ক্রিকেটাররা কি খান? কেন খান?

ক্রিকেটের শুরুর দিককার দিনগুলোয় ক্রিকেটাররা খেলা শুরুর আগে দু ঢোঁক বিয়ার গিলে খেলতে নামতেন, লাঞ্চে খেতেন গোটা দুয়েক প্রমাণ সাইজের স্যান্ডউইচ, পর্ক পাই আর কেক। বিকেলেও অনেকটা একই থাকতো মেন্যুর চেহারা, আর সন্ধ্যায় তারা বেরিয়ে পড়তেন স্থানীয় কোনো রেস্টুরেন্টের উদ্দেশ্যে।

গ্যারি সোবার্স প্রায়ই মাঝরাতে এক বোতল হুইস্কি গিলে এক দান তাস খেলে হোটেলে ফিরতেন ম্যাচের দিন। তার উপনামটা মাঝরাতের হোটেলে ফেরার সময়ে তার শারীরিক অবস্থার কথাই জানান দেয়, ‘সোবার’!

ক্রিকেটারদের খাদ্যাভ্যাস এমন হবারই কথা ছিলো, কেননা খেলাটাই ছিলো ইংরেজদের আবিষ্কার করা। বিরতিগুলো এমন সময়েই ছকে ফেলা হয়েছিলো যেমন সময়ে সাধারণত ইংল্যান্ডের কোনো ঘরে খাবার গ্রহণ করা হয়। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, চা বিরতি, ডিনার আর সন্ধ্যায় হয়তো কয়েক রাউন্ড মদ এই…

খেলোয়াড় আর দর্শকদের জন্য খাদ্য আর পানীয় ক্রিকেট সংস্কৃতির এক অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সেসব দিনে এক বা একাধিক কেক একজন ব্যাটসম্যানের ফুটওয়ার্কে তেমন পার্থক্য গড়ে দিতো না, যদিও ব্যাটসম্যান চকিতেই একটা কভার ড্রাইভ খেলে সে যাত্রায় তার দুর্বলতাটাকে ঢেকে দিতেন। যদি একজন বোলার রাতভর মদের নেশায় চুর হয়ে থেকে সকালের খেলায় ডিহাইড্রেটেড হয়ে যেতেন, তাকে সোজা ফাইন লেগে ঠেলে দেয়া হতো যেখানে গ্যালারী থেকে বল ফেরত পাবার অপেক্ষা ছাড়া আর কিছুই করার থাকতো না তাদের।

এখনকার দিনে ক্রিকেট একটা বড় ব্যবসা। মিস ফিল্ডিং করে আউটফিল্ডের দিকে চেয়ে চেয়ে দেখা এখন এক অমার্জনীয় অপরাধ। খেলোয়াড়দের এখন ব্যাটসম্যান আর বোলার হবার পাশাপাশি এথলেটও হতে হয়। রাতে খাওয়া কিছুর প্রভাব যদি সকালের খেলায় পড়ে তবে দলে নিজের জায়গা হারানোর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এখন।

১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ খেলতে এসে উপমহাদেশে এসব নিয়ে এসেছিলেন অ্যালেক স্টুয়ার্ট

আজকালকার দিনে আন্তর্জাতিক দলগুলো দলে আর সব কোচিং স্টাফের সাথে একজন পুষ্টিবিদও রাখেন যাতে করে তারা খেলোয়াড়দের খাবারদাবারের দিকটা খেয়াল রাখতে পারেন। ইংল্যান্ডের পারফরমেন্স নিউট্রিশনিস্ট ক্রিস রোজিমাসের মতে এ কাজটা আদতে বৈধ উপায়ে পারফরমেন্স বর্ধনকারী পুষ্টিকর খাবার ঠিক করে দেয়া, সসেজ রোল আর স্যান্ডউইচ গেলানোর বৈধতা প্রদান করা নয়। তিনি আরো বলেন সসেজ রোল আর স্যান্ডউইচের কোনো প্রকারের পারফরমেন্স ভ্যালুই নেই।

তার মতে বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের মতামত ছাড়া খেলোয়াড়রা খুব সহজেই আন্তর্জালে ভেসে বেড়ানো বিভিন্ন উটকো পুষ্টি বিষয়ক তথ্যে বিভ্রান্ত হতে পারেন।

