জাস্ট ফ্রেন্ড || রম্যগল্প

এক মেয়ে মেসেজ দিছে- দাদা, আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে আমার ব্রেকাপ হয়ে গ্যাছে! এখন কি করবো আমি?

আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম- ব্রেকাপ কেন হলো?

সে জবাব দিল- ও ঈশিতার সাথে সেদিন সাগুফতাতে ইফতার করার সময় আমি দেখে ফেলেছিলাম! অথচ, ও আমাকে ঈশিতার কথা কখনোই বলেনি!

আমি প্রশ্ন করলাম- তাহলে আপনি ঈশিতাকে চিনলেন কি করে?

সে বললো- আসলে দাদা, ঈশিতা হলো রবিনের চাচাতো বোন! সেই হিসেবে আমি ঈশিতাকে চিনি!

আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললাম- রবিনটা আসলে কি হয় আপনার?

সে কিছুটা লজ্জিত হয়ে বললো- রবিন হলো আমার জাস্ট ফ্রেন্ড! আমরা স্বামী স্ত্রীর মতো খুবই ফ্রী ফ্রাংক চলাফেরা করি!

আমি কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললাম- সেদিন কি সাগুফতাতে আপনি একাই ছিলেন?

সে জবাব দিলো- না দাদা, আমার সাথে রবিন ও ছিল!

আমি কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- আপনাদের কি আপনার প্রেমিক দেখেনি?

সে মন খারাপ করে বললো- দেখেছে দাদা! আমিও তো রবিনের সাথে ইফতার করার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম!

আমি আবার তাকে বললাম- কথা হয়েছে আপনাদের?

সে জবাব দিল- হুম দাদা, ও বললো ঈশিতাও নাকি ওর জাস্ট ফ্রেন্ড!

আমি বললাম- তাহলে আর ঝামেলা কি? আপনিও আপনার জাস্ট ফ্রেন্ডের সাথে ইফতার করছেন, সেও তার জাস্ট ফ্রেন্ডের সাথে ইফতার করছে! ব্যাস, ঝামেলা চুকে গেলো!

এবার সে কান্না কান্না ভাব করে বললো- দাদা, আমি একটা মেয়ে! আমি জানি, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে কখনো জাস্ট ফ্রেন্ড হতে পারে না! ঈশিতার সাথে তার অবশ্যই কোন সম্পর্ক আছে!

আমি বোকা বোকা চোখে তার মেসেজের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- তাহলে, আপনি আর রবিন কি করে জাস্ট ফ্রেন্ড হয়েছেন?

সে একটু ইতস্থত ভাব নিয়ে বললো- দাদা, বিশ্বাস করেন আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড! অন্যকিছু না! কিন্তু ঈশিতা কোনভাবেই ওর জাস্ট ফ্রেন্ড হতে পারেনা! তাই আমি ব্রেকাপ করে ফেলেছি!

আমি বললাম- তার মানে এখন আপনি সিঙ্গেল আছেন?

মেয়ে একটা হাসির ইমো দিয়ে বললো- কি যে বলেন না, দাদা! সিঙ্গেল কি থাকা যায় নাকি!

আমি একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলাম- তাহলে আপনার নতুন বয়ফ্রেন্ডের নাম কি?

সে এবার প্রচন্ড খুশির ছাপ মুখে নিয়ে বললো- আসলে দাদা, ওর নাম রবিন!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।