ক্রিকেট ইজ জাস্ট আ গেম

‘ক্রিকেট ইজ জাস্ট আ গেম’। হ্যাঁ, খেলাই বটে।

এশিয়া কাপ ফাইনালে হারের পর মুশফিকের কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার ছবি আছে, সাকিবের কাঁদবো-না-কাঁদবো-না-কিন্তু-সামলাতে-পারি-না ধরনের ছবি আছে। তারও আছে একটা ছবি, মাঠের এককোণে বসে পড়েছেন, সেই মাঠে একটু আগে যা ঘটে গেছে, তাতে ধাতস্থ হচ্ছেন যেন। তিনি কি কাঁদছিলেন? ক্রিকেট একটা খেলাই তো!

ব্রেন্ডন টেইলরের কাঁদার ছবিটাও আছে। বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে ম্যাচটাই ছিল টেইলরের ‘শেষ’। কলপ্যাকে নটিংহ্যামশায়ারে খেলতে যাবেন, জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে বাধ্য করেছিল দেশের হয়ে খেলার সুযোগটা ছাড়তে। সেই টেইলর জিম্বাবুয়ে ফিরেছেন, সামনেই খেলবেন তাদের হয়ে। আজ লোগান কাপে আগমনী বার্তাও জানিয়েছেন সেঞ্চুরি করে। আজ থেকে ১১ বছর আগে টেইলর যখন সেই ফুলটস বলটা মিডউইকেট দিয়ে ছয় মেরেছিলেন ম্যাচের শেষ বলে, এরপরের একটা ছবি আছে। টেইলর সঙ্গী ব্লেসিং মাহওয়্যারের কোলে চড়ে বসেছেন, আর তিনি জার্সিটা মাথা পর্যন্ত টেনে তুলে হাঁটছেন। নাহ, এরপরও তার ক্রিকেট ফুরিয়ে যায়নি, জীবনও না।

অথবা সেই অ্যাডিলেড ওভালে। ‘হ্যাপি’ রুবেল উড়লেন, আর তিনি এপাশে শুয়ে পড়লেন, হারিয়ে যেতে চাইলেন সবুজে। গোটা দল ঝাঁপিয়ে পড়লো তার ওপর, কতো হাজার মাইল দূরে লাফিয়ে উঠলো কতোজন, হয়তো কোনও এক ড্রয়িংরুমে কেঁদে দিল কেউ। ম্যাচের চাপে, নাকি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার উচ্ছ্বাসে, নাকি তার ওপরে গোটা দলের এভাবে ভর করা দেখে! এখনও ছবিটা স্পষ্ট, মাথায় লাল-সবুজের স্কার্ফটাও। ক্রিকেট, একটা খেলাই তো!

অথবা টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়ে। আকাশপানে তাকিয়ে যে ছবিটা, সে ছবিতে অপলক তাকিয়ে, আকাশের গায়ে কান পেতেও হয়তো কেউ বলে, এই লোকটা আদতেই নিতান্ত একজন ক্রিকেটার? নিতান্ত একটা দলের অধিনায়ক?

‘করে, অবশ্যই করে। সবারই ইচ্ছা করে বাঁচতে। আমারও করে খুব। আমার লাইফস্টাইল দেখে অনেকের এটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। কারণ জীবনভর দুরন্তপনা করেছি, ঝুঁকির সঙ্গে বসবাস।’, শুধুই তার বাঁচতে ইচ্ছা করে? ক্রিকেট খেলতে ইচ্ছা করে না? করে তো বটেই। নাহলে কেন ফিরে আসেন বারবার, কেন লাল বলের একটা ম্যাচ খেলতে আকুলিবিকুলি করেন? করেন আট ওভারের টানা স্পেল? ঝুঁকি নেন দিনের পর দিন, যে ক্রিকেট তাকে পঙ্গু করে দিতে পারে জেনেও খেলে যান অবিরাম!

হুট করেই নাকি অবসর নেবেন, নাকি কেন, টি-টোয়েন্টিতেই তো দেখিয়েছেন সেটা। জীবনটাও কি এমন নয়, হুট করেই শেষ হয়ে যায় যার সব!

‘আমার দেশের হাজারটা সমস্যা আছে, তবু শ্বাস নিয়ে শান্তি পাই। বাইরে থেকে দেশে ফিরে প্রথম পা দেওয়া মাত্রই মনে হয় শান্তিতে ভরে যায় ভেতরটা। এখানে সব কিছু আমার নিজের!’

সেই ‘নিজের’ দেশে একটা খেলা আছে, জানেন তো? একটা দল আছে, তার একজন অধিনায়ক আছেন। আর আছে অনেক অনেক ছবি। সে ছবিগুলো সেই নিতান্ত খেলাটার। তবুও কেন জানি সেই ছবিগুলো এরপর হয়ে ওঠে জীবনের। যেমন, আপনি, ‘ক্রিকেট ইজ জাস্ট আ গেম’ বলা মানুষটা হয়ে ওঠেন জীবনের অংশ।

শুভ জন্মদিন, ম্যাশ। শুভ জন্মদিন, অধিনায়ক। একদিন পরে হলেও অনেক অনেক শুভকামণা।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।