কোথায় হারালেন সেই ও’কিফি!

শঙ্কার কালো মেঘ জমলেও সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) জানিয়ে দিয়েছে, দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে আগামী ১৮ আগস্ট তারা বাংলাদেশে আসছেন। ১৪ সদস্যের ক্যাঙারু স্কোয়াড ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন তারা। যেখানে জায়গা হয়নি গত ভারত সিরিজের বিস্ময় স্টিভ ও’ কিফির, তার পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন ২৩ বছর বয়সী অ্যাশটন অ্যাগার আর লেগ স্পিনার মিশেল সোয়েপসন। যদিও ভারত সফরে সোয়েপসন দলের সাথেই ছিলেন, কিন্তু বহু আকাঙ্ক্ষিত ‘ব্যাগি গ্রিন’ এখনও তার মাথায় ওঠেনি।

কিন্তু হঠাৎ করে, ও’কিফের বদলে অ্যাগার কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ জানান, বেশ ভেবেচিন্তেই টিম ম্যানেজমেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্টিভ ও’কিফের বয়স বিবেচনায় নিলে, নতুন কাউকে গড়ে তোলার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। দলে সোয়েপসনের কিংবা অ্যাগারের মতো নতুন রক্তের আবির্ভাব চার বছর পরের (অস্ট্রেলিয়ার) ভারত সফরে কাজে দেবে।’

বছরের শুরুতে ও’কিফের স্পিনেই ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানোর স্বাদ পায় অজিরা। বোলিং পরামর্শক শ্রীরাম শ্রীরামের তত্ত্বাবধানে ও’কিফি দুই ইনিংসেই ছয় উইকেট করে লাভ করেন (ম্যাচে ৭০ রানে ১২ উইকেট), যা অস্ট্রেলিয়াকে ৩৩৩ রানের বিশাল জয় এনে দেয়। সিরিজের বাকি তিন ম্যাচে তিনি মোটেও সুবিধা করতে পারেননি, কেননা নাথান লায়ন উইকেট দখলের মুখ্য বোলারের ভূমিকা পালন করেন।

স্মিথ মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার বাকি স্পিনারদের ঝালিয়ে নেয়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তার মতে, ভারতে খেলার সুযোগ পাননি এমন স্পিনারদের যেমন অ্যাশটন অ্যাগার এবং সোয়েপসনকে দলে চেষ্টা করা উচিত এখনই, যাতে তারা ভবিষ্যতের উপমহাদেশ সফরে একটি দুর্দান্ত দল গড়ে তুলতে পারেন।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটকে স্মিথ বলেন, ‘আমি মনে করি ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ও’কিফ দারুণ বোলিং করেছেন এবং বাকি ম্যাচগুলোতে উইকেট না পেলেও সিরিজ জুড়েই তিনি ভাল বোলিং করেছিলেন। তবে এখন সম্ভবত অন্য কারো দিকে তাকানোর সময় হয়েছে এবং অ্যাশটন আগার সুযোগটা পেতে যাচ্ছে।’

ও’কিফের বাদ পড়া, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনার ফসল বলেই ভাবছেন স্টিভেন স্মিথ। ভারতে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সিরিজ চার বছর পরে, ৩২ বছর বয়সী ও’কিফি তখনও তার ফিটনেস ধরে রাখতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে স্টিভেন স্মিথ যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেন। যদিও স্টিভ ও’ কিফির ক্যারিয়ার রেকর্ডের প্রেক্ষিতে, এই সিদ্ধান্ত বেশ কঠিন।

তিন স্পিনারের ফার্স্ট ক্লাস রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, ২৩.৭৭ গড়ে ও’কিফি ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ২৪৪ উইকেটের মালিক, অন্য দুই স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগার ও সোয়েপসনের উইকেট সংখ্যা যথাক্রমে ১১৪ টি ও ৪১ টি। বোলিং গড়েও ও’কিফ ঢের এগিয়ে। মিচেল সোয়েপসনের বোলিং গড় যেখানে ৩২.৮২, অ্যাশটন অ্যাগারের বোলিং গড় সেখানে ৪০.২৪। কিন্তু, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ‘ভবিষ্যৎ ভাবনায়’ এখনই কপাল পুড়লো স্টিভ ও’কিফের।

স্মিথ বলেন, ‘(অ্যাগার) দলের আশেপাশে বেশ কিছুদিন ধরে আছে এবং স্পিনবান্ধব উইকেটের সুবিধা আদায়ের জন্য সে আরও একটি সুযোগ পেতে যাচ্ছে এবং আমি আশাবাদী সে আমাদের জন্য সত্যিই ভালো কিছুই বয়ে আনবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমি ও’কিফের সাথে কথা বলেছি এবং স্বাভাবিকভাবেই সে হতাশ। যদিও সে বুঝতে পেরেছে আমরা কি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তার বয়স বেড়ে যাচ্ছে এবং আমাদের পরবর্তী ভারত সফর চার বছর পরে এবং এর মাঝেই ওই দলের জন্য আমাদের সঠিক সমন্বয় খুঁজে পেতে হবে, যে সিরিজ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা আশাবাদী এই সময়েই কিছু খেলোয়াড় গড়ে তুলতে পারব।’

বাংলাদেশ সিরিজের অস্ট্রেলিয়া দল:

স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যাশটন অ্যাগার, জ্যাকসন বার্ড, হিলটন কার্টরাইট, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, জস হ্যাজেলউড, উসমান খাজা, নাথান লায়ন, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাট রেনশ, মিচ সোয়েপসন, ম্যাথু ওয়েড (উইকেটরক্ষক)।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।