ছেলের নাম নিয়ে একটু দ্বিধায় আছি: মুশফিকুর রহিম

ক্রিকেটারদের জীবনটাই এমন। আগের দিন বাবা হয়েছেন। পরেরদিনই তাঁকে যোগ দিতে হল জাতীয় দলের অনুশীলনে। আর নামটা যখন মুশফিকুর রহিম, তখন সেখানে পেশাদারিত্বের চেয়ে বড় কিছুই নেই। সেই মুশফিকই হাজির হলেন সংবাদ সম্মেলনে। বাবা হওয়ার অনুভূতি জানানোর সাথে সাথে চলমান টেস্ট সিরিজ নিয়েও কথা বললেন।

ছেলের বাবা হওয়ার অনুভূতি কি?

আলহামদুল্লিাহ। খুব ভালো লাগছে। বাবা হওয়ার অনুভূতিটা আসলে কথা বলে বোঝানো যাবে না। সবাই দোয়া করবেন সে যেন সুস্থ থাকে এবং আমার সহধর্মিনী সেও যেন সুস্থ থাকে। সে যাতে মানুষের মতো মানুষ হয়, আমি দেশবাসীর কাছে সেই দোয়া চাই।

এবার একটু ক্রিকেটে ফিরে। চট্টগ্রাম টেস্টটা আমাদের জন্য কতটা ইতিবাচক ছিল?

চট্টগ্রামের শেষ টেস্ট থেকে আমরা অনেক ইতিবাচক দিক নিয়ে আসতে পেরেছি। আমাদের অতীত পরিসংখ্যানে বেশ কিছু টেস্ট আমরা এই পজিশন থেকে হেরেছি।  এটা আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি, আমরা টেস্ট ম্যাচটি ড্র করেছি। এটা আমাদের খুবই দরকার ছিল। এখানে লিটন ও মুমিনুলের জুটিটা অসাধারণ ছিল। আমি মনে করি চট্টগ্রামের টেস্টের পর টিম আরও বেশি উৎসাহ পাবে। আমরা হয়তো খুব বেশি ভালো বোলিং করতে পারিনি। তারপরও আমি বলবো আমাদের বোলাররা ক্যাপাবল ছিল।  যেহেতু উইকেটে অনেক রান হয়েছে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা সেই সুযোগটি নিয়েছে। সবিমিলিয়ে চট্টগ্রামে দারুন টেস্ট হয়েছে। আমরা মুখিয়ে আছি ঢাকাতে ভালো করার ব্যাপারে।  আমাদের দারুন সুযোগ আছে ১-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে নেওয়ার।

নিজের ব্যাটিং নিয়ে কি পুরোপুরি সন্তুষ্ট?

চাপতো একটু থাকেই। অধিনায়ক হলে দলে অটোমেটিক চয়েজে থাকা যায়। সেখানে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে থাকলে অবশ্যই পারফরম্যান্স করতে হবে। গত টেস্টে আমি চেষ্টা করেছি আমার দলকে সেরাটা দিতে। দ্বিতীয় ইনিংসে আনলাটি বলবো, বলটা খুব বেশি ভালেও ছিল না। তারপরও চেষ্টা করেছি। সামনের ম্যাচে চেষ্টা করবো আরও বেশি বেশি রান করার।

বোলিংটা কি মান সম্মত হচ্ছে না আমাদের?

যে কোন টেস্ট দলের জন্য বোলিং বিভাগটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যতই স্কোরবোর্ডে রান হোক না কেন ২০ টা উইকেটতো নিতেই হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সহজ ছিল না। চট্টগ্রামে বোলারদের জন্য অতিরিক্ত কোন সুবিধা ছিল না।  আগের দুইটা টেস্টে যেমন সুবিধা পেয়েছিল, সেটা এখান থেকে পায়নি ক্রিকেটাররা। আশা করি মিরপুরের উইকেটটা হয়তো অন্যরকম হতেও পারে। আমাদের পুরো বিশ্বাস আছে বোলারদের উপর।  শেষ কয়েক বছর এখানে আমাদের খুব ভালো স্মৃতি আছে। আমরা ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে ঢাকার মাটিতে হারিয়েছি। এখানে আমরা একটু হলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে নামতে পারব।  টেস্ট , ওয়ানডে দুটিই ভিন্ন খেলা।  মিরপুরে হয়তো ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ ভালো যায়নি। কিন্তু আমারতো খারাপ দল নই। আমাদের ওই দুটি দিন বাজে কেটেছে বলে আমরা হেরেছি। আমি মনে করি টেস্টের আগে আমরা ভালো একটা অবস্থানে আছে ব্যাটিং কিংবা বোলিং ইউনিট যাই বলেন।

ঢাকায় কেমন উইকেট প্রত্যাশা করছেন?

