অফিসে কাজের ফাঁকে গান শুনুন, কারণ…

কাজের সময় কী কেবলই কাজ? নাকি কাজের মাঝেও একটু বিনোদন দরকার? – গবেষণা বলছে কাজ করতে করতে একটু গান শোনার উপকারীতার কোনো শেষ নেই।

গবেষকরা প্রমাণ করেছেন, মস্তিষ্কে নিউরন থাকে যা সিন্যাপসিসের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। যে কোনো তথ্য মস্তিষ্কে ইলেকট্রিক্যাল ইমপালসে পরিণত হয়ে সিন্যাপসিসের মাধ্যমে বাহিত হয়। আমরা তথ্যের উপর যত মনোযোগ দেই, ইমপালস তত শক্তিশালী হয় ও নিউরনের মধ্যে যোগাযোগ তত জোরাল হয়।

গান শোনার সময় মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ উৎপন্ন হয় যা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। থিটা তরঙ্গ মস্তিষ্ককে শান্ত করে প্রশান্তি আনে যা মনঃসংযোগ করতে সাহায্য করে।

গান মেজাজ ঠাণ্ডা রাখে ও কাজের আনন্দ বাড়ায়। এখানেই শেষ নয়, আরো আছে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক –

১. গান শুনতে শুনতে কাজ করলে যেকোনো কাজই দ্রুত করে ফেলা যায়। আর এক্ষেত্রে ‘ইন্সট্রুমেন্টাল’ মিউজিক বেশি কার্যকর।

২. গান শুনলে মাথা যেমন হালকা হয়, তেমনই তথ্য বোঝার ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও বাড়ে। মস্তিষ্কে কর্টিসল উৎপন্ন করে কার্যকারিতায় বাধা দেয়। কর্টিসল হচ্ছে স্ট্রেস হরমোন। মিউজিক কর্টিসলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

৩. স্ট্রেস শরীরের ভাল লাগার হরমোন ডোপেমাইন ও সিরোটোনিনের মাত্রাও কমিয়ে দেয়। ফলে স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়। গান শুনলে ভাল লাগার হরমোন বাড়ে। এটা স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করে। সিন্যাপসিস শক্তিশালী করে দীর্ঘকালীন স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়।

৪. গান একরকম অনুপ্রেরণাও। কাজের মাঝে কেই বা গানের মত অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে!

৫. গানের ছন্দ-তাল কোনো কিছুতে মনোনিবেশ করতে ও ভাবনা-চিন্তা গুছিয়ে নিতে সাহায্য করে। গবেষকদের মতে, আমাদের মস্তিষ্ক ছন্দে চলে। গানের ছন্দ, বিশেষ করে যে গান কোনো স্মৃতি জাগিয়ে তোলে তা গুছিয়ে ভাবনা-চিন্তা ও পড়াশোনা করতে সাহায্য করে।

যদিও, কাজের মাঝে বিশেষ করে অফিসে গান শোনার জন্য হেডফোন বাধ্যতামূলক। বাকিদের ‘কোহাহল’ থেকেও দূরে থাকা যায়। আবার, কেউ খুব বিপদে না পড়লে আপনাকে ঘাটাতে আসবে না। তবে, হেডফোন কিছুক্ষণের জন্য নামিয়ে অফিসের পরিস্থিতিটা বুঝে নেওয়া ভাল। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার, কাজ শেষে ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকে হেডফোন ‘আনপ্লাগ’ করতে ভুলবেন না!

– ফেমিনা.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।