গায়ক-উপস্থাপক থেকে বলিউডের ‘পোস্টার বয়’

গায়ক থেকে উপস্থাপক, উপস্থাপক থেকে নায়ক, সেখান থেকে সুপার স্টার – আয়ুষ্মান খুড়ানার ক্যারিয়াটাকে চাইলে এভাবে বর্ণনা করা যায়। হ্যা, এর মধ্যে আছে রোডিজও।

১৭ বছর বয়সে প্রথমবারের মত দর্শকদের নজর কেড়েছিলেন আয়ুষ্মান খুড়ানা। সেবার চ্যানেল ভিতে সবচেয়ে তরুণ প্রতিযোগী হিসেবে এসেছিলেন ‘পপস্টার’ নামের একটি রিয়েলিটি শো-এ। হ্যা, গায়ক হিসেবে। ২০০৪ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে বনে যান এমটিভি রোডিজের চ্যাম্পিয়ন।

এরপরের রাস্তাটাও সহজ ছিল না। সাংবাদিকতায় পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট শেষ করেন। দিল্লীর বিগ এফএমে রেডিও জকির কাজ করেন অনেকদিন। এরপর শুরু করেন ভিডিও জকির কাজ। যোগ দেন এমটিভিতে।

দারুণ উপস্থিত বুদ্ধি ও ভূবনভোলানো হাসির কল্যানে জনপ্রিয়তা পেতে খুব বেশিদিন সময় লাগে না। এরপর সেট ম্যাক্স ও স্টার প্লাসেও অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় দেখা গেছে তাকে, প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।

কিন্তু, স্রেফ উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ারটা টেনে নিয়ে যেতে বড্ড আপত্তি ছিল তাঁর। বলিউডের স্বপ্ন দেখতেন। যদিও, টেলিভিশন থেকে বড় পর্দায় গিয়ে সফল হওয়ার নজীর ভারতে তখন ছিল না বললেই চলে!

সেই ঐতিহ্যকে বুড়ে আঙুল দেখিয়ে ২০১২ সালে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘ভিকি ডোনার’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক, প্রথম ছবিতেই সাফল্য, ভিন্নধর্মী এই ছবিতে অভিনয় করে পেয়েছেন ভূয়শী প্রশংসা। এই ছবি দিয়েই অনেক প্রতিদ্বন্দ্বীর ভিড়ে ফিল্মফেয়ারে সেরা নবাগত অভিনেতা ও সেরা গায়কের পুরস্কার ঘরে তুলেছিলেন। এরপর ‘নটাঙ্কি সালা’ কিছুটা আলোচিত হলেও, ‘হাওয়াইজাদা’, ‘বেউকুফিয়া’ – ছবিগুলো নাম লেখালো ফ্লপের খাতায়। যদিও, প্রশংসিত হয়েছিল আয়ুষ্মানের অভিনয় দক্ষতা।

অপেক্ষা ছিল আরেকটি ভালো ছবির, ‘দম লাগাকে হেইশা’, বাণিজ্যিক ভাবে সফল তো বটেই, সেরা হিন্দি ছবি সহ একাধিক শাখায় জাতীয় পুরস্কার জিতে নেয় ছবিটি, বরাবরের মত নিজেও হয়েছেন প্রশংসিত।

২০১৭ সালে ‘মেরি পেয়ারি বিন্দু’র ফ্লপ হয়। এরপর ‘বেরেলি কি বারফি’ ও ‘শুভ মঙ্গলম সাবধান’ দিয়ে বাণিজ্যিক ভাবে সফলতা, সমালোচকদের কাছেও ছবি দুটি পেয়েছে প্রশংসা।

২০১৮ সালে ‘আন্ধাধুন’ ও ‘বাধাই হো’ ছবি দু’টির আকাশ সমান সাফল্য কেবল আয়ুষ্মানকে বলিউডে আরো মোক্ষম ভাবে থিতুই করেনি, দিয়েছে সুপার স্টারের সম্মানও। প্রত্যাশা রইলো দিন দিন নিজেকে আরো বর্ণিল করে তুলবেন।

মঞ্চ নাটক, রেডিও, টেলিভিশন অত:পর চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই দ্যূতি ছড়ানো প্রতিভাবান শিল্পী তিনি। শুধু অভিনয়েই নয় সঙ্গীত ভুবনেও অনন্য। ‘পানি দা রাঙ কিংবা ‘মিট্টি দি খুশবু’ গানেও প্রতিভার আলো ছড়িয়েছেন।

তিনি একাধারে জনপ্রিয় উপস্থাপক, গায়ক ও অভিনেতা ১৯৮৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছেন। ক্যারিয়ারকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য বাকিটা সময় তো হাতে আছেই।

গৎবাঁধা নাচ-গান আর অ্যাকশনের গণ্ডি ভেঙে নিজের অন্যই একটা জগৎ তৈরি করেছেন আয়ুষ্মান। তার জগতের সিনেমাগুলো অনেক নিরাশার মাঝেও একটা সামাজিক বার্তা বহন করে। তাই ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেছেন মধ্যবিত্তের পোস্টার বয়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।