কুঁড়ি থেকে ফুল

‘একলাই খাইবা, আমারে দিবা না?’, কোকাকোলার সেই জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনে সেই সরলতা সুন্দর মুখের তরুণীকে দেখে সবাই মুগ্ধ হয়েছিল, কিংবা নোবেলের সাথে সিটিসেলের বিজ্ঞাপন ‘নিশিতে যাইয়ো ফুলো বনে’র সেই মিষ্টি হাসির কন্যা। মডেলিং জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পর নাট্যজগতে পদচারণা, সেখানেও সফল।

সেই অত:পর নুরুল হুদা হউক কিংবা গ্র‍্যাজুয়েট, হালের ‘বুকের ভিতর কিছু পাথর থাকা ভালো’, টিভি অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে শীর্ষস্থানে আসন করলেন, ‘হালদা’ সহ একাধিক চলচ্চিত্রেও নিজেকে করেছেন সম্মুজ্বল,তিনি টেলিভিশন জগতের অন্যতম সেরা জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা।

জন্ম ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। শো-বিজ অঙ্গনে তাঁর শুরুটা ১৯৯৫ সালে, নতুন কুঁড়িতে শ্রেষ্ট শিশুশিল্পী হিসেবে চ্যাম্পিয়ন, গান থেকে নাচ, অভিনয় সব শাখাতেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। প্রথম টিভি নাটক ‘সাতপোড়ে কাব্য’, তবে শিশু শিল্পী হিসেবে আলোচনায় আসেন হুমায়ূন আহমেদের ‘প্যাকেজ সংবাদ’ নাটক দিয়ে, এরপর বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন।

প্রথম পরিনত অবস্থায় আসেন কোকাকোলার বিজ্ঞাপনে, শুরুতেই বাজিমাৎ। একই বছর সিটিসেলের বিজ্ঞাপন সেই জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। কেয়ার বিজ্ঞাপন করে নিজেকে মডেলিং জগতে শীর্ষস্থানে আসেন। দেশের অন্যতম সেরা নারী মডেলদের নাম নিলে, সে এই তালিকায় প্রথমদিকেই থাকবে।

মডেলিং জগতের সাফল্যের পর টিভি নাটকে নিজেকে নিয়মিত করলেন। অরন্য আনোয়ারের ‘নুরুল হুদা একদা ভালোবেসেছিল’ ও ফারুকীর ক্যারাম ১ম পত্র ও ৬৯ ছিল সেই যাত্রায় প্রথম ধাপ। মাহফুজ আহমেদের বিপরীতে ‘অত:পর নুরুলহুদা’য় অভিনয় করে বেশ আলোচনায় আসেন। গত দশকের বাইরে অন্যতম কাজের মধ্যে ইট কাঠের খাঁচা, ৪২০, প্রভাতী সবুজ সংঘ, কফি হাউজ, শেষ প্রান্তে, এসএমএস অন্যতম।

গত দশকে যে নিজের প্রতিভা বিকশিত করেছিলেন, সেটা এই দশকে এসে পূর্ণতা পায়। আর সেটা শুরু করেন জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গ্র‍্যাজুয়েট’ দিয়ে। এরপর একে একে ভালোবাসি তাই, ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই, আরমান ভাই সিরিজ, মনফড়িংয়ের গল্প, মনসুবা জংশন, লংমার্চ, শুনতে কি পাও, আমি তৃণা ও ম্যাজিক, সিকান্দার বক্স সিরিজ, শেফালি, পাড়ি, রাতারগুল, অ্যাংরি বার্ড, মায়া ও মমতার গল্প, বুকের ভিতর কিছু পাথর থাকা ভালোসহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিশা।

নাট্যজগতে শীর্ষ অভিনেত্রী হয়েছেন। পাশাপাশি সেই স্থান বেশ কয়েক বছর ধরে রেখেছেন। এখনো তিনি টিভি নাটকে অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘একটি মধ্যবিত্ত ফ্রিজের গল্প’তেও দর্শক মুগ্ধ করেছেন।

মডেলিং, নাটকের বাইরে চলচ্চিত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফারুকীর জনপ্রিয় সিনেমা ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ দিয়ে চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু করেন। এরপর একে একে টেলিভিশন, অস্তিত্ব, ডুব, হালদায় নিজেকে সপ্রতিভ করেছেন। যদিও ‘রানা পাগলা’য় অভিনয় করে সমালোচিত হয়েছেন।

তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’তে অতিথি শিল্পী হিসেবেও অভিনয় করেছেন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে আলোচিত দু’টি ছবি ‘শনিবার বিকেল’ ও ‘হলুদবনি’। সম্প্রতি চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সূচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস নিয়ে নির্মিত ছবি ‘বালিঘর’-এ। এতেই বোঝা যায়,তাঁর ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র যাত্রা বেশ সমুজ্জ্বল।

অভিনয় করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন অভিনেতার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে মোশাররফ করিম ও তাহসানের সঙ্গে জুটি বেঁধে। এছাড়া মাহফুজ আহমেদ, জাহিদ হাসান, সজলের সাথেও বেশ আলোচিত।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পুরস্কার মেরিল প্রথম আলোতে সর্বোচ্চ পুরস্কারের মালিক তিনি। এখন পর্যন্ত মোট ১৩ টি এই পুরস্কার পেয়েছেন, ভাগ্য সহায় হলে হয়তো জাতীয় পুরস্কারের আক্ষেপটাও সম্প্রতি ঘুঁচতে পারে।

ব্যক্তিজীবনে বিয়ে করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীকে, কোনোরকম গুজব বিহীন বেশ সুখেই সংসার করছেন,তাঁর মিডিয়া জীবন ও ব্যক্তিজীবনের সাফল্য কামনা করি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।