব আল হাসান।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফরের শুরু থেকেই সাকিবের কথায় ছিল আত্ম-বিশ্বাসের বারুদ। টেষ্ট সিরিজ শুরুর পূর্বেই বলেছেন ‘অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ তে হারাতে চায়’। আবার  ঢাকা টেষ্ট শুরুর আগের দিন বলেন, ‘ অস্ট্রেলিয়ার থেকে বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো’। অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেয়ার শুরু সেখান থেকেই।

টস জিতে মেঘলা আবহাওয়ায় ব্যাটিং নেমে আকাশের মত রাজ্যের আঁধার বাংলাদেশের ব্যাটিং এ, ১০ রানে নেই ৩ উইকেট। ওই সময় সাকিব-তামিমের ১৫৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর ২৬০ আর তাতে সাকিবের অবদান ইনিংস সর্বাধিক ৮৪।

ঢাকা টেস্টের যখন দলের প্রয়োজন ঠিক তখনই ত্রাণকর্তার ভুমিকায় সাকিব। ঢাকা টেস্টের পুরো আড়াই দিন আধিপত্য বিস্তার করে তৃতীয় দিন শেষে মনস্তাত্ত্বিকভাবে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ১৫৬ রান, হাতে ৮ উইকেট। ক্রিজে অস্ট্রেলিয়ার সেরা দুই ব্যাটসম্যান ওয়ার্নার ও স্মিথ ‘ওয়েল সেট’।

তৃতীয় দিনের প্রথম ঘন্টাতে এই দুই ব্যাটসম্যান তুলে নেয় ৬৫ রান। অনেক বাংলাদেশী সমর্থকই তখন আশা ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু আশা ছাড়েননি সাকিব আল হাসান। প্রথমে সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব। এরপর অধিনায়ক স্মিথের মহা গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটিও নিয়েছেন। ৫০ তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিবের ঘূর্ণি যেন দুর্বোধ্য হয়ে উঠছিল অসিদের কাছে। একে একে তুলে নিলেন প্রথম ইনিংসের মত ৫ উইকেট। পেলেন ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মত ১০ উইকেট।

১১ বছরের ক্যারিয়ারে ৫০ তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব শুরু থেকেই ছিলেন দারুণ আত্ম-বিশ্বাসী, তা কথায় এবং মাঠের পারফরমেন্স সব জায়গাতেই। এক একটি উইকেট প্রাপ্তির পর উৎযাপন গুলো ছিলো দেখার মত এবং তা অবশ্যই সাকিবীয় ভঙ্গিমায়। পরিসংখ্যানে লেখা থাকবে তার রান ও উইকেটের সংখ্যা কিন্তু লেখা থাকবে না তার মাঠের ডিটারমিনেশন। পুরো দলকে

৫০ তম টেস্ট খেলতে নামার আগে থেকেই মনে অনেকগুলো রেকর্ডের পণ করে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান। টেস্ট খেলুড়ে ৯ টি দেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট পাওয়া চতুর্থ বোলার হিসাবে রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছেন সাকিব। সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে টেস্টে (৫০ টেস্টে) ৩৫০০ রান ও ১৫০ উইকেট পাওয়া খেলোয়াড়ের নাম এখন সাকিব। নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার রিচার্ড হ্যাডলির পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এক টেস্টে ১০ উইকেট ও ন্যূনতম ৫০ রান (২য় বার) করার কীর্তিটা নিজের করে নিলেন।  রঙ্গনা হেরাথের পর বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বাধিক ৫ উইকেট পাওয়া স্পিনার এখন সাকিব (১৭ বার, হেরাথ ৩১ বার)।

৮৪, ৫, ১১৬, ১৫, ২৩, ৮, ৮২, ২২, ৫৯, ৮, ২১৭, ০- এগুলো সাকিবের এ বছরে খেলা টেস্টে রান সংখ্যা। আর উইকেট সংখ্যা ৬ টেস্টে ২৭। ২০১৭ সালে টেস্ট ক্রিকেট হয়ত দারুণ উপভোগ করছেন সাকিব। গত কয়েক দিন যাবত সাকিবের বোলিং নিয়ে কথা হচ্ছে কিন্তু এক তুড়িতেই সব কথাবার্তা উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ‘সুপারম্যান’। কেন সাকিব বিশ্বসেরা- তা আরেকবার প্রমানের জন্য বেছে নিলে টেস্ট ক্রিকেটের অভিজাত দল অস্ট্রেলিয়াকে।

ব্যাট-বলের পারফরমেন্স, মাঠের বাহিরের পারফরমেন্স, দলকে উজ্জীবিত করা- সবকিছুতেই সাকিব ছিলেন সেরা ঢাকা টেস্টের সেরা পারফরমার। জয়তু সাকিব! জয়তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।