এয়ার কন্ডিশনার থেকে টয়লেটের ফ্লাশ!

সম্প্রতি প্রযুক্তিবিদরা এমন এক ধরনের চৌবাচ্চা আবিষ্কার করেছেন, যা দিয়ে এয়ার কন্ডিশন থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে টয়লেট ফ্লাশ করা সম্ভব হবে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১,৪৭৭ টি হোটেল প্রতি বছর ৪.৭ বিলিয়ন লিটার পানি সঞ্চয় করতে পারবে বলে আশঅ করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ড-ভিত্তিক কোম্পানি এনকোরের নির্বাহী ডেভিড ডেভিস বলেন, ‘কয়েক দশক ধরেই আমরা লক্ষ করছি, এয়ার কন্ডিশনার চালানোর ফলে যে পানি উৎপন্ন হয়, তা ভূগর্ভস্থ ড্রেনের নিচে চলে যায়। এতে করে সম্পূর্ন পানির অপচয় হয়। কিন্তু নতুন এই ট্যাংকটি সেই পানি ব্যবহার করে টয়লেটের বর্জ্য নিষ্কাশন করবে।’

ভিলা কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের মতো জায়গাগুলোতে, যেখানে টয়লেট এবং এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে, সেখানে এটি ব্যবহার করা যাবে। আরেকটি ইতিবাচক দিক হল, এই চৌবাচ্চা ব্যবহারে দুটি লিড (LEED) পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। লিড পয়েন্ট হল যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীন বিল্ডিং কাউন্সিলের একটি মানদন্ড, যা দিয়ে কোনো ভবন পরিবেশবান্ধব কিনা তা নিরূপণ করা হয়।

ডেভিস আরো বলেন, ‘প্রত্যেক এয়ার কন্ডিশনারে একটি নির্গমন পাইপ আছে, যা উদ্বৃত্ত জলীয় বাষ্প বাইরে বের করে দেয়। এভাবে সমগ্র বিশ্ব বিবেচনায় আনলে, প্রতিদিনই এয়ার কন্ডিশনার থেকে নির্গত বিলিয়ন বিলিয়ন লিটার পানি অপচয় হচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।’

জল সঞ্চয়

হোটেল বিশেষজ্ঞ এসটিআর গ্লোবালের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১,৪৭৭ টি হোটেলের ১৯১,৮৩২ ঘরে এ ধরণের জলাধার নির্মাণ করা হচ্ছে। এনকোরের এই আবিষ্কার বছরে ৪.৭ বিলিয়ন লিটার জল সংরক্ষণ করবে, যা দিয়ে ১,৮৮০ টি অলিম্পিক সুইমিংপুল ভর্তি করা সম্ভব।

এনকোর কীভাবে কাজ করে

আকারে প্রায় সমান হওয়া সত্ত্বেও, ডুয়াল চেম্বার ডিজাইনের কারণে এনকোর ১৮ লিটার জল ধারণ করতে পারে, যা একটি প্রচলিত ট্যাংকের তুলনায় তুলনায় প্রায় তিনগুণ।

নিচের চেম্বারটি ৬ লিটার পানি ধারণ করতে পারে, যা মূল পাইপ থেকে আসে। ওপরের ১২ লিটার পানি ধারণ ক্ষমতাবিশিষ্ট চেম্বারটিতে এয়ার কন্ডিশনারের জলীয় বাষ্প জমা হয়। টয়লেট ফ্লাশ করা হলে নিচের চেম্বার পানিশূন্য হয়ে যায় এবং উপরের চেম্বার থেকে আসা ঘনীভূত জলীয় বাষ্প সেস্থান দখল করে। এয়ার কন্ডিশন চালানো না হলে মূল পাইপই পানি সরবরাহ করে। অার ফ্লাশ ব্যবহার না করা হলে উদ্বৃত্ত পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়।

ডেভিস বলেন, ‘বর্তমানে যেসব আবাসন প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তারা ভালো করেই জানেন যে লিড পয়েন্ট পাওয়া কতটা কঠিন। তাই এনকোরের এই চৌবাচ্চা তাদের কাজকে আরো সহজ করে দেবে।’

তাই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই যুগে, এনকোরের এই বিশেষ প্রযুক্তি পানিসংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে, সংশ্লিষ্টজনেরা এ আশাই করছেন।

– রিয়েল লিডার্স অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।