সত্যিই জানি না কখন থামব: রজার ফেদেরার

বুড়ো হয়ে গেছেন, তাকে নিয়ে আর চলে না, আগের মত জৌলুস নেই। এমন অপবাদ নিয়েই লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই রজার ফেদেরারর ৩৬ বছর বয়সে এসে জিতলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ২০ তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম। কোথায় গিয়ে থামবেন ফেড-এক্স। জানিয়েছেন বিবিসিকে।

২০ তম গ্র্যান্ডস্ল্যামের অনুভূতি কি?

– সংখ্যার আসলে নিজস্ব কোনো গুরুত্ব নেই আমার কাছে। ২০ সংখ্যাটিকে নিয়ে আমার বিশেষ কোনো স্মৃতিও নেই। আগেও আমি শিরোপা জয়ে শিহরিত হয়েছি। তবে, এবারের মতো তীব্র অনুভূতি কখনো হয়নি। নিঃসন্দেহে ২০তম গ্র্যান্ড স্লাম জয় বিশেষ কিছু।

ষষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে রয় এমার্সন এবং নোভাক জকোভিচকে ছোঁয়া আপনার চোখে কতটা ‍গুরুত্বপূর্ণ?

– কিভাবে ব্যাখ্যা করব জানি না। আসলে এর তেমন গুরুত্ব নেই। সিলিস একজন বড় খেলোয়াড়। তাঁর বিপক্ষে পাঁচ সেটের কঠিন ম্যাচ জিতে পুরস্কারের মঞ্চে দাঁড়ালাম, ষষ্ঠ ট্রফিটা হাতে নিলাম। সব মিলিয়ে ২০তম গ্র্যান্ড স্লাম।

গতবারের শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছি, রূপকথা চলছে। এমার্সন কিংবা জকোভিচকে ছোঁয়ার চেয়ে এটাই আমার কাছে তাত্পর্যপূর্ণ। ক্যারিয়ারে তাদের নিজস্ব অসাধারণ সব কীর্তি রয়েছে।

৩৬ বছর বয়সেও গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রহস্যটা কি?

– সুযোগ থাকলেই আমি ছোট আসরগুলোতে অংশ নেই না। অতিরিক্ত না খেলার কারণে এখনো গ্র্যান্ড স্লামের আকাঙ্ক্ষা বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি। আমি অনুশীলন করতে ভালোবাসি। ভ্রমণ সব সময় উপভোগ করি। আমার দলটা অসাধারণ। তারাই সব কিছু সম্ভব করে তোলে। আমি এখনো শিরোপা জিতে চলছি দেখে আমার মা-বাবা গর্বিত হন। তারা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়ে যান।

আমার স্ত্রীর কথা না বললেই নয়। ওর সমর্থন না থাকলে অনেক আগেই টেনিস ছেড়ে দিতে হত। বাচ্চাদেরকে সামলাতে সে কঠোর পরিশ্রম করে। একই কথা আমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমার সন্তানদের থেকে আমি দুই সপ্তাহ বেশি দূরে থাকতে চাই না। আমার খেলোয়াড়ী জীবন থমকে যেত, যদি স্ত্রী ‘না’ বলত।

বিজয় মঞ্চে কান্নায় ভেঙে পড়লেন যে…

– ঝাপসা চোখে আমি দেখতে পাইনি তিনি আমার কান্নার ছবি নিচ্ছেন। জানি না, কী বলব। শুধু জানি, আমি যে বিষয়গুলো বলেছি, তা খুব অর্থবহ এবং আবেগকে নাড়া দেয়। দলকে ধন্যবাদ দেয়া, সিলিসকে অভিনন্দন জানানো, ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, আসরকে ধন্যবাদ জানানো- সবকিছুর সঙ্গে প্রচণ্ড আবেগ মিশে ছিল। কথা বলার সময় আমি ভেবেছি, আমার কিছুটা শান্ত থাকা প্রয়োজন। কিন্তু পারিনি।

ফাইনালে কিছুটা স্নায়ুচাপে ছিলেন কি?

– মাঝে মাঝে এর কোনো ব্যাখ্যা হয় না। চ্যাংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পরই আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার মনে হয়েছে, সেমিফাইনালে ওয়াকওভার পাওয়া হয়ত আমার জন্য কোনো মঙ্গলময় ইঙ্গিত নয়। সকাল তিনটা পর্যন্ত আমি ঘুমাতে পারিনি। পরবর্তী সারাদিন ধরে ভেবেছি, কীভাবে সিলিসের বিপক্ষে খেলব, ২০ তম গ্র্যান্ড স্লাম জয় কেমন হবে। না, না, ঠিক তা নয়। কিন্তু হেরে গেলে তা কতটা ভয়ঙ্কর হবে।

এমন অভিজ্ঞতা তো জীবনে প্রথম নয়…

– শুধু যে এবারই স্নায়ুচাপে ছিলাম, তা নয়। আগেও অনেকবার এমন হয়েছে। জীবনে আর এমন মুহূর্ত না আসলেই খুশি হব।

বয়স এখন ৩৬। কোথায় গিয়ে থামবেন ফেদেরার?

সত্যিই জানি না কখন থামব। ১২ মাসে তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলাম। নিজেরও বিশ্বাস হচ্ছে না। আমাকে শুধু শৃঙ্খলা রক্ষা করে ট্রফির জন্য উন্মুখ থাকতে হবে। ভালো জিনিস এমনিতেই ধরা দিবে। আমার মনে হয় না বয়স নিজে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা স্রেফ একটা সংখ্যা।

তবে, আমাকে পরিকল্পনা সাজাতে সতর্ক থাকতে হবে। আগেই ঠিক করতে হবে আমার লক্ষ্য কি, কোনগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। এটাই আমার সাফল্যের নির্ধারক। সামনে অনেক সুন্দর পথ পড়ে আছে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।