কোথা থেকে এল হাই হিল!

হাই হিলের প্রচলন মোটেই আজকালের নয়। আর কোন অঞ্চলে এর বিকাশ হয় সেটা নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। তবে, গবেষণা অনুযায়ী প্রাচীন গ্রীসে, খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝিতে স্যান্ডেলের ব্যবহার হত। উর্ধ্বতন কর্তা-ব্যক্তিরা সেসময় ধর্মী অনুষ্ঠানগুলোতে উঁচু জুতো পড়ে আসতেন। হাই হিলকে তখন বিত্তের প্রতীক বলে বিবেচনা করা হত।

তবে, হাই হিরে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত কসাইদের। মূলত মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত শরীরে লাগতে না দিতেই তারা হাই হিল ব্যবহার করতেন।

ব্রিটিশ রেনেসাঁর যুগে এসে হাইহিলটা নারী-পুরুষের আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। হ্যা, ওই সময় নারী-পুরুষ উভকেই হাই হিলে দেখা যেত।

আধুনিক সময়ে ১৫৮০ সালের আগে হাই হিলের কোনো খবরাখর জানা যায় না। ইতালিয়ান বংশদ্ভূত ফরাসী ক্যাথরিন ডি মেডিসি হাই হিলকে ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। মনে করা হয়, ডিউক অব অরল্যান্স, ভাবী রাজাকে আকর্ষণ করার জন্যই ফরাসী আদালতে হাই হিল পড়ে গিয়েছিলেন। বলাই বাহুল্য, পরবর্তীতে তিনি ফ্রান্সের রানী বনে যান।

কেবল মহৎ আর উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারাই হাই হিল পড়তে পারবেন এই ধারণার অবসান হয় এর ২০০ বছর বাদে। ফ্রান্সের রাজা পঞ্চদশ লুইস এই বিধির পরিবর্তন করেন। সপ্তদশ শতকে হাই হিলে রাজার নিজেরও অনেক ছবি পাওয়া যায়।

ফরাসী বিপ্লবের সময় (১৭৮৯-১৭৯৯) থেকে পুরুষদের মধ্যে হিলের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। তার জায়গা করে নেয় ‘ক্যাজুয়াল’ জুতো।

তবে, মেয়েদের হাই হিল ফ্যাশনের প্রতীক হয়ে ওঠে এই বিশ শতকে এসে। আর অবশ্যই, এখন হাই হিল কেবল নারীদের পায়েই দেখা যায়।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।