এ কেমন অদ্ভুত প্রতিশোধ!

আফগানরা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের নব্য শক্তি। আর যত দিন যাচ্ছে নিজেদের ওপরে থাকা দলগুলোর সাথে নিজেদের পার্থক্য কমিয়ে ফেলছে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন নাম লেখানো এই দলটি। আর সেটা কতটা সেটা বোঝা যাচ্ছে শারজাহতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান সিরিজে।

চলতি এই সফরে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁরা হোয়াইটওয়াশ করেছে জিম্বাবুয়েকে। সেই জিম্বাবুয়ে, যারা ক’দিন আগেও ঢাকার মাটিতে হারিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কাকে। দুই ম্যাচের কোনোটাতেই লেগ স্পিন সেনসেশন রশিদ খান, অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী ও নবাগত বাঁ-হাতি স্পিনার মুজিব জাদরানের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি গ্রায়েম ক্রেমার, ব্রেন্ডন টেলর ও সিকান্দার রাজারা।

আজিজি ব্যাংক ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেও তাই। প্রথম ওয়ানডেতে আফগানদের দেওয়া পাঁচ উইকেটে ৩৩৩ রানের বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৭৭ রানে অল আউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। আফগানরা জিতে যায় ১৫৪ রানের বড় ব্যবধানে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ঘটলো হুবহু একই ঘটনা। যদিও, এবার শুধু দলগুলো অদল-বদল হয়ে গেল। জিম্বাবুয়ের পাঁচ উইকেট হারিয়ে করা ৩৩৩ রানের জবাবে এবার আফগানরা অল আউট হল ১৭৯ রানে। জিম্বাবুয়ে নিল মধুর প্রতিশোধ, জিতলো ১৫৪ রানের বড় ব্যবধানে।

একদিন আগে ঠিক একই রানের জবাবে খেলতে নেমে একই স্কোর গড়ে গ্রায়েম ক্রেমারের দল অলআউট হয়ে গিয়েছিল। হেরেছিল ঠিক একই রানের ব্যবধানে। আরো কাকতালীয় ব্যাপার হল, প্রথম ম্যাচে আফগানরা রানের পাহাড় গড়ার পথে হারিয়েছিল পাঁচ উইকেট, এবার ঠিক একই সংখ্যক উইকেট হারালো জিম্বাবুয়ে।

ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন অদ্ভুত প্রতিশোধের নজীর আর নেই বললেই চলে!

জিম্বাবুয়ের জয়ে বড় অবদান কলপ্যাক চুক্তি ভেঙে ক’দিন আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ব্রেন্ডন টেলরের। তিনি ১২১ বলে খেলেন ১২৫ রানের অপরাজিত এক ইনিংস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দ্বিতীয় কিস্তিতে এটাই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। এছাড়া সময়ের অন্যতম সেরা জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা ৯২ ও হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ৪৮ রান করেন।

জবাব দিতে নেমে ব্যর্থ হয় দৌলত জাদরান, রহমত শাহ ও মোহাম্মদ নবী’র ছোট ছোট প্রচেষ্টা। তিনজনের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ৪৭, ৪৩ ও ৩১ রান। জিম্বাবুয়েকে বল হাতে নেতৃত্ব দেন অধিনায়ক ও লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার। তিনি পাঁন চার উইকেট। এছাড়া টেন্ডাই চাতারা তিনটি ও দীর্ঘদেহী ব্লেসিং মুজারাবানি নেন দু’টি উইকেট।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।