জুড়ুয়া টু: বরুণ ধাওয়ান কি সালমান হতে পেরেছেন?

১৯৮৭ সালে যখন স্ত্রী করুনার কোলজুড়ে বড় ছেলে বরুণের জন্ম হয় ডেভিড ধাওয়ান কি বুঝতে পেরেছিলেন ৩০ বছর পর এই সুপুত্রের সৌজন্যেই ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় হিটের দেখা পাবেন বলিউডের কমেডি সিনেমার প্রখ্যাত এই পরিচালক?

বক্স অফিসের কালেকশন তো তাই বলছে। তৃতীয় সপ্তাহ শেষে কেবল ভারতের ভেতরেই সিনেমাটির আয় প্রায় ১৩৮ কোটি ভারতীয় রুপি। এসএস রাজামৌলির বাহুবলি: দ্য কনক্লুশনের পর এটাই চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করা বলিউডি সিনেমা।

আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল সিনেমাটি দিয়ে বরুণ ধাওয়ান কেবল জিপিএ ভাইভই পাননি রীতিমত গোল্ডেন ভাইভ পেয়েছেন। কখনো কখনো তার কারিশমা ছাপিয়ে গেছে খোদ সালমান খানকেও।

হ্যা, ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের বিখ্যাত সিনেমা ‘জুড়ুয়া’ সিনেমার দ্বিতীয় সংস্করণ এটা। আদতে, অবশ্য সালমান খানের জুড়ুয়ার রিমেকই করেছেন ডেভিড ধাওয়ান। কে জানতো অরিজিনালের চেয়ে রিমেকই বেশি সফল হয়ে যাবে।

সালমানের ওই সিনেমায় কী না ছিল। কারিশমা কাপুর, শক্তি কাপুর, রাম্ভা, মুকেশ ঋষি, কাদের খান, সতীশ শাহ অভিনীত সিনেমাটি সে বছরের নবম সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা ছিল। সিনেমার গানগুলো এখনো সমান জনপ্রিয়। ভারতের বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা গলির পার্টিতে এখনো বাজে ‘চালতি হ্যায় কেয়া নয় সে বারা’ কিংবা ‘উচি হ্যায় বিল্ডিং’-এর মত গানগুলো।

কে জানতো সে কালের অযৌক্তিক কমেডি আর হাস্যকর লিরিক্সের গানগুলো একালের দর্শকরাও এত ভালভাবে হজম করে ফেলবে। এখানে সবচেয়ে বেশি কৃতীত্বটা অবশ্যই ভারুনের। সালমান খানকে ‘নকল’ করে নয়, বরং সিনেমায় নিজের স্বভাবজাত ঢঙেই তিনি হাজির হয়েছেন। কখনো এতটাই মনোমুগ্ধকর ছিলেন যে ফিঁকে মনে হয়েছে খোদ সালমান খানকেই।

সব মিলিয়ে বিনোদনে ভরপুর এক সিনেমা ‘জুড়ুয়া টু’। গল্প, প্লট যতই অহেতুক হোক, এর চেয়ে বড় বিনোদন এই বছরে বলিউড আর একটাও দিতে পারেনি।

বরুণ ধাওয়ান যেভাবে কমেডি সিনেমার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তাতে কোনো ডিএনএ টেস্ট ছাড়াই বলে দেওয়া যায় তিনি ডেভিড ধাওয়ানের ছেলে; সত্যিকারের বাপ কা বেটা।

বদ্রিনাথ কি দুলহানিয়ার পর এই বছরেই দ্বিতীয়বারের মত ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করলেন বরুণ। কে জানে, ভারুণই হয়তো বলিউডের নতুন সালমান খান!

– হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।