কালজয়ী সিনেমার কালজয়ী নির্মাতা

পৃথিবীকে অপরাধ মুক্ত করার জন্য একটা নতুন ডিপার্টমেন্ট খোলা হয়েছে, নাম প্রি ক্রাইম ব্রাঞ্চ। এই ডিপার্টমেন্টের কাজ হচ্ছে ক্রাইম করার আগেই সেটাকে ধরে ফেলা।

প্রশ্ন হচ্ছে তারা ধরবে কিভাবে? এখানেই সিনেমার মজা।

সিনেমাতে দেখানো হয় তিনজন অতিমানবীয় মেয়েকে একটা ঘরে রাখা হয়েছে। তারা স্বপ্নের মাধ্যমে কোথায় দূর্ঘটনা ঘটবে সেটা আগে থেকেই বলে দেয়। পুরো ঘটনাটা একটা স্ক্রীনে দেখা যায়।

ঘটনার শেষে কে ক্রাইম করবে এবং কে ক্রাইমের স্বীকার হবে দুজনের নামই এসে পড়ে। এমনকি কোথায় ক্রাইম হবে এবং কোন সময়ে হবে সেটাও দেখানো হয়। নির্দেশ অনুযায়ী ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের মানুষেরা আগ থেকেই সেখানে চলে যায় এবং অপরাধ হবার আগেই অপরাধীকে ধরে ফেলে। এভাবেই শহরটাকে অপরাধ মুক্ত রাখা হয়।

ডিপার্টমেন্টের প্রধান টম ক্রুজ বেশ ভালো ভাবেই চালাচ্ছিল কার্যক্রম। কিন্তু একদিন সমস্যা হয়ে গেল।

স্ক্রীনে দেখানো হলো একজন খুন হবে, খুনী টম ক্রুজ নিজেই।

টম ক্রুজ হতবাক, যাকে খুন করা হচ্ছে তাকে কোনদিন টম দেখেইনি।

ধরা পড়ার আগেই টম সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

এখন টম কি করবে? রহস্য খোলাসা করতে গিয়ে টম আরো বড় রহস্য দেখতে পেল? যেটাকে বলা যায় কেচো খুড়তে সাপ।

টম কি পারবে এই রহস্য থেকে বের হতে? সিনেমার নাম ‘মাইনরিটি রিপোর্ট’।

অনেকে হয়তো সিনেমাটা দেখেছেন, যারা ইংরেজি সিনেমা দেখেন তাদের কাছে ‘মিশন ইম্পসিবল’ খ্যাত টম ক্রুজকেও না চেনার কোন কারণ নেই। তবে বেশির ভাগ দর্শকই সিনেমার পেছনের মানুষটাকে চেনেন না। একটা সিনেমা তৈরীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হচ্ছেন সিনেমার পরিচালক। কাজেই কেউ যদি এই সিনেমার পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গকে না চেনেন তাহলে তাকে খুব দোষ দেওয়া যাবে না। তবে যারা নিজেদের সিনেপ্রেমী দাবি করেন তাদের স্পিলবার্গকে না চেনাটা অন্যায়।

স্পিলবার্গ সর্বপ্রথম নজরে আসেন ১৯৭৫ সালে, ‘জওস’ সিনেমার মাধ্যমে। ৯ মিলিয়ন ডলার বাজেটের সিনেমাটা ব্যবসা করে ৪৭০.৭ মিলিয়ন ডলার। তবে মিডিয়াতে অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেন ‘ইটি’ সিনেমার মাধ্যমে। ভিনগ্রহের একটা প্রাণীর সাথে মানুষের বন্ধুত্ব সেই সময় খুব আলোড়ন সৃস্টি করেছিল। পরবর্তীতে ব্যতিক্রমধর্মী অনেক সিনেমা স্পিলবার্গকে মানুষদের কাছে একজন জনপ্রিয় মানুষে পরিণত করে।

তার খুব বিখ্যাত সিনেমাগুলোর মাঝে ব্যাক টু দ্য ফিউচার সিরিজ, ইন্ডিয়ানা জোন্স সিরিজ, জুরাসিক পার্ক সিরিজ, ম্যান ইন ব্ল্যাক সিরিজ, ট্রান্সফর্মার্স সিরিজ, দ্য মাস্ক অব জরো, টেকেন, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, টার্মিনাল, শিনডলার’স লিস্ট অন্যতম।

১৯৭০, ১৯৮০ আর ১৯৯০ দশকের সর্বোচ্চ ব্যবসা সফল সিনেমার নির্মাতা তিনি। সিনেমা তিনটি হচ্ছে জওস, ইটি এবং জুরাসিক পার্ক। তার নির্মিত ১০ টি সিনেমা অস্কার পুরস্কার পেয়েছে। পরিচালক হিসেবে তিনি সাতবার অস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন যার মাঝে দুইবার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।

২০০৬ সালে প্রিমিয়ার নামক চলচিত্র সাময়িকী তাকে চলচিত্র শিল্পের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। লাইফ সাময়িকীর মতে বিংশ শতাব্দীর শেষে নিজ প্রজন্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন স্পিলবার্গ।

আজ, ১৮ই ডিসেম্বর এই গুণী ব্যক্তি ৭০ বছরে পা দিয়েছেন। আশা করি, আরো বৈচিত্রময় সিনেমা আমরা তার কাছ থেকে উপহার পাব।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।