কয়েক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার টিম ডক্টর পিটার ব্রুকনার অস্ট্রেলিয়ার ডায়েট চার্টে হাই ফ্যাট আর লো কার্বোহাইড্রেট খাবার জুড়ে দেন, তিনি বিশ্বাস করতেন এটা খেলোয়াড়দের ক্ষুধা কমিয়ে দেয়, আর এনার্জি লেভেল ধারাবাহিক রাখতে সহায়তা করে। এখন অস্ট্রেলিয়ার লিড স্পোর্টস পারফরমেন্স ডায়েটিশিয়ান মিশেল কোর্টের পরামর্শ অনুসারে খেলোয়াড়দের ডায়েট ঠিক করা হয় অনুশীলন আর ম্যাচডের প্রয়োজনানুসারে। ‘এর মানে ভালো পারফরমেন্সের অনুকূল স্বাস্থ্যলাভের জন্য সকল পুষ্টিমানকে সমন্বয় করা’, মিশেল বলেন।

রোজিমাসও মনে করেন এলিট ক্রিকেটারদের বৈচিত্রপূর্ণ অথচ নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া উচিত। ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ভেন্যুগুলোতে তাই দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয় সে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনেই, যেখানে কিনোয়া, কুশকুশ, বাসমতি চালের ভাত, মিষ্টি আলু কার্বোহাইড্রেটের যোগান দেয়। আর প্রোটিনের যোগান দেয় মুরগি, মাছের মতো সহজপাচ্য কিছু খাবার যা কিনা মাসল ব্রেকডাউন রুখতে সহায়তা করে। বাদাম, দই, অ্যাভোকাডোর মতো ভালো মানসম্পন্ন ফ্যাট থাকে, আরো থাকে বেরি, সবজি আর সালাদের মতো এন্টিঅক্সিডেন্টও যা কিনা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আর অবসন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করে।

একই রকম খাবারের দেখা অস্ট্রেলিয়ান লাঞ্চ রুমগুলোতেও মিলে টেস্ট কিংবা ওয়ানডে ম্যাচের সময়, কিন্তু কর্টের পরামর্শ অনুসারে সেখানে স্মুদি, স্যান্ডউইচের মতো হালকা খাবারও যোগ করা হয়।

রোজিমাস এবং কর্ট দুজনেই নিজ নিজ বোর্ডের পুরুষ এবং মহিলা দলের ডায়েট নজরদারিতে রাখেন, সাথে আবার বোর্ডের অধীনে থাকা পারফরমেন্স এবং ডেভেলপমেন্ট দলের দায়িত্ব তাদের ঘাড়েই বর্তায়। তবে তাদের এ দায়িত্ব খন্ডকালীন। রোজিমাস ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে লিচেস্টার সিটির ডায়েটিশিয়ানের দায়িত্ব পালন করেন। কর্টও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব পালনের সময়ে অস্ট্রেলিয়া সেইলিং এবং জিলং ক্যাটস এএফএল দলের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

দুই পুষ্টিবিদের কেউই এখন দলের সাথে সফরে সামিল হন না। রোজিমাস ইংল্যান্ডের হয়ে তার চাকরির শুরুর দিকে ইংল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড লায়ন্সের সাথে সফরে যেতেন, সেই ছয় বছর আগে।

‘পুষ্টিকে আমরা বেশি অগ্রাধিকার দেইনি বরং আমরা চাচ্ছিলাম খাবারের মান উন্নত করতে’ রোজিমাসের অভিমত, ‘এখন আমাকে সব সময় দলের সাথে থাকতে হয়না কারণ আমরা এমন এক প্রক্রিয়া চালু করেছি যাতে করে দেশে এবং দেশের বাইরেও তা কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।’

দৈনিক খাদ্যতালিকাগত ব্যাপারগুলো স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচের মাধ্যমে যিনি দলের সাথে সফরে যাতায়াত করেন। ক্রিস ডোনাল্ডসন একজন সাবেক অলিম্পিক স্প্রিন্টার, বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ডের স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ যিনি কিনা ব্ল্যাকক্যাপদের খাদ্য এবং পানীয় নজরদারিতে রাখেন। তিনি যখন নিউজিল্যান্ডের হয়ে কাজ করা শুরু করেন তখন দলে কোনো অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ ছিলেন না।

