‘গা বাঁচানো’ সূচনা, জঘন্য সমাপ্তি

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ অনেক বড় কিছু করে ফেলবে, তেমন কোনো স্বপ্ন ছিল না। কিন্তু, ক্রিকেটের ‘উন্নয়নশীল’ দলটি নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেবে, লড়াই করবে, জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবে এমনটা প্রত্যাশিতই ছিল।

কিন্তু, পচেফস্ট্রম টেস্টের ঠিক প্রথম থেকে ‘নেতিবাচক’, ‘গা বাঁচানো’ ক্রিকেট খেলে মুশফিকুর রহিমের দল সেই প্রত্যাশাটা মেটাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হল। এমন উইকেটে ৯০ রানে অল আউট হওয়াটাও যথেষ্ট কঠিন। সেই কঠিন কাজকে সহজ বানিয়ে সফরকারী দলটি হেরে গেল ৩৩৩ রানের বড় ব্যবধানে।

এটা সেই বাংলাদেশ দল, যারা ক’দিন আগেই অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছে দেশের মাটিতে। সেই বাংলাদেশ যারা সাম্প্রতিক সময়ে ভিনদেশি কন্ডিশনে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে, সেই বাংলাদেশ যারা তিন দিনে পরাস্ত করেছে ইংল্যান্ডের মত দলকে।

তাহলে এই টেস্টে সেই উন্নতির ছাপটা কোথায় হারালো? এক সাকিব আল হাসানের। না থাকাটাই কী বড় ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়ালো? হ্যা, নি:সন্দেহে দলের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে ধারাবাহীকদের একজন না থাকায় একটা চাপ তো ছিলই।

কিন্তু, একজন বাঁ-হাতি স্পিনার ছাড়া খেলতে নামাটাই বা কতটা যৌক্তিক ছিল, যখন স্কোয়াডে তাইজুল ইসলাম আছেন। এই উইকেটে বাঁ-হাতি স্পিনাররা কী করতে পারেন সেটা কেশব মহারাজ দেখিয়ে গেছেন, এমনকি আমাদের মুমিনুলও বুঝিয়ে দিয়েছেন।

চাইলে অনায়াসে তাসকিন আহমেদকে বসিয়ে রেখে খেলানো যেত তাইজুলকে। এমন না যে, তাসকিনকেও অনেক ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন মোটে ছয় ওভার। তাহলে, বোঝা যায় গলদ ছিল পরিকল্পনাতেই। সেটা না হলে তো প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজকে একাই ৫৬ ওভার বল করতে হয় না।

একাদশে তিন পেসার রাখায় হয়তো বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অধিনায়ক। প্রথম ঘণ্টার ময়েশ্চারকে কাজে লাগানোর যুক্তি দিয়েছিলেন। অথচ, ময়েশ্চারের কোনো নাম-গন্ধও ছিল না। আর অধিনায়ক কেন পাঁচদিনের খেলা টেস্টের কেবল একটা ঘণ্টা নিয়ে ভাববেন! এমন ব্যাটিং স্বর্গ, শুষ্ক উইকেটে টস জিতে বোলিং নেওয়াটাই তো আত্মঘাতি।

আবার তিন পেসার নিয়েও নিজের সিদ্ধান্তকে ত্রিশ মিনিট অটল থাকতে পারেননি তিনি। মুস্তাফিজু রহমান, শফিউল ইসলামকে দিয়ে নতুন বলে বোলিং শুরু করান। কিন্তু পাঁচ ওভার যেতেই মিরাজের হাতে বল তুলে দেন মুশফিক। এমন পরিকল্পনাহীন ক্রিকেট খেলার পর টেস্টটা টেনেটুনে ড্র করার স্বপ্ন দেখাটাই তো বেশি হয়ে গিয়েছিল।

বাংলাদেশ কোনো ভাবেই ৯০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার দল নয়। তারপরও কেন হল? দক্ষিণ আফ্রিকানদের অতিমানবীয় বোলিং? না, স্রেফ আমাদের ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাসের অভাব। আপনি যখন টেস্টে ক্রমাগত ‘পলায়নপর’ ক্রিকেট খেলে যাবেন, তখন কোনো ভাবেই ভাল কিছু করার আত্মবিশ্বাস ভেতরে জন্মাবে না। তারই পরিণতি দেখা গেছে পঞ্চম দিন সকালে।

১০৭ ইনিংস পর বাংলাদেশ ১০০-এর নিচে অলআউট হল। সর্বশেষ এই নজীরটা ঘটেছিল ২০০৭ সালে। সেবার জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলটি মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে যায়। ১০ বছর তিন মাস পর ফিরলো সেই দু:স্বপ্ন। টেস্টটার এরচেয়ে বাজে সমাপ্তি আর হতে পারতো না!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।