চাইলেই ১০ টি আইন ভাঙতে পারেন রানী এলিজাবেথ!

রানী এলিজাবেথকে খুব বিনয়ী বলেই সবাই জানেন। ব্রিটিশ বা ইউরোপিয় গণমাধ্যম বলেন রাজতন্ত্রে তার মত মহৎ কাউকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। যদিও, নিয়ম বলছে রানী চাইলেই ১০ টি আইন ভাঙতে পারেন। সেগুলো যথেষ্ট ভুতুড়েও বটে।

  • রানী সড়কপথে গতির সীমা লঙ্ঘন পারেন

রানীকে নিশ্চয়ই আপনি কখনো রাস্তায় গাড়ির রেসে দেখবেন না। যদিও, তিনি চাইলেই তা পারেন। রাস্তায় গতির সীমা লঙ্ঘনের কোনো আইন তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

  • ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই ড্রাইভিং

রানীই একমাত্র ব্যক্তি যিনি কোনো লাইসেন্স ছাড়া গাড়ী চালানোর অধিকার রাখেন। এমনকি তার কোনো পাস, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। যদিও তিনি খুব দক্ষ ড্রাইভার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এলিজাবেথ অ্যাম্বুলেন্সু চালিয়েছেন। তখন তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ওই সময় সিট বেল্টও বাঁধতেন না রানী।

  • পাসপোর্টহীন ভ্রমণ

রানীর বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট লাগে না। কারণ, ব্রিটিশ পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় রানীর নামে। ভ্রমণ করার সময় স্রেফ কোনো কয়েক বা ব্যাংক নোট দেখালেই চলে। কারণ, সেখানেই তার ছবি থাকে। আসলে এই কয়েন-নোট দেখানোর নিয়মটাও টিকে আছে স্রেফ কাগজে-কলমে। বাস্তবে এরও কোনো প্রয়োজন নেই। রানী কে চেনেন না, এমন লোক তো পৃথিবীতেও নেই!

  • তথ্য অধিকার হরণ করতে পারেন রানী

অন্যান্য দেশের মত যুক্তরাজ্যও তথ্যের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। মানে, গণমাধ্যম চাইলে যেকোনো ধরণের প্রশ্ন করতে ও তার উত্তর খোঁজার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু, রাজ পরিবার চাইলে এই আইন ‘ব্লক’ করে দিতে পারে। তারা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নন।

  • কর দিতে হয় না রানীকে

রাণীর নিজের আয়ের ওপর কোনো কর দেওয়ার বিধান নেই। যদিও তিনি এই রীতি মানেন না। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি স্বেচ্ছায় কর দিয়ে আসছেন।

  • যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা

রানী যে কোনো সময় পৃথিবীর যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এমনকি যুক্তরাজ্যের সংসদ কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে চাইলে তার আগে রানীর অনুমতি নিতে হবে।

  • আদালত রানীকে অভিযুক্ত করতে পারে না

কোনো আদালত চাইলেই রানীকে কোনো মামলায় অভিযুক্ত বলতে পারে না। তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যাবে না, এমনকি তিনি নিজেও কোনো মামলার স্বাক্ষী হতে পারবেন না।

  • অন্যের সন্তান কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা

ব্রিটেনের আইন মতে তিনি দেশটির সব শিশুর আনুষ্ঠানিক অভিভাবক। তাই, তিনি চাইলেই কারো বাচ্চা-কাচ্চা কেড়ে নিতে পারেন। দুশ্চিন্তা নেই, এমনটা তিনি কখনো করেন না!

  • অন্যের সম্পদ হরণ করার বিধান

বিশেষ ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থায় রানী প্রয়োজনে যে কারো সম্পদে অনুপ্রেবেশ, দখল কিংবা চাইলে ধ্বংসও করতে পারেন। এটা একটু ভীতিকর শোনাচ্ছে বটে, ওনাকে নিশ্চয়ই সবাই অনেক ভরসা করেন।

  • যে কোনো আইন ভাঙার ‘আইন’

আসলে এই কথাটা শুরুতেই বলা উচিৎ ছিল। ব্রিটেনের রানী আসলে চাইলে যেকোনো আইনই যখন ইচ্ছা অমান্য করতে পারেন! যদিও, এমনটা তিনি করেন না। যেমনটা আগেই বললাম, তিনি খুবই বিনয়ী!

ব্রাইট সাইড অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।