জহির রায়হানের আবিষ্কার, সত্যজিতে বিকাশ

সত্তরের দশক থেকে নব্বই দশক অবধি রুপালি পর্দায় একচেঁটিয়া রাজত্ব করে রেখে গেছে। সেই ববিতা এখন সকলের চোখের আড়াল। ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই যশোরে জন্ম নেওয়া এক কালের এই ডাকসাইটে অভিনেত্রী এখন কানাডায় নিভৃতে জীবন যাপন করছেন ছেলে অনিকের সাথে।

অভিনয় জগতের সাথে ভাল যোগাযোগ আছে, এমন একটা পরিবারেই তার জন্ম হয়। আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। বড় বোন সুচন্দা ছিলেন সে আমলের বড় নায়িকা। সুচন্দার স্বামী ছিলেন স্বনামধন্য লেখক ও চিত্র পরিচালক জহির রায়হান। ভগ্নিপতির আগ্রহেই সিনেমায় আসেন ববিতা।

সংসার চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতা অভিনয় করেন ১৯৬৮ সালে। সেটাই শুরু। আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। সিনেমায় সেসময় তার নাম ছিল সুবর্ণা। কলম নামের একটা টেলিভিশন নাটকেও কাজ করেছিলেন।

পরে জহির রায়হান তার নাম দেন ববিতা। সেই নামেই ‘জ্বলতে সুরুজ কি’ ছবিতে অভিনয় করেন। ১৯৬৯ সালে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন প্রথম নায়িকা চরিত্রে। সিনেমাটা মুক্তি পায় সে বছর ১৪ আগস্ট। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস সেদিনই মা’কে হারান ববিতা।

ববিতার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ‘ব্রেক থ্রু’ এনে দেন সত্যজিৎ রায়। অস্কারজয়ী এই চলচ্চিত্র পরিচালকের অশনি সংকেত সিনেমায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যা রায়, চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যাযদের সাথে অভিনয় করেন ববিতা।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অসমাপ্ত উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্রটি ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পরেই আলোচনার সৃষ্টি করে। ববিতার সাবলীল অভিনযে মুগ্ধ হয় দুই বাংলা। তাকে এনে দেয় দেশি-বিদেশি অনেক সম্মাননা।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ববিতাকে। সুখে থাকো, মনের মানুষ, নয়ন মণি, আনারকলির মত সিনেমা তাকে আরো বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে। খ্যাতির পাশাপাশি অনেক পুরস্কারও জয় করেন তিনি। অভিনয়ের জন্য ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সম্মাননা দেওয়া হয় তাঁকে।

১৯৯৭ সালে একবার পান প্রযোজক হিসেবে। ২০১৮ সালে জাতীয় পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাও পান তিনি। ১৯৭৬ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তনের পর প্রথম তিনবারে সবগুলোতেই ববিতা জিতেছিলেন সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এই হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি আর কারো নেই।

ববিতাদের পারিবারিক ছবি

ছোট বোন গুলশান আখতার চম্পাও নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। নায়ক ওমর সানী তাঁর ভাগ্নে, রিয়াজ তাঁর চাচাত ভাই। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এই পরিবারটি চলচ্চিত্র জগতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

২০১০ সাল অবধি চলচ্চিত্রাঙ্গণে কাজ করেছেন। সে বছরই চলে যান কানাডায়। আদৌ আর কখনো ফিরবেন কী না কে জানে। কিন্তু, কিংবদন্তি হয়ে যুগ ‍যুগ বেঁচে থাকবেন ঢাকাই সিনেমায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।