কেমন হল ত্রিদেশিয় সিরিজের স্কোয়াড?

সিরিজের ১৬ সদস্যের দল সব মিলিয়ে আমার পছন্দ হয়নি। সরাসরি বললাম। তার মানে এইনা যে এই দল নিয়ে জিততে পারবেনা বাংলাদেশ। জয়, পরাজয় আর স্কোয়াড পছন্দ হয়েছি কি হয়নি সেটা এক নয়।

ইমরুল কায়েসকে দিয়ে শুরু করি, কায়েস ইনজুরিতে যার কারণে ১৬ সদস্যের দল যেটা জানলাম। দলে প্রত্যাশিত ঘটনা, অনেকের চোখের বিষ, মনের কাঁটা সৌম্য সরকার নাই। দলে এসেছেন দেশের একমাত্র লম্বা চুলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। তো ধরে নিচ্ছি তামিম-বিজয় ওপেনিং জুটি দেখতে পাচ্ছি আমরা আবার, মানে হয়তো ২২-২৩ ওভারে দলীয় একশো রানের সেই যুগে ফিরে যাবার একটা আশংকা আমি করছি! বলাই বাহুল্য, এনামুলের রোটেট করে না খেলার অভ্যাস এখনো আছে এবং যার কারনে তামিমকে আবার প্রেসার নিয়ে খেলতে হবে। তবে এনামুল ফ্যানদের সাময়িক শান্তি এখন, লম্বা সময়ের জন্য শান্তিতে থাকুক সেটাই চাইবো।

লিটন কুমার দাস, অবশ্যই তাকে সুযোগ দেয়া উচিৎ ছিলো। টেস্টে অবশ্যই তাকে দিবে সেটাও জানি তবে ওয়ানডেতে স্কোয়াডেও রাখা যেত। সাউথ আফ্রিকার মতো কন্ডিশনে খেলাবে কিন্তু ঘরের মাটিতে সুযোগ দিবেনা এটাতো অবিচার লিটনের উপর?

মমিনুলকে রাখা উচিৎ ছিলো, লিটনকে যদি নাই রাখে তাহলে মমিনুলের উপর আস্থা রাখলে ক্ষতি কি ছিলো? ওপেনার হিসেবে মমিনুল ইমরুলের চেয়ে খারাপ সেটা বিশ্বাস করিনা আমি। আর তিন নাম্বারেও খেলানো যায় তাকে তাইনা?

মিথুনের বিষয়টা নিয়ে বারবার বলেছিলাম, দলে আসার এবারই সবচেয়ে ভালো সুযোগ তার। ২০১৪ সালের পর এবারই সম্ভবত প্রথম ওয়ানডে দলে আসলেন তিনি। বিপিএলে অনেক ম্যাচিউরড ব্যাটিং করেছেন তিনি। খুব সম্ভবত আমরা তিন নাম্বারে সাব্বিরের বদলে এইবার মিথুনকে দেখতে পারি যদি সাকিব তিন নাম্বারে উঠে না আসেন। মিথুনকে সুযোগ দেয়াটা ঠিক আছে।

এরপর আসি মোসাদ্দেকের কথায়, অনেকে হয়তো মানতে পারছেন না তবে আমি মেনে নিয়েছি। চোখের ইনজুরির পর বিপিএলে এক ইনিংসেও কিছু করতে পারেন নাই। সুতরাং কিভাবে দলে রাখবে তাকে?

নাসিরকে দলে নেয়ার তেমন কোন বড় কারণ দেখিনা, একমাত্র কারন মোসাদ্দেকের না থাকার ফলে একটা স্পিনিং অপশন কমে যায়, সেজন্য রেখেছে নাসিরকে। জাতীয় লীগে ২৯৫ করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সে বর্তমান সময়ে সফল হবে এটা আস্থা পাইনা তার উপর। তথাপি, হোম সিরিজ তাই সুযোগ দেয়াটা মেনে নিলাম। দেখি সে কি করে!

দলে আরিফুল হকের নামটা মনে মনে আশা করেছিলাম। সাব্বিরের উপরে আরেকবার আস্থা রাখা হয়েছে। সাব্বির এবার লোয়ার অর্ডারেই খেলবে।

দলে যখন সাকিব আর মিরাজ আছে তখন সানজামুলের কোন কাজ আমার চোখে নাই। একাদশে আসার চান্স নাই। এরচেয়ে নাজমুল ইসলাম অপুকে রাখলে ছেলেটার আত্মবিশ্বাস বাড়তো।

তাসকিন নাই, আলহামদুলিল্লাহ। খুশি হয়েছি। আবার চিন্তার কারনও থাকছে, ৪০-৫০ ওভার এই সময়ে তাসকিন কিন্তু খারাপ করেনা, উইকেট তুলে নেয়। এখন এই ডেথ ওভারে বল করবে কে? সাইফউদ্দিন? (ভয়ে ঢোঁক গিললাম)।

মাশরাফি বাধ্য না হলে শেষে বল করেন না বলাই ভালো, তাহলে বাকি থাকে রুবেল একা। একজন বোলার এইভাবে একা দ্বায়িত্ব নিতে গেলে আর প্রতিপক্ষ টের পেলে তার উপর চড়াও হয়, গেম প্ল্যান বদলে দেয়ার জন্য। যেমন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে একমাত্র স্পিনার সাকিবের উপর সব দলই চড়াও হয়ে বাংলাদেশের রিদম নষ্ট করেছিলো বোলিং এর সময়।

তাসকিনের জায়গায় বলা চলে এসেছেন আবুল হাসান রাজু, যদিও রাজু বোলার হিসেবে অতীতে কিছুই করতে পারেনি তবে গত দুই বিপিএল, ডিপিএল, এনসিএল সব জায়গায় রাজু উন্নতি করেছেন বল এবং ব্যাট দুই জায়গাতেই। রাজুকে নিয়ে নভেম্বর মাসে বড় একটা পোস্ট দিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো তার দলে আসাটা সময়ের ব্যাপার। তবে একাদশে ঢুকাটা খুব কঠিন হবে। কারন চতুর্থ সিমার হিসেবে সাইফউদ্দিন প্রথম পছন্দ সবারই। মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজের পর সাইফ না রাজু সেই হিসাব!

দলের অটোচয়েজদের নিয়ে আর কথা বললাম না। ত্রিদেশিয় সিরিজ শুরুর অপেক্ষায় আছি, বিশেষকরে বিজয়, নাসিরের দিকে বিরাট আগ্রহ নিয়ে চেয়ে আছি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।