কিংবদন্তি শব্দটা তার নামের সাথেই বেশি মানায়

ক্রিকেট ও কিংবদন্তি – এই দু’টি নাম এক সাথে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে  কার ক্ষেত্রে? এই প্রশ্নের উত্তর ঘাটতে রেকর্ডবই একটু ঘাটলেই চলে। কি কি রেকর্ড গড়েছেন? – জবাব দিতে গেলে হয়তো বলে শেষ করা যাবে না।

তাই সহজ হয় যদি প্রশ্ন করা হয় টেস্ট ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত কোন রেকর্ডটি গড়েননি তিনি! এই প্রশ্নটির উত্তরও যে খুব একটা সহজ তা কিন্তু নয় কেননা ক্রিকেটে ডানহাতের ব্যাটিং জাদুতে নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন যেন মস্ত দূরের ওই আকাশের কাছাকাছি। আর এই রেকর্ডের অধিকাংশই অন্যদের সম্পূর্ণ ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

তাই তো  ক্রিকেটে শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয় সমস্ত ক্রিকেট বিশ্বে তাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া হয়। ১৯২৮ সালের এই দিনেই জন্ম নেন এই কিংবদন্তি – তিনি হলেন ব্র্যাডম্যান। স্যার ডোনাল্ড ব্র্র্যাডম্যান।

ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে রানের বন্যায় সবাইকে ভাসিয়ে দিয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সেই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ব্র্যাডম্যানে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনি কতোটা আতঙ্কের নাম ছিলেন তা না বললেই নয়।

জাতীয় দলে প্রবেশের আগে খেলা সর্বশেষ দুটো প্রথম শ্রেণির ম্যাচের চারটি ইনিংসের কথাই শোনা যাক। ১৩১, ১৩৩ (অপরাজিত), ৮৭ এবং ১৩২। বুঝতেই পারছেন ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে কতোটা বর্ণিল ছিল ব্র্যাডম্যানের ক্যারিয়ার।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তুলনায় ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেই ব্র্যাডম্যানকে বেশি সময় ধরে দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মোট ম্যাচ খেলেছিলেন ২৩৪ টি। আর এই ২৩৪টি ম্যাচে রয়েছে ১১৭ টি সেঞ্চুরি এবং ৬৯টি বর্ণিল হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস।

আর এত ইনিংসের মাঝে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল অপরাজিত ৪৫২ রানের! তবে সকল রঙ যে শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের জন্যই সাজিয়ে রেখেছিলেন কথাটি ধরে নিলে একদম ভুল হবে। বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও যেন জাদুর পরশ বুলিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন তিনি।

পাহাড়ের মতো দানবীয় একেকটি ইনিংস খেললেও ক্রিকেটের সূচনা কিন্তু একেবারে বিবর্ণ ছিল তার। ইংলিশদের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ দিয়ে শুরু করেন। তবে অভিষেক ম্যাচে নিজের ভাগ্য তো খারাপ ছিলই বটে সেই সাথে অস্ট্রেলিয়াকেও পরতে হয়েছে ভীষণ লজ্জায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে তো অস্ট্রেলিয়াকে কেবল মাত্র ৬৬ রানের মাঝেই অলআউট করে দেয় ইংলিশরা। অহি অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের মতো সে ম্যাচে ব্র্যাডম্যানও একদম সুবিধে করতে পারেননি।

প্রথম ইনিংসে ১৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে কেবল মাত্র ১ রানে সেবার পরিসমাপ্তি ঘটে ব্র্যাডম্যানের ইনিংস। অবশেষে ৬৭৫ রানের বিরাট পরাজয় মেনে নিতে হয় অজিদের। অভিষেক ম্যাচে দু ইনিংস মিলিয়ে কেবল মাত্র ১৯ রান করায় দ্বিতীয় টেস্টে দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিলেন ব্র্যাডম্যান।

তবে এই তীব্র আক্ষেপই যেন মনে ভীষণ জেদ তৈরীর কারিগর। আর তাই তো টেস্ট ক্রিকেট ঈশ্বর পরবর্তীতে ৫২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৯টি সেঞ্চুরি এবং ১৩ টি হাফ সেঞ্চুরির কল্যানে ৬৯৯৬ রান নিয়ে ৯৯.৯৪ গড়ে তার ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।