খুনীরা কে কোথায়?

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দ্বণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা হয় গত ২০১০ সালের ২৮ জুন। ইতিহাসের জঘন্যতম ও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ঘাতকদের দণ্ড কার্যকর করা হয়।

সেই পাঁচ জন হলেন বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং ল্যান্সার একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ। এর মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করলেও সেটা নাকোচ হয়ে যায়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরো ছয় আসামি এখনো পলাতক আছেন। তাঁরা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ, রিসালদার মোসলেমউদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। তাদের গ্রেফতারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে। আরেক আসামি আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে ২০০২ সালে মারা যান।

পলাতক ছয়জনের মধ্যে দু’জনের অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে। নূর চৌধুরী আছেন কানাডায়। এ এম রাশেদ চৌধুরী আছেন আমেরিকায়। নয়া দিল্লী নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আব্দুল মাজেদ কিংবা মোসলেমউদ্দিনদের কেউ ভারতে পালিয়ে নেই। গুঞ্জন আছে, মোসলেমউদ্দিন আমেরিকারই কোথাও লুকিয়ে আছেন। তবে, সেটার সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

বঙ্গবন্ধুর ‘আত্মস্বীকৃত’ খুনী এ এম রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় পালিয়ে গিয়ে পলিটিক্যাল আসাইলাম নিয়ে নেন। তিনি এখন ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন। অ্যাসাইলাম নিশ্চিত হওয়ার আগেই বাংলাদেশ সরকার রাশেদকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র সেই আবেদন নাকোচ করে দেয়। ওয়াশিংটন ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশকে রাশেদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করলেও এখনো অ্যাসাইলাম পাননি। তবে, কানাডিয়ান আইন অনুযায়ী মৃত্যু দণ্ডাদেশ নিষিদ্ধ বলে দেশটির সরকার এখনও নূরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়নি। কেউ কেউ দাবী করেন লিবিয়া ও কেনিয়ায় রশিদের ব্যবসা আছে। তবে, কেনিয়ার সরকার সেটা নিশ্চিত করতে পারেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে খন্দকার আবদুর রশিদ ও শরিফুল হক ডালিমের ব্যাপারে সুনিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

এর আগে, ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে ২৪ জনকে আসামি করা হয়। তখন থেকেই ফারুক রহমান, শাহরিয়ার রশিদ খান ও মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করে কারাগারে রাখা হয়। ১৯৯৮ সালে অপর আসামি বজলুল হুদাকে গ্রেফতার করে কনডেম সেলে আনা হয়। সর্বশেষ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পলাতক অপর খুনি একেএম মহিউদ্দিন ল্যান্সারকে আমেরিকা থেকে গ্রেফতার করে তাকেও ঢাকার কারাগারে রাখা হয়। এরপর থেকেই তারা কারাগারের কনডেম সেলে ছিলেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।