গুড ডিজাইনার্স কপি, গ্রেট ডিজাইনার্স স্টিল

কথায় আছে প্রথমে দর্শনধারী, তারপর গুনবিচারী। সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে গ্রাফিক ডিজাইনিং এর কাজটা অনেকটা এমনি। ডেভেলপমেন্টকৃত সফটওয়্যারটাকে ব্যবহারকারীর কাছে সুন্দর এবং সহজভাবে তুলে ধরাই হল এর কাজ । আইটি সেক্টরের অন্যান্য পেশার মত গ্রাফিক ডিজাইনিংও একটি অন্যতম পেশা। একটি সফটওয়্যার তৈরিতে একজন ডিজাইনারের গুরুত্ব এবং একজন ডেভেলপারের গুরুত্ব সমান। আজ এই গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে আমি আমার ক্ষুদ্র ধারনা তুলে ধরছি।

ডিজাইনিং ও আর্ট

অনেকেই মনে করেন যে ভালো ডিজাইনার হতে গেলে তাকে আগে ভালো আর্ট জানতে হবে কিংবা আমি তো আর্ট জানি না তাহলে আমি ডিজাইন করব কিভাবে। আসলে কেউ যদি ডিজাইন করার আগে আর্ট জেনে থাকে তবে সেটা তার জন্য ভালো, কিন্ত সে যদি আর্ট না জেনে থাকে তাতেও তেমন কোনো ক্ষতিনেই। ভালো আর্ট জানলে সে যে ভালো ডিজাইনার হবে তাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আসলে আর্ট আর ডিজাইনিং এক না। একজন আর্টিস্ট আর্ট করেন তার মনের মাধুরী মিশিয়ে।তার কোনো ধরা বাধা নিয়ম নেই।কিন্ত একজন ডিজাইনার তার ইচ্ছেমতো ডিজাইন করতে পারে না। তার লক্ষ্য রাখতে হয় যাতে সে সুন্দরভাবে তার ডিজাইন ব্যবহারকারীর ব্যবহার উপযোগী করতে পারে।

গ্রাফিক ডিজাইন ও এর টুলস

সাধারণত ডিজিটাল কোনো পদ্ধতি দ্বারা ডিজাইন ফুটিয়ে তোলাকে আমরা গ্রাফিক ডিজাইন বলি। গ্রাফিক ডিজাইনে আমরা বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করি যেমনঃ Adobe Photoshop, Adobe illustrator, Adobe indesign, Corel draw, Inkscape,Sketch, Adobe XD এর ক্ষেত্রে ফটোশপ ব্যবহার করা হয়।তবে ইত্যাদি।Photo Editing, Web and App desiogning এর ক্ষেত্রে স্কেচ ব্যবহার করা বেশী সুবিধাজনক। এডোব এক্স ডি প্রোটোটাইপ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়।লোগো ও প্রিন্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে ইলাষ্ট্রেটর ব্যবহার করা হয়।তবে বিদেশে প্রিন্ট ডিজাইনের ক্ষেত্রে ইনডিজাইন অনেক ব্যবহৃত হয়। তবে আমার মতে ফটোশপ দিয়ে শুরু করে তারপর ইলাস্ট্রেটর শেখা ভালো। এবং কাজ শুরুর ক্ষেত্রে লেটেষ্ট সফটওয়্যারটি ইউজ করাই ভালো।আসলে গ্রাফিক ডিজাইনে অনেক টুল ইউজ করে অনেক ইফেক্ট ইউজ করতে জানাটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ না, বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ডিজাইনটা ফুটিয়ে তোলা, এবং এর ইউজারের কাছে সহজবোধ্য করা।

গ্রাফিক ডিজাইনের বিভিন্ন শাখা

গ্রাফিক ডিজাইনে কাজ করার বিভিন্ন সেক্টর আছে। যেমনঃ লোগো ডিজাইন, ফটো এডিটিং,প্রিন্ট ডিজাইন, আইকন ডিজাইন,ওয়েব ডিজাইন, ইউ আই ডিজাইন,ই এক্স ডিজাইন ইত্যাদি।বিভিন্ন কোম্পানি, প্রজেক্টের ইত্যাদি ক্ষেত্রে লোগোর দরকার হয়। এছাড়া এডিট করা ফটো এখন অনেক ব্যবহার হয়।প্রিন্ট ডিজাইন হলো বিজিনেস কার্ড, লিফলেট, প্যাকেজিং ইত্যাদির ডিজাইন। ওয়েব সাইটের লে আউট হলো ওয়েব ডিজাইন। সাধারনত আমরা ওয়েব ওঅ্যাপ ডিজাইনারদের ইউজার ইন্টারফেস ডিজাইনার বা ইউ আই ডিজাইনার বলি। আর যারা কোনো প্রডাক্টকে কতটা ইউজার ফ্রেন্ডলি করা যায় তা নিয়ে কাজ করেন তাদের ইউ এক্স বা ইউজার এক্সপেসিয়েন্স ডিজাইনার বলি

