খান সাহেবের ব্যাটে দিন বদলের গান

গুনে গুনে তামিম ৬০০০ রান পূর্ন করলেন। একটা দুইটা বছর নয়, ১১ টা বছর পর্যন্ত তামিমকে অপেক্ষা করতে হয়েছে এই মাইলফলক স্পর্শ করতে। সেই কাঁচা তামিম থেকে পরিপক্ক তামিম আজ তাঁর নামের প্রতি যথাযত সুবিচার করে চলেছেন।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ১৭৭ টি ওয়ানডে খেলে ১৭৫ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে এই ছয় হাজারি ক্লাবে পৌঁছলেন তামিম। অথচ শুরুর দিকে তাকে যথেষ্ট স্ট্রাগল করতে হয়েছে। এমনকি ৪ বছর আগেও তাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। সেটা এখন ইতিহাস। ওগুলো সকল প্রশংসার চাদরে এখন ঢাকা পড়েছে। সেটা হয়তো কেউই এখন মনে করেনা। কিন্তু আজ মনে করবার পালা।

১০০০ রান

তামিম তার প্রথম ১০০০ রান করতে সময়ে নিয়েছিলেন দেড় বছর। খেলেছিলেন ৩৭ ম্যাচ। শুরুতে একটু বেশি পরিমাণ ম্যাচ পাওয়ায় দেড় বছরের ভিতরেই তিনি এক হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেন। ২৮ জুন ২০০৮ সালে লাহোরে ভারতের বিপক্ষে ১০০০ রানের মাইলফলকে পৌছে যান তিনি। সেদিন তার গড় ছিল কত জানেন? ২৭.৮৯! ওই ৩৭ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি ছিল সাতটি ও একটি সেঞ্চুরি ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৯।

২০০০ রান

১১ জানুয়ারি ২০১০। ত্রিদেশীয় সিরিজে সেই ভারতের বিপক্ষে ২০০০ রানে পা রাখেন তামিম। ২০০০ রান করতে তামিমকে খেলতে হয়েছিল ৭০ টি ম্যাচ যার গড় ছিল আগের চেয়ে একটু বেশি, ২৮.৬০! আর ১০০০ থেকে ২০০০ রানে পৌছাতে তামিম খেলেছিলেন ৩৩ টি ম্যাচ। ওই ৩৩ ম্যাচে অবশ্য তামিমের গড় ছিল ৩০.৩৫। যার ভিতরে ছিল পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি ও ১ টি সেঞ্চুরী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (১৫৪)।

৩০০০ রান

১৯ আগস্ট ২০১১, প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। পৌছে গেলেন দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৩০০০ রানের ক্লাবে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তিন হাজার রান করার ম্যাচ শেষে তামিমের সংগ্রহ দাড়ায় ১০২ ম্যাচে ৩০০৮ রান, গড় ২৯.৩৯। দুই হাজার থেকে তিন হাজারে পৌছাতে খেলতে হয়েছিল ৩২ ম্যাচ যার ভিতরে ছয়টি হাফ সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি ছিল। তবে ওই ৩২ ম্যাচে তার গড় ছিল আগের তুলনায় বেশি, ৩১.৪৩।

৪০০০ রান

বিশ্বকাপের স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ করে আউট হলেন তামিম। ৫ মার্চ ২০১৫। সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না। তবে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম। ম্যাচ শেষে তামিমের ১৩৮ ম্যাচে ৪০৮৫ রানের মালিক, যার গড় ৩০.০৩। ৩০০৮ থেকে ৪০৮৫ তে পৌছাতে তামিমকে খেলতে হয়েছিল ৩৬ ম্যাচ! এই ৩৬ ম্যাচের ভিতরে ছিল নয়টা হাফ সেঞ্চুরি  ও একটা সেঞ্চুরি যার ব্যাটিং গড় ৩১.৭৬। তিন হাজার থেকে চার হাজারে পৌঁছতে তামিমের সময় লেগেছিল সাড়ে তিন বছরেরও বেশি।

৫০০০ রান

এখান থেকে কিছু স্বপ্ন শুরু। ১২ অক্টোবর ২০১৬, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তামিম তুলে নিলেন ৫০০০ ওয়ানডে রান। ম্যাচ শেষে ১৫৯ ম্যাচে ৩২.৩০ গড়ে ৫০০৭ রান। নামের পাশে সাত সেঞ্চুরী ও ৩২ টি হাফ সেঞ্চুরি। চার হাজার থেকে পাঁচ হাজারে পৌছাতে তামিম খেলেন মাত্র ২১ ম্যাচ, যেখানে তাঁর গড় ছিল ৪৮.৫২। এর মধ্যে ছিল তিন টি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি।

৬০০০ রান

এবার পূর্ন হলো তামিমের ছয় হাজার রান। ১৭৭ ম্যাচের ১৭৫ ইনিংস। দিনশেষে গড় ৩৫.৩৫। সাথে আছে নয় সেঞ্চুরি ও ৪১টা ফিফটি। এটা খুব গর্বের সাথেই বলতে হয় ৫০০৭ রান থেকে ৬০১০ রানে আসতে তামিমকে খেলতে হয়েছে মাত্র ১৮ ম্যাচের ১৭ ইনিংস! আর এই ১৭ ম্যাচে তার গড় কত জানেন? ৬৬.৮৬! এর মধ্যে করেছেন দু’টি সেঞ্চুরি আটটি হাফ সেঞ্চুরি।

বদলে যাওয়া তামিম

* প্রথম ১০০০ রান ৩৭ ইনিংসে, গড় ২৭.৮৯

* দ্বিতীয় ১০০০ রান ৩৩ ইনিংসে, গড় ৩০.৩৫

* তৃতীয় ১০০০ রান ৩২ ইনিংসে, গড় ৩১.৪৩

* চতুর্থ ১০০০ রান ৩৫ ইনিংসে, গড় ৩১.৭৬

* পঞ্চম ১০০০ রান ২১ ইনিংসে, গড় ৪৮.৫২

* ষষ্ঠ ১০০০ রান ১৭ ইনিংসে, গড় ৬৬.৮৬

ধাপে ধাপে তামিম কতটা পরিপূর্ণ হয়েছে সেটা এখানে চোখ বুলালেই বুঝতে পারবেন। তামিম নি:সন্দেহে আগের চেয়ে নিজেকে অনেকটাই পাল্টে ফেলেছেন, হয়ে উঠেছেন আরো পরিণত।

আরো এগিয়ে যান, তামিম ইকবাল খান!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।