এই মুহুর্তে টিম ম্যানেজম্যান্টের খুব কাছে আমি নেই। তারপরও আমি মনে করি এই মাঠে আমাদের ভালো দুটি স্মৃতি আছে। খুব বেশিদিন হয়নি। চেস্টা করবো ওইরকম যদি সুবিধা পায় আমাদের বোলাররা , সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হলেও সমস্যা নেই। এমন উইকেট পেলে আমরা ক্যাপাবল ভালো কিছু করার জন্য। যেটা কিন শেষ টেস্টের শেষ ইনিংসে করে দেখিয়েছে আমাদের ব্যাটসম্যানরা। অবশ্যেই এটা আমাদের একটা আত্মবিশ্বাস দেবে। চট্টগ্রামের টেস্টের প্রতিফলন ইনলাশল্লাহ এই টেস্টে আপনারা দেখতে পারবেন।

অধিনায়কত্ব যাওয়ার পর কি এখন ব্যাটসম্যান হিসেবে নতুন মুশফিককে দেখা যাবে?

আগে দায়িত্ব ছিল কয়েকটা এখন একটা। সব সময়ই চেষ্টা থাকে সকল দায়িত্বগুলো পালন করার। অধিনায়ক থেকে কিপিং করেও অনেক সময় রান পেয়েছি, আবার অনেক সময় শূণ্য রানে আউট হয়েছি।  আবারেএকটি দায়িত্বে থেকেও পারিনি। আমার মনে হয় এই পরিস্থিতিটা সাধারন। যখন যে পরিস্থিতি আসবে, সেই পরিস্থিতিতে ফেস করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি সেটাই এখন চেষ্টা করছি। আমার ভালোই লাগছে। আমি খুব উপভোগ করছি।

উইকেট কেমন চাচ্ছেন?

উইকেট যেমনই হোক, আসলে উইকেট যদি কঠিন হয়, প্রতিপক্ষও কিন্তু সেই কঠিন ব্যাপারটার মধ্য দিয়েই যাবে। আর যদি নরমাল হয়, যেভাবে গত ম্যাচে হয়েছে, দুই দলের জন্যই আসলে উইকেট একই রকম হবে। উইকেট নিয়ে চিন্তা করার খুব বেশি সময় আসলে নেই। আমাদের আর মাত্র দুটি দিন সময় আছে। আর ইংল্যান্ড- অস্ট্রেলিয়ার সাথে আমরা যে রকম উইকেটে খেলেছি, তা কিন্তু সহজ ছিলো না। আমি মনে করি, যে উইকেটেই খেলি না কেনো আমাদের প্রয়োগটা ঠিকভাবে করতে হবে। গত ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো খেলেছে। আল্লাহর রহমতে এই কারণে আমরা দাপটের সাথে ড্র করেছি। সুতরাং উইকেট যেমনই হোক আমাদের প্রয়োগটা ভালো করতে হবে। সেটা করতে পারলে আশা করি খুব ভালো একটা রেজাল্ট আসবে।

রিয়াদের অধিনায়কত্ব কেমন দেখলেন?

আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। আর এমন কিছু সিদ্ধান্ত ছিলো, যা রিয়াদ ভাই সব সময়ই নেন। ঘরোয়া পর্যায়ে, বিপিএলেও রিয়াদ ভাই খুব ভালো অধিনায়কত্ব করেছেন। উনি অধিনায়ক থাকলে পারফর্ম্যান্সটাও অন্য রকম হয়। যা তিনি বিশ্বাস করেন ও বলেন। এইটা আমাকেও অনুপ্রাণিত করেছে। পুরো দলই তার আন্ডারে খেলার জন্য অপেক্ষা করছে।

উইকেটকিপিং ছেড়ে ফিল্ডিং কেমন এনজয় করছেন?

আমি সব সময়ই এনজয় করি। কিপিং করলে পিছন থেকে সব কিছু বোঝা যায়। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং না করলে, আগেই উইকেট বোঝা যায়। সে দিক থেকে বলবো হ্যা, একটু নতুনত্ব আছে। আমি এটা নিয়ে খুশি। লিটন ব্যাটিং ভালো করছে। কিপিংও ভালো হচ্ছে। আমি মনে করি, ইনশাল্লাহ — সামনের আট দশ বছর সে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিবে।

উইকেটরক্ষকের অভিজ্ঞতা থেকে আপনার জন্য স্লিপে দাঁড়ানো কি সহজ হয় না…

আসলে আমার ১০টা আঙুলের মধ্যে দুই তিনট আঙুলে ফাটল আছে। তো আমার জন্য স্লিপে খুবই কঠিন। আত্মবিশ্বাস না থাকলে কঠিন হয়ে যায়। এ ছাড়া আমাদের জেনুইন স্লিপ ফিল্ডার নেই। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। এটাও আমাদের মাথায় আছে।

ছেলের নাম কি রাখলেন?

ছেলের নাম নিয়ে একটু দ্বিধায় আছি। সাত দিনের মধ্যে আকিকা হবে। তখন নাম রাখা হবে। আর আপনাদের জন্য মিষ্টি আছে। দয়া করে খেয়ে যাবেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।