তিনি বলেন, ‘আমার দায়িত্ব ছিলো খেলোয়াড়দের খাবার দাবারের ব্যাপারে সচেতন করা, আমরা যা জানি তাদের তা জানানো, কি খেতে হবে, কি খাওয়া যাবেনা তার ব্যাপারে অবগত করা।“ এখন তার কাজ প্রধানত ট্রেইনিং ক্যাম্পে, এবং বাকি সময়ে খেলোয়াড়দেরর সাথে তাদের ডায়েট নিয়ে কিছু পারসোনাল সেশন।

ডোনাল্ডসন মনে করেন না এখনো খেলোয়াড়দের তেমন মাইক্রোম্যানেজিংয়ের প্রয়োজন পড়ে, ‘প্রায় সবাইই জানে তাদের খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে যত্নবান থাকতে হবে। যার কারণে তারা উটকো খাবারের প্রতি তেমন আসক্ত নন।’

কিন্তু খেলোয়াড়রা খাদ্যাভ্যাসের প্রতি যত্নবান এবং যথেষ্ট অবগত হওয়া সত্বেও চার-পাঁচটা ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যানে কাজ করার কারণে একজন ক্রিকেট পুষ্টিবিদের কাজটা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং।

যেমন ধরুন, একজন খেলোয়াড় যার শক্তির চাহিদা তেমন নেই, যেমন একজন স্পিনারের, তার কার্বোহাইড্রেট কম লাগে কিন্তু মান সম্পন্ন প্রোটিন লাগে বেশি, সাথে সাথে কিছু এন্টিঅক্সিডেন্টও। পক্ষান্তরে ফাস্ট বোলারদের একটা লম্বা সময় ধরে আঁটসাঁট বোলিং করার জন্য এসবের সাথে কিছু লো ক্যালরি স্পোর্টস ড্রিংকও লাগে।

কর্ট বলেন অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়দের প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা ডায়েট প্ল্যান আছে। রোজিমাস তার দলের অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘কিছু কিছু খেলোয়াড়ের জন্য শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হয়, বাকিদেরকে স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হয়।’

ন্যান্দুজ থেকে খাবার এনে খেতে দেখা গেছে বিরাটদের।

পুষ্টির ব্যাপারটা ধ্রুব কোনো ব্যাপার নয়, এখানে খেলোয়াড়দের শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী ডায়েট প্ল্যান বদলায়। ডোনাল্ডসন এক নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটারের উদাহরণ টেনে বলেন তার শুধু ওজন বাড়লেই পারফরমেন্স খারাপ হয়না, ওজন কমলেও সমানভাবে পারফরমেন্সে প্রভাব পড়ে।

‘খেলোয়াড়টির ওজন যদি হঠাৎ করে নেমে যায় তাহলে তিনি মাংসপেশির ভারসাম্য হারান ফলশ্রুতিতে শক্তিও কমে হুহু করে। তাই যখন কোনো খেলোয়াড়দের ওজন কমানোর প্রয়োজন হয় তাকে আমরা ক্র্যাশ ডায়েটের পরামর্শ দেই না। আমরা ধীরে ধীরে, ব্যায়ামের মাধ্যমে কিংবা খাদ্যের ধরন পাল্টে এটা ঘটাই।’

আরেক ব্ল্যাক ক্যাপের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনি একেবারে রোগা, কন্ডিশন পরিবর্তনের কারণে মাঝেমধ্যেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। কাজের চাপ, ট্রেইনিংয়েও প্রায়ই এমন ঘটে। তার প্রয়োজন রিকভারি ড্রিংক এবং ট্রেইনিং পরবর্তী বিশেষ খাবারের যাতে করে তার খুব বেশি শক্তি খরচ না হয় এবং মাংসপেশিতে টান না পড়ে। এসব প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েই তাকে তার দুর্বলতাকে জয় করতে হবে।’

কখনো কখনো খেলোয়াড়রা একেবারেই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেন। ম্যাককালাম যখন ২০১৪ সালে ভারতের বিপক্ষে ৩০২ রানের অনবদ্য ইনিংসটি খেলেন তখন তিনি খেলায় এতোটাই মনোনিবেশ করে ফেলেছিলেন যে তিনি টানা দুইদিন ধরে কিছু খাননি।

