জন্মভূমি হয়নি যাঁদের আপনভূমি

জন্ম এক দেশে, খেলেছেন অন্য একটি দেশের হয়ে। অন্য একটি দেশের হয়ে পেশাদারিত্ব দেখিয়ে অনেক সুনামও কুড়িয়েছেন। অথচ, ক্রিকেটে হাতেখড়ি  হয়েছে ভিন্ন দেশের জার্সি গায়ে। মাতৃভূমির হয়ে যুব বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার পর ভিন্ন একটি দেশের জাতীয় দলে খেলেছেন – এমন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের নজীর পাওয়া যায়। তাদের নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।

ইমরান তাহির

অনেকেই আছেন যারা একদেশের হয়ে বয়সভিত্তিকে খেলেছেন, কিন্তু ইমরান তাহিরের মত সরাসরি এক দেশ থেকে অন্য দেশের জাতীয় দলে খেলার সৌভাগ্য কম মানুষেরই হয়েছে।

১৯৯৮ সালে যখন পাকিস্তানের হয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান এই লেগ স্পিনার, তখনি দেখা হয় দক্ষিণ আফ্রিকান সুন্দরী সুমাইয়ার সাথে। তাঁকে বিয়ে করে দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থায়ী হন তিনি।

তবু দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার আগে পাকিস্তানের হয়ে খেলার চেষ্টা করেছেন, রীতিমত পাকিস্তানে নির্বাচকদের রাডারে ছিলেন, কিন্তু কিছু কারণে জাতীয় দলের দরজা না খোলায় দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এই প্রতিভাবান লেগ স্পিনার।

ইয়ন মরগ্যান ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম

এদিকে ইয়ন মরগান ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম সমসাময়িক দুজন ক্রিকেটার ঘটিয়েছেন আরেক মজার ঘটনা।

দু’জনেই ২০০৪ সালে বাংলাদেশে খেলেছিলেন। মরগান খেলেছেন আয়ারল্যান্ড এর হয়ে, গ্র্যান্ডহোম খেলেছেন জিম্বাবুয়ের হয়ে। কিন্তু পরবর্তীতে মরগান হয়েছেন ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক আর গ্র্যান্ডহোম খেলছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে।

কিছুদিন আগেই উইন্ডিজের বিপক্ষে করেছিলেন দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুারি। টেলর, চিগুম্বুরা, উৎসেয়াদের সাথে কাটানো সময় বেশ ভালই মনে আছে তাঁর। তাঁরা অবশ্য গ্র্যান্ডহোম দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াকে ‘গ্রেট মুভ’ হিসেবেই দেখেন।

জোনাথন ট্রট

জনসনের বাউন্সার তোপে মানসিক অবসাদজনিত কারণ দেখিয়ে অবসর নেয়া ইংলিশ ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রট বেশ মেধার ছাপ রেখেছিলেন ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেট ও কাউন্টিতে। বেশকিছু সেঞ্চুরি আছে তাঁর। কিন্তু তিনিও ২০০০ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে।

গ্যারি ব্যালান্স

কথায় কথায় বলতে হচ্ছে গ্যারি ব্যাল্যান্সের কথা। যার মাঝে ইংলিশ টেস্ট ক্রিকেট দেখতে পাচ্ছে ভবিষ্যৎ, তিনিও জিম্বাবুয়ের হয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপের পর জিম্বাবুয়ে থেকে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান।

গ্র্যান্ট ইলিয়ট

নিউজিল্যান্ডের মিনি অলরাউন্ডার গ্র্যান্ট ইলিয়টের সেরা মুহূর্ত ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে নিজের দলকে ফাইনালে তুলতে মূল ভূমিকা রাখা। হয়তো তখন তাঁর দৃশ্যপটে ভেসে আসছিলো ১৯৯৮ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলে অসাধারণ পারফর্ম করার স্মৃতি।

ইলিয়ট নিউজিল্যান্ড এসেছেন জিম্বাবুয়ে থেকে, আবার পিটার বোরেন হয়ে গেলেন নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। তিনি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে।

অ্যান্ডি ক্যাডিক

ইংলিশ সাবেক পেস বোলার অ্যান্ডি ক্যাডিক নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন ১৯৮৮ অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। কিন্তু নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলে জায়গা না পেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। এদিকে ক্রেইগ কিসওয়েটার ও মাইকেল ল্যাম্ব দু’জনই ইংল্যান্ড এর হয়ে খেললেও জাতিগতভাবে তারা প্রোটিয়া।

কিসওয়েটার ২০০৬ সালে ও লাম্ব ১৯৯৮ সালে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেন। কিসওয়েটার ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। চোখে আঘাত লেগে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায় তাঁর।

টিম মুর্টাগ আবার ইংল্যান্ড থেকে আয়ারল্যান্ড নিবাসী হয়েছেন। তিনি ২০০০ সালে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন। আন্ড্রু বেনরেগার ২০১০ সালে শ্রীলঙ্কার হয়ে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেললেও ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে। ২০১০ সালে অনুর্ধ্ব ১৯ নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার পর নেদারল্যান্ড চলে গেছেন লোগান ভ্যান বেক।

বংশের ধারা ভালই বজায় রাখলেন তিনি। দাদা স্যামি গিলেন যে দু’দেশের হয়ে রীতিমত টেস্ট খেলেছিলেন – ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড!

– লেখাটি সর্বপ্রথম ফেসবুকে ক্রিকেটখোর গ্রুপে প্রকাশিত

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।