ওস্তাদ, বায়ে প্লাস্টিক || রম্য গল্প

শায়লা বেগম ও আশরাফ আলম দম্পত্তি সিদ্ধান্ত নিলেন, দু’জনে বাণিজ্য মেলায় যাবেন। উল্লেখ্য, দু’জন মিলে এবছরই অনেক কষ্টে একটা প্রাইভেট কার কিনেছেন। গাড়ীর শো-রুমে শায়লা বেগম স্বামীর সাথে নিজে গিয়ে পছন্দের রং ও মডেল দেখে এ গাড়ীটি কিনেছেন। অনেক সাধের গাড়ী।

বাসার গ্যারেজ থেকে গাড়ী বের করে দুজন বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে এগোতে লাগলেন। নতুন গাড়ী দুর্দান্ত গতিতে রাজপথ দিয়ে ছুটে চলছে। শায়লা বেগম নিজে গাড়ী ড্রাইভ করছেন।পাশের বা সিটে আশরাফ আলম সানগ্লাস চোখে চুপচাপ বসে আছেন। গাড়ীতে বাজছে, ‘এই পথ যদি না শেষ হয়…’।

গাড়ী বিজয় স্মরণীতে মোড় নিচ্ছে। এখন গাড়ীর গতি খুব কম। সামনে অসহনীয় জ্যাম। থেমে থেমে গাড়ী এগোচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব বিরক্ত প্রকাশ করছেন। কতক্ষণ আর এভাবে জ্যামের মধ্যে বসে থাকা যায়!

অনেকক্ষন পর সিগনাল ছাড়াতে অপেক্ষমান রিকশা, প্রাইভেট, সিএনজি, বাস একসাথে সামনে চলা শুরু হলো। কয়েক গজ এগোতেই শায়লা বেগমের ডান পাশে থাকা বাসের হেলপার চিৎকার করে তাঁর ওস্তাদকে বলল, ‘ওস্তাদ, বায়ে প্লাস্টিক।’

নতুন কেনা সাধের গাড়ীকে প্লাস্টিক বলায় ভেতরে ভেতরে খুব রেগে গেলেন শায়লা বেগম। আশরাফ আলম হেলপারের কথা শুনে মুচকি হাসলেন শুধু। শায়লা বেগম গাড়ী চালাতে চালাতে ভাবলেন-গাড়ী বন্ধ করে নেমে বাসের হেলপারকে বলবেন, আমার গাড়ীকে আপনি প্লাস্টিক বললেন কেন? এই অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? পর মূহুর্তে আবার ভাবলেন, এটা তো ঢাকা শহরে কমন ব্যাপার। সব প্রাইভেট গাড়ীকেই বাসের হেলপাররা ‘প্লাস্টিক’ বলে থাকে। রাগ কিছুটা সংযত করলেন শায়লা বেগম।

মেলায় ঢুকে শায়লা বেগমের চোখ ছানাবড়া। এত মানুষ!পা ফেলবে কী করে? আশরাফ আলম নির্বিকার। ভদ্রলোক প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসা সময়েও চোখের সানগ্লাস না খুলে স্ত্রীর পাশাপাশি এস্টল-ওস্টল ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু,শায়লা বেগমের কিছুই পছন্দ হচ্ছে না। মেলায় যেহেতু এসেছেন সেহেতু কিছু না কিছু তো কিনতেই হয়। শেষতক, শায়লা বেগম অনেকগুলো প্লাস্টিকের পণ্য কিনলেন। বাহারি ডিজাইন, নানা রঙের আকর্ষনীয় মূল্যে এতগুলো প্লাস্টিকের পণ্য কিনলেন যে, গাড়ীতে মাল আটে না। ব্যাকডালা খুলে প্লাস্টিকের পণ্যগুলো আটাতে হলো।

গাড়ী চলছে। প্লাস্টিক পণ্যে ভরা গাড়ী। এবার চালকের আসনে আশরাফ আলম। শায়লা বেগম বাম পাশের সিটে বসে আছেন। দু‘জনারই ক্লান্ত শরীর। গাড়ী মেলার সামনের চৌরাস্তার মোড়ে আসতেই আবারো সেই ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জ্যাম।

রিকশা, সিএনজি, মোটর সাইকেল, বাস মিলে মিশে একাকার। ডান দিকে একটু ফাঁকা পেয়ে আশরাফ আলম গাড়ী সেদিকে ঢুকানোর চেষ্টা করলেন। পিছনে থাকা বাসের ড্রাইভারও ফাঁকা জায়গাতে বাস ঢুকাতে চেয়ে হালকা টান দিলেন। বাসের হেলপার সংঘর্ষ এড়াতে তার ওস্তাদকে চিৎকার করে বললেন, ‘ওস্তাদ, বায়ে প্লাস্টিকে ভরা প্লাস্টিক…’

শুনে শায়লা বেগম ও আশরাফ আলম এবার আর রাগলেন না।দু’জনেই হো হো করে হেসে উঠলেন।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।