চ্যাম্পিয়ন্স লিগ: মরণফাঁদের লড়াইয়ের অপেক্ষা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত কোনো লিগ থেকে পাঁচটি দল উঠেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে খেলতে আসা পাঁচ দলের চারটিই ছিল আবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। তবে রানারাপ হওয়ার মুল্য দিতে হতে পারে চেলসিকে, কারণ শেষ ষোলতে তাদের প্রতিপক্ষ বার্সেলোনা।

অবশ্য টটেনহাম হটস্পারদের জন্যও ড্রটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক হয়নি, তাদের সাথে মোকাবেলা হবে বর্তমান রানারাপ জুভেন্তাসের। অন্যদিকে উড়তে থাকা গার্দিওলা সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে বলা যায়। এফসি বাসেল এর বিপক্ষে স্পেনিশ কোচের খুব একটা মাথা খাটানো লাগবেনা কোয়ার্টারে যেতে। ওদিকে লিভারপুলের জন্য পোর্তো কতটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে সেটা এখনি বলা সম্ভব না, তবে গ্রুপ পর্বে গতবারের সেমি ফাইনালিস্ট মোনাকোর জালে দুই লেগ মিলিয়ে মোট ৮ বার বল ঢুকিয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব।

অবশ্য নিজেদের সেরাটা দিলে লিভারপুলেরই পরের রাউন্ডে যাওয়ার কথা, তাদের আক্রমনভাগ সেই সাহস যোগালেও ডিফেন্স নিয়ে কাজ করতে হবে ক্লপকে । আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পেয়েছে আরেক স্পেনিশ দল সেভিয়াকে। লিগে বরাবরই রিয়াল বার্সার মত দলকে হারিয়ে দেয় সেভিয়া, তাই এই মোকাবেলাটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আশা করা যায়। তবে পগবা, ফেলাইনির উপস্থিতিরর সাথে লুকাকু ফর্মে ফিরলে মোরিনহোর দলকে হারানো দুঃসাধ্য হয়ে যাভে সেভিয়ার জন্য।

তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হবে পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে। দু’দলই এবার শিরোপার দাবিদার। একদিকে পিএসজির বিগ মানি ট্রান্সফার আর অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের লিগে ছন্নছাড়া দশা। তাই দুই দলেরই জয় ভিন্ন কোন অপশন থাকবেনা। নেইমারে উজ্জীবিত পিএসজির জন্য কাজটা অবশ্য কঠিনই হবে, কারণ ২০১১ সাল থেকে রিয়াল মাদ্রিদ প্রতিবারই কমপক্ষে সেমিফাইনাল খেলেছে।

সবমিলিয়ে দু’টি জমজমাট ম্যাচ অপেক্ষা করছে পরের রাউন্ডে। এদিকে আরেক স্পেনিশ জায়ান্ট অনেকদিন পর দেখা পেয়েছে পুরনো শত্রুকে। শেষ দেখায় চেলসি বার্সাকে বিদায় করে দেয় চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে। সেবার চ্যাম্পিয়নও হয় চেলসি। তবে বার্সেলোনা চায়বে আগের হিসেবটা চুকিয়ে দিতে। মেসির বার্সেলোনাই এই ম্যাচে ফেভারিট থাকবে, তবে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা ছেড়ে কথা বলবেনা। এই মৌসুমে চেলসির পারফর্মেন্স একেবারে আহামরিও না, আবার একেবারে বাজেও না। কিন্তু গ্রুপে এএস রোমার সাথে রানারাপ না হলে হয়ত আরো সহজ প্রতিপক্ষই পেতে পারত চেলসি।

এদিকে বায়ার্ন পেয়েছে তুর্কী ক্লাব বেসিকটাসকে। অনেকের মনে হতে পারে বায়ার্ন হয়ত সহজ প্রতিপক্ষই পেয়েছে – কিন্তু এই বেসিকটাসকে এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ডার্ক হর্সই বলা যায়। পেপের নেতৃত্বে তাদের ডিফেন্স অনেক গুছানো যেটা সমস্যা ফেলতে পারে বায়ার্নকে। তবে বেসিক্টাসের দুর্ভাগ্য যে হেইঙ্কেস যোগ দেয়ার পরই বায়ার্ন ছন্দে ফিরেছে। গত ম্যাচডে তে পিএসজিকে হারিয়েছে ৩-১ গোলে। এই টাইয়ে বায়ার্নই উঠছে ধরে নেয়া যায়।

দুই ইতালয়ান জায়ান্ট জুভেন্তাস আর রোমাকেই ভাল পরীক্ষা দিতে হবে পরের রাউন্ডে যেতে। রিয়ালমাদ্রিদ এবং বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টটেনহাম। তাদের প্রতিপক্ষ জুভেন্তাস। সিরি আ তে জুভেন্তাসকে এভার আগের চেয়ে দুর্বল মনে হচ্ছে, বিশেষ করে বনুচ্চির দল ছেড়ে যাওয়া তাদের রক্ষনভাগকে দুর্বল করেছে একটু হলেও। তাছাড়া গত মৌসুমের এক্স ফ্যাক্টর আলভেজও নেই এবছর।

তবে হ্যারি কেইনের মত হিগুয়েনও ছন্দে আছে। ট্যাকক্যালি দুর্দান্ত একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি। অন্যদিকে এএস রোমার প্রতিপক্ষ শাখতার ডনেস্ক। দু’দলের জন্যই সুখকর ড্র বলা যায়, কারণ আরো শক্তিশালী কেউও পরতে পারতো। দুই দলকেই ঘাম ঝড়াতে হবে। শাখতার ফেভারিট ম্যানসিটিকে হারিয়েই এসেছে নকাউটে। তাছাড়া হারিয়েছে ন্যাপোলিকেও। যদিও ন্যাপলির মাঠে হারে ৩-০ গোলে। এ,এস, রোমার জন্য আরেকটা বাধা হবে ইউক্রেনের তাপমাত্রা। দুই লেগ মিলিয়ে ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধরে নেয়া যায়।

এবারের শেষ ষোলতে কম হলেও চারটা বড় ম্যাচ আছে। ভাল একটা সময় পর ইংলিশ দলগুলো শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ম্যানসিটি, লিভারপুল আর ম্যানইউর যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে স্প্যানিশ দুই জায়ান্টকে ভাল পরীক্ষা দিতে হবে কোয়ার্টারে যেতে। তবে সবার চোখ পিএসজি বনাম রিয়াল মাদ্রিদের ফিক্সচারের দিকে। খেলাগুলোর প্রথম লেগ হবে আগামী ফেব্রুয়ারির ১৩, ১৪ এবং ২০,২১ তারিখ রাতে ।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।