জার্নি বাই সেলুলয়েড টু সানন্দা ফ্রম সত্যজিৎ

১৯৬১ সাল। কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ‘তিনকন্যা’ ছবিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘মৃন্ময়ী’ হয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক, প্রথম ছবিতেই নজর কাড়লেন তিনি। এরপর কখনো ‘বসন্ত বিলাপ’ এর মিস ক্যালকাটা, কখনো বঙ্কিম বাবুর ‘ইন্দিরা’। শ্বেত পাথরের থালার ‘বন্দনা’ হয়ে নারী জীবনের প্রদীপ জ্বেলেছেন, আবার পারমিতা একদিনে হয়েছেন বৈচিত্র‍্যময়ী নারী চরিত্র ‘সনকা’।

সেলুলয়েডের পর্দায় তুলে এনেছেন পরমা থেকে সতীর গল্প। গয়নার বাক্সে স্বল্প সময়ে তুলে এনেছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গল্প। বিখ্যাত ম্যাগাজিন ‘সানন্দা’র সম্পাদক হয়ে নারী জাগরনের কথা বলেছেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের স্বনামধন্য অভিনেত্রী, পরিচালক – অপর্ণা সেন।

বাবা পরিচালক চিদানন্দ দাশগুপ্ত, কবি জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে মামা হন। সত্যজিৎ রায়ের ‘তিন কন্যা’ ছিল তাঁর প্রথম ছবি। এরপর অভিনয় করেন মৃনাল সেনের ‘আকাশ কুসুম’ ছবিতে, সঙ্গে বাক্স বদল, অপরিচিত, দ্য গুরু ছবিতে অভিনয় করেই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

সত্তরের দশকে ছিলেন ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়িকা। অভিনয় করেছেন অরণ্যের দিনরাত্রি, জন অরণ্যে, জয় জয়ন্তী, মেমসাহেব, বসন্ত বিলাপ, জীবন সৈকতে থেকে নায়িকার ভূমিকায়, সুজাতা, নৌকাডুবি, বন্দী বলাকার মত বহু জনপ্রিয় ছবিতে।

আশির দশকে নায়িকা হয়ে উপহার দেন একান্ত আপন, ইন্দিরা, কড়ি দিয়ে কিনলাম, বিষবৃক্ষ, পিকু, মোহনার দিকে, শ্যাম সাহেবের মত ছবি। নব্বই দশকে এসে নিজেকে আরো বর্ণিল করেন। বেশ সংখ্যক ভালো ভালো ছবিতে অভিনয় করে নিজের উপর সুবিচার করেন।

তার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে মহাপৃথিবী, অনন্যা, শ্বেত পাথরের থালা, আমোদিনী, ঊনিশে এপ্রিল, পারমিতার একদিন কিংবা তাঁর পরবর্তী সময়ে তিতলি, ইতি মৃণালিনী, অন্তহীন, চতুষ্কোণ অন্যতম। একাধিক হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন, এর মধ্যে ঈমান ধর্ম, এক দিন আচানক অন্যতম। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘বসু পরিবার’ ছবিটি।

অভিনয়ের জগতের বাইরেও স্বতন্ত্র জায়গা করে তুলেছেন একজন সফল নির্মাতা হিসেবে। ভারতীয় উপমহাদেশে নারী নির্মাতা হিসেবে অগ্রগণ্য। ১৯৮২ সালে ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন’ ছবি দিয়ে নির্মাতা হিসেবে আত্বপ্রকাশ।

প্রথম ছবিতেই তিনি ভূয়শী প্রশংসা পান,এরপর একে একে নির্মান করেন পরমা, সতী, যুগান্ত, পারমিতার একদিন, মি এন্ড মিসেস আইয়ার, ১৫ পার্ক এভিনিউ, ইতি মৃনালিনী, দ্য জাপানিজ ওয়াইফ, গয়নার বাক্সর মত বিখ্যাত ছবি। ‘আরশিনগর’ প্রত্যাশাপূরন না করলেও সর্বশেষ নির্মান করেন ‘সোনাটা’। তাঁর পরিচালিত বেশিরভাগ ছবিই জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক ভাবে পুরস্কৃত হয়েছে।

বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার না পেলেও পরিচালক হিসেবে দু’বার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। ১৯৮৭ সালে পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার। এছাড়া বি এফ জি এ পুরস্কার সহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সাথে বাঁধা জুটি আজো সমাদৃত। এছাড়া উত্তম কুমার, ভিক্টর ব্যানার্জী, দীপংকর দে, রঞ্জিত মল্লিক সবার সাথেই অভিনয় করে সফল হয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন তিনবার, কন্যা কঙ্কনা সেনশর্মা বলিউডে একজন স্বনামধন্য অভিনেত্রী।

১৯৪৫ জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও পরিচালক জীবনের ৭২ টি বছর পেরিয়ে গেছেন সদ্যই। তার প্রতি রইলো শুভ কামনা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।