গ্রাফিক ডিজাইনারদের চাকরির বাজার

চাকরির বাজারে ভালো গ্রাফিক ডিজানারদের অনেক চাহিদা। প্রায় সব আই টি ফার্মেই ডিজাইনারদের জন্য পদ আছে। এছাড়াও বিভিন্ন ডিজাইনিং ফার্ম, এডভারটাইজমেন্ট ফার্ম, টিভি চ্যানেলের কোম্পানী ইত্যাদিতে প্রচুর চাকুরির সুযোগ আছে। সত্যি কথা বলতে একজন ভালো ডিজাইনারের চাহিদা গোটা বিশ্ব জুড়ে। ডিজাইনার হিসেবে বিদেশে গিয়ে চাকরির যেমন সুবিধা আছে, তেমন দেশে বসে বিদেশে রিমোট জব করারও সুবিধা আছে।

ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজাইনিং

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং একটি আলোচিত পেশা। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি ছাত্রজীবনে ফ্রিল্যান্সিং এর পক্ষে না। আসলে ছাত্রজীবন নিজের দক্ষতা বাড়ানোর সঠিক সময়। এ সময়ে অর্থ উপার্জনের চেয়ে শেখার পেছনে সময় ব্যয় করাটা বেশী প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে গ্রাফিক ডিজাইনের দেশে বিদেশে অনেক চাহিদা। মার্কেটপ্লেসে দেশী বিদশী প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইট আছে। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটের কাজ পাওয়ার ধরন বিভিন্ন রকম। যেমনঃ আপওয়ার্ক (https://www.upwork.com/) এ বিড করে কাজ পাওয়া যায়।ফ্রিল্যান্সার ডট কমেও(https://www.freelancer.com/) একইভাবে কাজ পাওয়া যায়,তবে এখানে ডিজাইনারদের জন্য কনটেষ্টের ব্যবস্থা করা আছে। বায়াররা কনটেষ্ট এর আয়োজন করেন, ফ্রিল্যান্সাররা সেখানে তাদের ডিজাইন দেন, যার ডিজাইন বায়ারের ভালো লাগে তার ডিজাইন কনটেষ্ট জিতে যায়। শুধুমাত্র কনটেষ্ট নির্ভর একটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস হলো ৯৯ ডিজাইনস(https://99designs.com/ )।

এছাড়াও কিছু মার্কেটপ্লেস আছে যেখানে নিজের প্রোডাক্ট ডিসপ্লে করেও প্রোডাক্ট সেল করা যায়। এমন দুটি মার্কেটপ্লেস হলো এনভাটো(https://studio.envato.com/) এবং ক্রিয়েটিভ মার্কেট(https://creativemarket.com/ )। নিজের ডিজাইন সমস্ত পৃথিবীর মানুষের কাছে ডিসপ্লে করতে রয়েছে বিহ্যান্স (https://www.behance.net/), ড্রিবেলের(https://dribbble.com/) মত পোর্টফলিও সাইট। অনেকেই আছেন যারা অল্প কাজ কিছুদিন কাজ করেই টাকা আয় করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। এতে সাময়িক কিছু টাকা আয় হলেও তার স্থায়িত্বকাল কম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী।

গ্রাফিক ডিজাইন শুরু করতে আমার কিছু কৌশল

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না গ্রাফিক ডিজাইনিং শুরু করতে কোনো ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার দরকার। কারণ গুগল আর ইউটিবের চেয়ে ভালো শিক্ষক আর হয় না। হয়ত এভাবে শুরু করতে গেলে আপনি কয়দিন পর হতাশ হবেন কিন্ত হাল না ছাড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নিজের কাজ চালিয়ে গেলে আপনি সফলতার শীর্ষে অবশ্যই পৌছাবেন। তবে শুরু হোক আজ থেকেই। আজই গুগল, ইউটিউব ঘেঁটে গ্রাফিক ডিজাইন রিলেটেড কনটেন্ট দেখুন আর প্রচুর প্র্যাকটিস করে নিজেকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যান। ভালো ডিজাইনার হতে গেলে আপনাকে প্রচুর ভালো ডিজাইন দেখতে হবে। কথায় আছে ‘Good Designers Copy, Great Designers Steal’।

ডিজাইনের কালার, ফন্টের ব্যাপারে যথেষ্ট পড়াশোনা করতে হবে। বিভিন্ন ভালো ডিজাইন দেখে কপি করে প্রাক্টিস করতে হবে। অন্যান্য ডিজাইনদের সাথে যোগাযোগ রেখে তাদের পরামর্শ নিতে হবে। বাংলাদেশের ডিজাইনারদের জন্য ফেসবুকে বি ডিজাইনার (https://web.facebook.com/groups/bed…) নামে একটা গ্রুপ আছে, সেই গ্রুপে আপনি বাংলাদেশের বিভিন্ন ডিজাইনারদের সাথে পরিচিত হতে পারবেন। কিভাবে আপনি নিজেকে আরো ইম্প্রুভ করবেন সে ব্যাপারে আপনি তাদের পরামর্শ নিতে। এছাড়াও ডিজাইনারদের আরো অনেক দেশী, বিদেশী গ্রুপ আছে।

পরিশেষে বলতে পারি গ্রাফিক ডিজাইনিং একটি সম্ভানাময় পেশা। যদি গ্রাফিক ডিজাইন নিয়ে কোনো আগ্রহ, গ্রাফিক ডিজাইনিং কে পেশা হিসেবে নিতে চান তবে দেরী না করে আজই শুরু করুন। হ্যাপী ডিজাইনিং!

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।