‘বিরাট’ ইগোর লড়াই

জেসন হোল্ডারের গতি ১৩০ কিমির আশেপাশে। নুয়ান প্রদীপ মাঝেমধ্যে ১৪০ স্পর্শ করেন। তবে বেশির ভাগ সময় ১৩৫ কিমির আশেপাশে। দু’জনই বাউন্সারে ফেরালেন বিরাট কোহলিকে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজে ওয়ানডে সিরিজে টানা দুই ম্যাচে কোহলিকে শর্ট বলে আউট করেছিলেন হোল্ডার। শুধু আউট করাই নয়, আউটের আগে হোল্ডার, মিগুয়েল কামিন্স, আলজারি জোসেফরা শর্ট বলে খানিকটা ভুগিয়েছেন কোহলিকে।

গলে আজকে শুরুতেই শর্ট বলে কোহলিকে ফেরালেন প্রদীপ। হুক মতো করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড।

এমন নয় যে শর্ট বলে তার দুর্বলতা আছে। বরং বেশ ভালো খেলেন। পুল-হুক দারুণ খেলেন, বল ছাড়েনও ভালোই। অস্ট্রেলিয়ায় আট টেস্টে পাঁচ সেঞ্চুরি, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টে একটি সেঞ্চুরি, একটি ফিফটি। পুল-হুক ভালো খেলেন বলেই।

এমনিতে পুল-হুক যারা ভালো খেলেন, স্লো উইকেটের চেয়ে এই দুই শট তারা অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি ভালো খেলেন। কারণ ওখানে উইকেট ট্রু, বাউন্স খুব ইভেন, উইকেটের গতি একইরকম। শ্রীলঙ্কা বা এখনকার ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনেক সময়ই উইকেট টু পেসড থাকে, বাউন্স ইভেন না। পুল-হুক কঠিন হয়ে যায়। সব মাথায় রাখলেও অল্প কদিনের মধ্যে কোহলির এভাবে কয়েকবার আউট ও ভোগান্তি বেশ কৌতুহল জাগানিয়া।

যে শট প্রচুর রান এনে দেয়, সেই শটে বেশি আউট হওয়াটা অবশ্য অনেক অনেক দেখেছে ক্রিকেট। আর কোহলি এমনিতেও কম্পালসিভ হুকার-পুলার। শর্ট বলে এসব শট তার সহজাত ভাবেই চলে আসে। বেশি বেশি খেললে আউট হওয়ার শঙ্কাও থাকে।

ইগোর ব্যাপারও থাকতে পারে। তার মতো অ্যাটিটিউডের ব্যাটসম্যান বোলারের ডমিনেশন মেনে নেয় না, নিজে ডমিনেট করতে চায়। ব্যক্তিগত লড়াই জিততে চায়, প্রতিপক্ষকে বার্তা দিতে চায়। এটা একটা কারণ হতে পারে। কিন্তু ক্রিকেট খেলাটা বলে, যত বড় ব্যাটসম্যানই হও, কিছু সময়, কিছু পরিস্থিতি, কিছু মুহূর্ত, কখনও বা একটি-দুটি সেশন, মাথা নিচু করে, দাঁত কামড়ে থাকতে হয়, নিজের সঙ্গে আপোস করতে হয়, বোলারকে উপহার দিতে হয়। ইগোর লড়াইয়ে এই হারটা আসলে জয়ের পথই তৈরি করে দেয়। হতে পারে, কোহলি আপাতত সেই হারটা মানতে রাজী নন।

সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা যেটির, পুল-হুক শটে কোহলি এত বেশি রান করেছেন যে, এটিকে তিনি স্কোরিং অপশন হিসেবেই দেখেন। রান করার সুযোগ। যেহেতু খুব ভালো খেলেন এই শট। তিনি যে ঘরানার ব্যটসম্যান, রান করার একটি সুযোগও ছাড়তে চাইবেন না। এখানেও চলে আসে ওপরের কথাটি। মাঝেমধ্যে আপোস করতে হয়।

যাই হোক, কোহলি পুল-হুককে যে অপশন হিসেবেই দেখুক, প্রতিপক্ষ তাকে আউট করার অপশন হিসেবে দেখছে শর্ট বলকে। গত কদিনে তাকে ক্রমাগত শর্ট বল করাটা সেটিরই প্রমাণ।

কোহলি যেমন আনুশকার পাত্র, এখানেও নিশ্চয়ই ছেড়ে কথা বলার পাত্র নন! ওয়েস্ট ইন্ডিজে টানা দু ম্যাচে শর্ট বলে আউট হওয়ার পরের ম্যাচে করেছিলেন অপরাজিত সেঞ্চুরি। শ্রীলঙ্কায়ও তেমন কিছু হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে এটাও ঠিক, অন্তত কিছুদিন কোহলির জন্য শর্ট বলের অপশন সব দলই ভাববে। নিজের সঙ্গে আপোস করে হোক বা না করে, বা অন্য কোনো ভাবে, কোহলিও জবাব দিতে চাইবেন। সামনে তাই মনে হচ্ছে, খেলা বেশ জমবে!

– ফেসবুক

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।