ফরম্যাট আর আবহাওয়ার ধরনে পার্থক্যের কারণেও খেলোয়াড়দের খাবারে পরিবর্তন আসে হরহামেশাই। প্রচণ্ড গরমে তরল খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয় তাদের। আবার রাত সাড়ে এগারোটায় যখন একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ হয় তখন ভালো মানের খাবার পাওয়া দুষ্কর। তাই দলের পুষ্টিবিদ তখন কাছেপিঠেই প্রচুর প্রোটিন আর এন্টিঅক্সিডেন্ট দিয়ে সাজানো একটা বুফের আয়োজন করেন যাতে করে খরচ হওয়া শক্তিগুলো খুব তাড়াতাড়ি ফিরে পাওয়া যায়।

রোজিমাস, কর্ট এবং ডোনাল্ডসন তিনজনই এটা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, দল যখন সফরে থাকে কিংবা খেলোয়াড়রা যখন বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে বাইরে থাকে তখনও তাদের ঠিক খাবারটা নিশ্চিত করা একটা চ্যালেঞ্জ। তারা তখন সর্বোচ্চ চেষ্টা হিসেবে স্থানীয় শেফদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের মেন্যু পাটাহতে পারেন। কিন্তু লাঞ্চ কিংবা ডিনার টেবিলে কি আসে তা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরেই থেকে যায়।

সেকাল বনাম একাল: তখন ফ্রেড ট্রুম্যানের হাতে বিয়ার থাকলেও এখন ওয়ার্নারদের হাতে থাকে এনার্জি ড্রিংক।

দেশের বাইরে দলের সম্পূরক খাবারের ঠিকঠাক দেখাশোনা করাও খুব সহজ কাজ নয়। ‘বাইরে সম্পূরক খাবার সুনিয়ন্ত্রিত নয়।’ ডোনাল্ডসন বলেন, ‘সমস্যাটা খাবারটাতে নয়, উপাদানে; খাবারটা কোনো নিষিদ্ধ উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকতে পারে যা মোড়কে লেখা থাকবেনা অবশ্যই। আর তাহলে কোচ ট্রেইনারের পক্ষেও জানা সম্ভব নয় তারা খেলোয়াড়দের কি খাওয়াচ্ছেন।’

খেলোয়াড়দের সম্পূরক খাবারের প্রেসক্রিপশন দেয়ার আগে তারা কোম্পানিতে যান এবং দেখেন খাবার গুলো কি উপাদান দিয়ে তৈরি এবং তা পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যসম্মত ছিলো কিনা। রোজিমাস বলেন, ‘সম্পূরক খাদ্য সাধারণত প্রমান-ভিত্তিক হওয়া উচিত চটকদার কিছু নয়! এবং তা অতি অবশ্যই খেলোয়াড়দের শারিরীক চাহিদা মোতাবেক হওয়া উচিত।’

তিনি প্রোটিন বার এবং শেইক ব্যবহার করেন খেলোয়াড়দের মাংসপেশিতে টান পড়া এড়াতে। চেরি জুস খাওয়ান এন্টিঅক্সিদেন্ট সরবরাহ করার জন্য যা কিনা শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করে আবার এতে থাকা মেলাটোনিন ভালো ঘুমের নিশ্চয়তা দেয়।

আধুনিক যুগের খেলোয়াড়রা জানেন তাদের কখন কি খেতে হবে, কিন্তু কেউ কেউ আবার আরেক কাঠি সরেস। তারা অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে অনেক বেশি জানেন। মিডলসেক্সের ব্যাটসম্যান ফ্র্যান উইলসন তার স্নাতকোত্তর কোর্স করেছেন স্পোর্টস এন্ড এক্সারসাইজ নিউট্রিশনের উপর।

‘নিয়মিত অস্বাস্থ্যকর খাবার আপনার শরীরে খুব বাজে প্রভাব ফেলে’, উইলসন বলেন। কিন্তু তিনি এসব পুরোপুরি পরিহারের ঘোর বিরোধী, ‘খেলাটার সামাজিক দিকটা হচ্ছে সে দিক যার মাধ্যমেই ক্রিকেট পূর্ণতা লাভ করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ পানাহার পছন্দ করে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হচ্ছে ভালো খাওয়ার অভ্যাসটাকে একটা বড় সময় নিয়ে উন্নত করা। শুধু খেলার জন্য নয়, নিজের জন্য কোন খাবারটা উপকারী তা খুঁজে বের করা।’

