ছোট দলের বড় তারকা

২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবল। ফিক্সচার পাওয়ার পরেই অনেক ব্রাজিলের সমর্থকদের মাথায় হাত। দ্বিতীয় পর্বেই মুখোমুখি হতে হবে নেদারল্যান্ডের নয়তো স্পেনের। স্পেন আগের বারের চ্যাম্পিয়ন, আগে পেছনে দুইবার ইউরো জয়ী, স্পস্টত ফেভারিট।

যে কোন দলই প্রথমদিকে তাদেরকে এড়াতে চাইবে। প্রথম ম্যাচের পরেই সেইসব ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের মুখ আরো শুকিয়ে গেল, স্পেন যে নেদারল্যান্ডের কাছে ৫-০ গোলে হেরে বসে আছে। হেরে গেলেও স্পেন যে নক আউটে দূর্ধর্ষ সেটা কে না জানে।

২০১০ বিশ্বকাপেও তারা প্রথম ম্যচ হেরেছিল। কিন্তু স্বস্তি ফিরে পেল পরের ম্যাচেও চিলির কাছে হেরে যাওয়ায়। দ্বিতীয় পর্বে মুখোমুখি হতে হবে চিলির। ব্রাজিলের সেই সব সমর্থক স্বস্তি ফিরে পেলেও চিলিকে পেয়ে তার অস্বস্তি একটুও গোপন করেনি সেই সময়ের ব্রাজিলিয়ান কোচ স্কলারি।

দ্বিতীয় পর্বের সেই ম্যাচটা অনুমিত ভাবেই ব্রাজিল জিতেছিল, কিন্তু ব্রাজিলিয়ান সমর্থকেরা ম্যাচটা নিয়ে মোটেও খুশি ছিল না। চিলি তাদের নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যথেস্ট ভালো খেলেছিল। মাত্র ১৮ মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পর ৩২ তম মিনিটে অ্যালেক্সিস সানচেজের একটা দূর্দান্ত গোলে ফিরে আসে। পরে টাইব্রেকারে ম্যাচটা হেরে যায় চিলি।

তবে অতিরিক্ত সময়ের ঠিক শেষ মূহুর্তে চিলির একটা দূর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে না আসলে দ্বিতীয় পর্বেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে যেত। চিলির পক্ষে দূর্দান্ত খেলা সানচেজ টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে ট্র্যাজিক হিরোতেই পরিণত হলেও আমার মনের কোঠায় স্থান পেয়ে যান।

সেই সময়টাতে ক্লাব ফুটবল একটু কম দেখা হতো। কাজেই বার্সালোনাতে সানচেজের খুব ভালো খেলা আমার দেখা হয় নি। সানচেজের মূল খেলাটা তাই বিশ্বকাপেই চোখে পড়েছিল। কিন্তু সেই ম্যাচের পর কোপা আমেরিকার ম্যাচ গুলো আর মিস করিনি।

২০১৫ কোপাতে প্রথম ম্যাচেই ইকুয়েডরের বিপক্ষে ভার্গাসের গোলে অ্যাসিস্ট করেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে গোল করেন। তবে মূল খেলাটা খেলেন কোয়ার্টার ফাইনালে আগের টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে, ম্যান অব দি ম্যাচ হন সানচেজ। সেমিতে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচের প্রথম গোলে অ্যাসিস্ট করেন। ফাইনালে টাইব্রেকারের সর্বশেষ গোলটা করে দেশের পক্ষে প্রথম মেজর ট্রফি জিতেন।

২০১৬ কোপা আমেরিকাতেও কোপা আমেরিকা জিতেন, এবার সানচেজ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা জিতে নেন। ২০১৭ কনফেডারেশন কাপে রানারআপ হন এবং টুর্নামেন্টের সিলভার বল জিতেন।

সানচেজের চিলির কারণেই মেসি দুইবার কোপা জয় থেকে বঞ্চিত হন আর ক্রিশ্চিয়ানোর পর্তুগাল কনফেডের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়। বার্সালোনার হয়ে ৬ টি ট্রফি জেতা এই খেলোয়াড় পরবর্তীতে আর্সেনালে যোগ দেন এবং সেখানেও তিনটি ট্রফি জিতেন।

হটাৎ করে এই চিলিয়ানকে নিয়ে এত কথা বলার কারণ হচ্ছে ছোট দলের বড় তারকা অ্যালেক্স সানচেজ যে ১৯৮৮ সালের আজকের দিনে জন্মেছিলেন চিলির টকোপিলায়।  এরমধ্যেই গুঞ্জন উঠেছে ম্যানচেস্টার সিটিতে যাচ্ছেন তিনি। কেউ কেউ দাবী করছেন চীনা লিগেও তার যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সানচেজের গন্তব্য কোথায় হচ্ছে, বা তিনি আর্সেনালেই থেকে যাবেন কি না সেসব জানার জন্য আপাতত সময়ের অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।