জাগ্গা জাসুস: ভিন্ন উপস্থাপনা, অনন্য রণবীর

বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবি রণবীর-ক্যাটরিনার ‘জাগ্গা জাসুস’ মুক্তি পেয়েছে গত শুক্রবার। এর আগে ‘আজব প্রেম কি গজব কাহানী’তে দুজনকে কমেডি চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। বেশ সাড়াও জাগিয়েছিল ছবিটি। আবারও সেই জুটি, তবে এবারের কাহিনী-প্রেক্ষাপট সবই ভিন্ন।

‘জাগ্গা’ নামের একজনকে ঘিরেই মূলত পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। অনাথ শিশু ‘জাগ্গা’ ছোটবেলা থেকেই  একটি হাসপাতালে বেড়ে উঠে। কিছুদিন পর, পা ভেঙ্গে হাসপাতালে আসা একজনের সাথে তার বেশ সখ্যতা গড়ে। ‘জাগ্গা’র কাছে লোকটা নিজের পরিচয় দেয় ‘টুটি ফুটি’ নামে। জানা যায়, সে ‘পুরুলিয়া আর্মস ড্রপ কেস’ বলে একটি মামলার প্রত্যক্ষদর্শী।

যাই হোক, লোকটা জাজ্ঞাকে দত্তক নিয়ে যায়, এবং কিছুদিন নিজের কাছে রাখার পর তাকে একটি স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়ে  রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায়। স্কুল পড়ুয়া জাগ্গা বিভিন্ন পরিপার্শ্বিক উপজীব্যের রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে ধীরে ধীরে গোয়েন্দা হয়ে ওঠে। খুন, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক-সহ বিভিন্ন কেস সমাধানে পুলিশকে সাহায্য করা আরম্ভ করে। এরপর দেখা যায়, কিশোর জাগ্গা ওরফে রণবীর তার বাবা প্রফেসর বাগচীর খোঁজে বেরিয়ে পড়ে।

পথে দেখা হয় সাংবাদিক ক্যাটরিনার সঙ্গে, যে তাকে এই সন্ধানে সাহায্য করে। এভাবেই পিতৃ-মাতৃহীন শিশু জাজ্ঞা আস্তে আস্তে হয়ে ওঠে ‘জাজ্ঞা জাসুস’। ছবির কাহিনী অসম্ভব আকর্ষণীয়। অযথা সংলাপ কিংবা কথিত ভারী সংলাপের বাড়াবাড়ি নেই। এর আগে এই ধরণের কাহিনী বলিউডের কোনও সিনেমায় সম্ভবত খুব একটা হয় নাই। ঝকঝকে উপস্থাপনা আর চমকপ্রদ গোয়েন্দা কাহিনী শৈশবের নস্টালজিয়ায় ডুবিয়ে রাখে।

প্রথমেই বলতে হয় অনুরাগ বসু কথা। তিনি বলিউডের কমার্শিয়াল সিনেমার বাজারে নতুনত্ব তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তার নিজস্ব একটা স্টাইল আছে। এর আগে বরফি দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন; একজন মুক ও বধির ছেলে এবং তাঁর সঙ্গে জুড়ে থাকা দুই নারী চরিত্রের বিচিত্র আখ্যান স্বতঃস্ফূর্তভাবে বর্ণনা করেছিলেন।

যার মধ্যে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক আর অন্যজন মানসিক ভারসাম্যহীন। নিজস্ব স্টাইল স্ট্যাটমেন্টকে তিনি শৈল্পিকভাবে সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এই ছবিতেও তিনি স্পেক্টাকল কিছু দেখাতে চেয়েছেন এবং উতরেও গেছেন সফলভাবে। সুতরাং বলা যায় ‘বরফি’র পর ‘জাগ্গা জাসুস’ তার আরও একটি অসামান্য কাজ।

কাহিনীর পর ছবিটি প্রধান দিক হলো প্রীতমের সঙ্গীত। একের পর এক হৃদয়গ্রাহী সঙ্গীত মোহিত রাখে। বিশেষ করে, ‘উল্লু কা পাট্টা’ নামের একটা গানে রোবটিক ডান্স আর সিজলিং কেমিস্ট্রিতে বেশ প্রানবন্ত দেখা গেছে রণবীর-ক্যাটরিনাকে।

এবার অভিনয় নিয়ে যদি বলি, ‘রকস্টার’ কিংবা ‘বরফির’ পর ‘জাগ্গা জাসুস’র মধ্য দিয়ে আরও একটি মহাকাব্যিক কাজ যোগ হলো রণবীরের বায়োগ্রাফিতে। নিখুঁত অভিনয় আর এক্সপ্রেশন দিয়ে একাই সব আকর্ষণ নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন। অতিমাত্রায় অভিনয় কিংবা ন্যাকামো মোটেই ছিল না, স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় যেটাকে বলে তিনি সেটাই করে দেখিয়েছেন।

ক্যাটরিনা কাইফের দিকে সবসময়ই একটা অভিযোগের তীর দাঁড়া করানো হয় যে— তিনি অভিনয় পারেন না, ঠিকঠাক এক্সপ্রেশনও দিতে পারেন না। এই ছবিতে তার ওই অর্থে অভিনয় দেখানোর কিছু না থাকলেও তিনি অসাধারণ অভিনয় করেছেন, যা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। রণবীর-ক্যাটরিনার বাইরে ছবিতে কলকাতার শিল্পীদের আধিক্য দেখা গেছে, শক্তিমান অভিনেতা শাশ্বত চ্যাটার্জি ও সৌরভ শুকলা-সহ রজতাভ দত্ত, সায়নী গুপ্ত ভালো করেছেন।

সবশেষে একটা কথা বলা যায়, অনুরাগ বসুর ‘জাগ্গা জাসুস’ কিন্তু সবার ছবি না। বরং যারা ছবি দেখার ক্ষেত্রে ভাল কাহিনী খোঁজেন কিংবা নতুন ধরণের উপস্থাপনা পছন্দ করেন, শুধু তাদের জন্যই ‘জাগ্গা জাসুস’।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।