কোচের শৃঙ্খলার হিসাব নেবে কে!

দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক কার্টুনে দেখা গেছে মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক ও হাতুরুসিংহের পারফরম্যান্স। ওই সফরে মাশরাফি ০-৩, সাকিব ০-২, মুশফিক ০-২ ও হাতুরুসিংহে ০-৭; বাস্তব তথ্য।

দল ফিরেছে দেশে, অধিনায়কগণও কিন্তু কোচ হাতুরুসিংহে যথারীতি ছুটি কাটাতে চলে গেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। ফিরবেন দেশে বিপিএল শেষের পর, অথচ তিনি নির্বাচকদের মধ্যকার সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য।

কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মাসিক বেতন সাড়ে ২৪ লাখ টাকা। দৈনিক বেতনের হিসাবে গেলে সেটা প্রায় ৮২ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী ছুটি পাওয়ার কথা বার্ষিক ৪০ দিন, কিন্তু তিনি তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছুটি কাটান; পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়াতে। লিগ কিংবা দেশিয় কোন ক্রিকেট ম্যাচ না দেখলেও দল নির্বাচনে সবচেয়ে প্রভাববিস্তারকারী ভূমিকা পালন করেন তিনিই।

প্রথম আলো’য় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, জুন ২০১৪ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত তিনি ছুটি কাটিয়েছেন ২২০ দিন। অথচ এই সময়ের মধ্যে তার ছুটি পাওয়ার কথা ৮০ দিন, অর্থাৎ ওই দুই বছরে তিনি ১৪০ দিন বেশি ছুটি কাটিয়েছেন। এই ১৪০ দিনের দৈনিক বেতনের হিসাব করলে দেখা যায় কোন কাজ না করে, বাংলাদেশে না থেকে, অতিরিক্ত ছুটি কাটিয়েও তিনি ওই সময়ের ১ কোটি টাকারও বেশি নিয়েছেন। কর্পোরেট কালচারের ‘লিভ উইথ আউট পে’ তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয় নি।

প্রথম আলো জানিয়েছে, গত ১৬ মাসে হাতুরুসিংহে ছুটি কাটিয়েছেন ১৫০ দিন। এই সময়ে যদি তার প্রাপ্য ছুটি ৬০ দিনও হিসাব করা হয় তবে এরই মধ্যে তিনি ৯০ দিনের বেশি ছুটি কাটিয়ে ফেলেছেন।

টাকার অঙ্কে এটা হিসাব করলে প্রায় ৭৪ লাখ টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়। এত এত টাকা হাতুরুসিংহেকে দিচ্ছে বিসিবি, কিন্তু কোচের নেই জবাবদিহি। ইচ্ছে হলে তিনি বাংলাদেশে, ইচ্ছে হলেই অস্ট্রেলিয়াতে; আছে কোচের সম্মাননা ও টাকা যেখানেই থাকুন না কেন তিনি।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনা পৃথিবীর কোন কোচের মাধ্যমে হয় কীনা জানা নাই। তবে হাতুরুসিংহের মাধ্যমেই হয়, হয়ে আসছে, চলছেও। কোচের এমন স্বেচ্ছাচারের বিপরিতে বিসিবিও কেমন চুপ। কেন চুপ তারা – বিস্ময়করও বটে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।