কিন্তু এখানে উভয়সঙ্কট আছে। ক্রিকেট এমন বিরল কিছু খেলার মধ্যে একটা যাতে শারিরীক গড়ন ঠিকঠাক না হলেও খেলা চালিয়ে যাওয়া যায়। শেন ওয়ার্ন, ইনজামাম উল হক, বিরেন্দ্র শেবাগ, সুরেশ রায়না এ লিস্টের সর্বশেষ সংযোজন। এর আগে প্রায় প্রত্যেকটা দলেরই স্থানীয় রেস্টুরেন্টে শেয়ার থাকতো। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান গ্যারি কোজিয়ার গ্যারি গিলমোরের সাথে সত্তরের দশকে অস্ট্রেলিয়া দলে খেলেছেন। কিন্তু তিনি কখনোই দলে ছিমছাম গড়নের কেউ ছিলেন না।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আড্ডায় ভুড়িভোজ।

তিনি জানান, সে সময়ে খেলোয়াড়রা খাদ্যাভ্যাসের দিকে তেমন মনোযোগই দিতেন না, ‘অ্যাডিলেড ওভালের সসেজ রোল ছিলো সবার সেরা, গ্যাবায় লাঞ্চে দেয়া হতো মাছ আর চিপস। গ্রেগ চ্যপেল ডায়েট করতেন, ডেনিস লিলি পিঠের ইনজুরি থেকে ফেরার পরে খাদ্যসচেতন হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু এর বাইরে বাকিরা সবাই যার যার ইচ্ছেমতো খাওয়া দাওয়া করতো।’

ব্যাপারটা এমন না যে আধুনিক ক্রিকেটাররা তাদের ইচ্ছাকে একেবারে মাটিচাপা দিয়ে দেন, ‘আধুনিক ক্রিকেটাররা খাওয়া দাওয়ার বেলায় তাদের সীমাবদ্ধতাটা জানেন এবং কঠোরভাবে মানেন। এর বাইরেও তারা নিজেদেরকে উপভোগ করার অবকাশটুকু পান। তারা ট্রেইনিংয়ে ঘাম ঝরান, মাঠে তাদের সামর্থ্যের একশভাগ ঢেলে দেন। ডিনারের পরে এক গ্লাস বিয়ার তাদের পারফরমেন্সে যতি বসাতে পারবেনা। বরঞ্চ, এটা তাদের উপভোগ্য জীবনযাপনের জন্য অতীব জরুরী।’ ডোনাল্ডসন বলেন।

পিট সাম্প্রাস তার ‘এ লেটার টু হিস সিক্সটিন ইয়ার্স ওল্ড সেলফ’ বই-এ বলেন, ‘নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটির যত্ন নিতে ভুলোনা, তা হচ্ছে তোমার শরীর। নিজের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সাবধান থাকো। ম্যাচের আগের রাতে হুট করে তোমার ঘুম ভেঙে যেতে পারে, একটা পিজা খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতেই পারে। কারণ তোমার শরীর কিছুর শূন্যতা অনুভব করছে। যদি তুমি এসবকে এড়িয়ে যাও, শরীরের চাহিদা না বুঝো তাহলে পরের দিনের ম্যাচে তোমার শোচনীয় হার কেউ ঠেকাতে পারবেনা।’

২০১৪ সালের ইংল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচের আগে ভারতীয় দলের কয়েকজনকে ম্যাকডোনাল্ডস আর ন্যান্দুজে দেখা যায়। এর আগে ভারত সিরিজে ৩-০ এগিয়ে ছিলো, এক ম্যাচ বাকি থাতেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলো তাদের। কিন্তু সে ম্যাচে ইংল্যান্ডের দেয়া ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শিখর ধাওয়ান, রায়না আর বিরাট কোহলি ব্যাট থেকে আসে ৮৮ বলে মাত্র ৬২ রান, ফলশ্রুতিতে ভারত বিপাকে পড়ে।

কি ছিলো এর পেছনের কারণ? ডেড রাবার সিন্ড্রোম? নাকি ডায়েটের গোলমাল? যাই হোক, শেষমেশ পাইন নাট সালাদ, কুইনো, প্রোটিন শেইক আর চেরি জুস খাওয়া ইংলিশরা সেদিন ৪১ রানে ম্যাচটা জিতে মুখ রক্ষা করতে সক্ষম হয়।

– ইএসপিএন ক্রিকইনফো অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।