ওয়েলকাম ব্যাক, সাকিব!

কোচ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছিল। রিচার্ড পাইবাসের পর সাক্ষাৎকার দিলেন ফিল সিমন্স। গণমাধ্যমের তাই ধারণা ছিল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোর্ড সভা শেষে সেই কেন্দ্রীকই কোনো ব্রিফিং করবেন বোর্ড সভাপতি।

কোচ নিয়ে আলোচনা হল, সাথে সাথে একটা বোমাও ফাঁটলো। আবারো নিজের হারানো চেয়ারে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। টি-টোয়েন্টির মত এখন থেকে তিনি নেতৃত্ব দেবেন সাদা পোশাকেও। আজ থেকে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের পদটিতে থাকবেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। তার ডেপুটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এরই মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটে মুশফিুকর রহিমের যুগের অবসান হল। পরিসংখ্যান মতে বাংলাদেশের টেস্ট আঙিনার সেরা অধিনায়কটি এখন থেকে হয়ে গেলেন অতিত। ৩৪ টি ম্যাচে তিনি অধিনায়কত্ব করে দলকে জিতিয়েছেন সাতটিতে। এর সাথে যোগ হয়েছে নয়টি ড্র।

তবে, মুশফিকের কিছু দুর্নামও ছিল। অতিমাত্রায় নেতিবাচক অধিনায়কত্বের জন্য বরাবরই সংবাদমাধ্যমের অপ্রিয় পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারেন না, এমন অভিযোগও ছিল।

একই সাথে মুশফিককে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব নিতে হয়, সাথে সাথে উইকেটক্ষকও তিনি। তাই, সব মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ে এক মুশফিকের কাঁধে অনেক চাপ। তাই সেই চাপটা কমাতেই বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাকিবকে ফেরানোর।

২০১১ সালে এই সাকিব আল হাসানের হাত থেকেই অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। এবার আবারো সেই অধিনায়কত্বের ব্যাটন পাল্টে চলে আসলো সাকিবের হাতে।

২০০৯ সালে অবশ্য সাকিব হুট করেই পেয়েছিলেন টেস্ট অধিনায়কত্ব। সেবার বাংলাদেশ খেলতে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের (ডব্লিউআইসিবি) সাথে বেতন-ভাতা বিষয়ক ঝামেলায় জড়িয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানান অধিকাংশ প্রথম সারির ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার।

মধ্যস্ততা করতে ব্যর্থ হওয়ায় সেবার তৃতীয় শ্রেণির এক উইন্ডিজ দলের মোকাবেলা করে বাংলাদেশ। কাগজে কলমে অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে, প্রথম টেস্টেই আরো অনেক সময়ের মত মাঠ থেকে ইনজুরি নিয়ে সাইড বেঞ্চে চলে যান নড়াইল এক্সপ্রেস।

সেই বিপদের মুখে সে সময় ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে কাজ চালান তখনকার সহ অধিনায়ক সাকিব। ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতে যায়। এরপরের টেস্টে টসও করেন। সেন্ট জর্জেসের সেই টেস্টটাও জিতে যায় বাংলাদেশ।

এরপর মাশরাফি দীর্ঘ সময়ের মত মাঠের বাইরে চলে গেলে সাকিবকে স্থায়ী ভাবে অধিনায়ক করে বিসিবি। সব ঠিকঠাকই ছিল। দেশের মাটিতে সাকিবের নেতৃত্বেই ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে তাক লাগিয়ে দেয় বাংলাদেশ।

সব পাল্টে যায় দেশের মাটিতে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের পর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৮ রানে অল আউট হওয়ার জের ধরে ছিটকে যান সাকিব।

এরপর দীর্ঘ ছয় বছর পর এই বছরই মাশরাফি টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলে সাকিবকে অধিনায়ক করা হয় সংক্ষিপ্ত পরিসরে। এবার পেয়ে গেলেন বড় পরিসরের ক্রিকেটের দায়িত্বও। অভিনন্দন সাকিব, এই যাত্রাটা আগের চেয়ে হয়ে উঠুক আরো বর্ণিল!

একটা প্রশংসা বোর্ডেরও প্র্রাপ্য। আগেরদিনই বিদায়ী কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে সাকিবকে কাঠগড়ায় তুলে গেলেও সেই কথায় তারা কান দেননি। ভরসা রেখেছেন সেই সাকিবের ওপরই। এবার সাকিবের সেই ভরসার প্রতিদান দেওয়ার পালা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।