কাতালান স্বাধীনতা আন্দোলন ও একটি আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ

স্বাধীনতার কাছে তো ফুটবল স্রেফ নগন্য এক ব্যাপার!

যে কাতালানে, বার্সেলোনা বলতে স্থানীয়রা অজ্ঞান সেখানেই বার্সেলোনার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হল ফাঁকা ন্যু ক্যাম্পে। সবাই যে স্বাধীনতার সংগ্রামে নেমে গেছে রাজপথে। ৯৯,৩৫৪ আসনের এক বিশাল স্টেডিয়ামের শূন্য গ্যালারিতে খেলা লিওনেল মেসিদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। লাস পালমাসের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ও যেন রঙ হারালো তাতে।

সত্যিকার অর্থে, ধ্রুপদী খেলা ফুটবলে ফাঁকা মাঠের এই ঘটনাই খুব বিরল। যদিও, আশির দশকে খোদ বাংলাদেশেও ঘটেছিল এমন ঘটনা। ফুটবলের রমরমা সেই সময়ে সেই ঘটনা ঘটেছিল তাও আবার আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে।

তখন ফুটবলে বাংলাদেশের সুদিন ছিল। আজকের চেয়ে ভাল অবস্থানে ছিল লাল-সবুজ। আর ঘরোয়া ফুটবলে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই ছিল দিনভর টানটান উত্তেজনা, উপচে পড়া গ্যালারি।

এর মধ্যেও এই মহারণ একবার দর্শকশূন্য গ্যালারি দেখেছিল। সেটা আজ থেকে ৩০ বছর আগের কথা। আর্মি স্টেডিয়ামে ম্যাচটা অনুষ্ঠিত হয় ২৬ অক্টোবর।

সেবার একটা প্লে-অফ ম্যাচ জরুরী হয়ে পড়েছিল। জিতলে সেসময় পাওয়া যেত দুই পয়েন্ট। আবাহনী এগিয়েই ছিল। কিন্তু শেষ ম্যাচ জিতে হিসেব পাল্টে দেয় মোহামেডান।

দু’দলের পয়েন্ট হয় সমান। প্লে-অফ বাদে কোনো রাস্তা খোলা নেই। তিনদিনের মাথায় অনুষ্ঠিত হয় প্লে-অফ। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূণ্য ব্যবধানে শেষ হয়।

অতিরিক্ত সময়ে ঘটে ভুতুড়ে এক ঘটনা। দু’দলের খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা এসে নিজেদের যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে দেয়। প্রচুর হাঙ্গামা হয়েছিল সেদিন। সমর্থকরা তো বটেই, খেলোয়াড়রাও মারামারিতে জড়িয়ে যান। যদিও, কার্যত সেখানেই লিগ শেষ।

তবে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) খেলোয়াড়দের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। ২৬ অক্টোবর নতুন করে অনুষ্ঠিত হয় প্লে-অফ ম্যাচ। ম্যাচে দর্শক ছিল গুটিকয়েক, সেসময়ের প্রেক্ষাপটে অভাবনীয় এক ঘটনা।

যদিও, ম্যাচটা টেলিভিশনের সুবাদে দেখতে পেরেছিলেন সমর্থকরা। মোহামেডান সেই ম্যাচও জিতে যায়। এমেকা ও এমিলির গোলে লিগ জিতে নেয় ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।