মার্কো এসেন্সিও: নতুন রাজার পদধ্বনি

২০১৫ সালের জানুয়ারির এক সিদ্ধান্তের কারণে আফসোস পুড়ে যাচ্ছে বার্সালোনা।  বার্সালোনা সাড়ে চার মিলিয়ন ডলারে দলে ভিড়াতে চেয়েছিল এক স্প্যানিশ তরুণকে, কিন্তু টাকা দিতে চেয়েছিল দুই কিস্তিতে। তাতেই আপত্তি ছিল মার্কো এসেন্সিওর তৎকালীন ক্লাব মায়োর্কা। এই সুযোগে এককালীন চার মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে প্রতিভাবান মার্কো এসেন্সিওকে কিনে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। মনে হচ্ছে খাঁটি হীরা চিনতে ভুল করেননি রিয়াল প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনা পেরেজ!

রিয়াল মাদ্রিদ মার্কো এসেন্সিওকে কিনে লোনে দেয় তারই বেড়ে উঠা ক্লাব মায়োর্কাতে, আর পরের মৌসুমে লোনে খেলে লা লিগার দল এস্পানিওল এ। ২০১৫-১৬ মৌসুমে এস্পানিওল এ নজরকাড়া পারফর্ম করে ফিরে আসে বার্নাব্যু সান্তিয়াগোতে।

৯ আগষ্ট, ২০১৬; সেভিয়ার বিপক্ষে ‘উয়েফা সুপার কাপ’ ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক হয় মার্কো এসেন্সিওর। অভিষেকেই নতুন যাদুকরের পদধ্বনির জানান দেন তিনি। বামপায়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দৃষ্টিনন্দন গোল করেন তিনি।

২০ আগষ্ট, ২০১৬; রিয়েল সোসিয়াদের বিপক্ষে লা লিগার অভিষেক ম্যাচে গোল করেন মার্কো এসেন্সিও। তারপর কোপা দেল রে এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগে  নিজের অভিষেকে গোল দিয়ে জানান দেন ফুটবল বিশ্ব শাসন করার জন্যই তার আবির্ভাব। অভিষেক মানেই গোল, এটাই যেন নিয়মে পরিণত করার পণ করেছেন মার্কো এসেন্সিও!

২০১৬-১৭ মৌসুমে লা লিগায় এসেন্সিওকে দারুণ ভাবে ব্যাবহার করেন জাদুর কাঠির মত রিয়ালকে বদলে দেয়া জিনেদিন জিদান। বিগ ম্যাচগুলোতে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসাবে মোক্ষম সময়ে নামিয়ে খেলার মোড় গুরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ৩৮ ম্যাচে এসেন্সিও নিজে গোল করেছেন ১০ টি এবং প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন ৬টিতে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ফাইনালে জুভেন্টাসের বিপক্ষে গোল দিয়ে জানান ‘বিগ ম্যাচ’ প্লেয়ার মার্কো এসেন্সিও।

২১ বছর বয়সী মার্কো এসেন্সিও উইলিয়াসেন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী। চিতার মত গতি, পাওয়ার, অসধারন ড্রিবলিং, দুরপাল্লার শট নেয়ার ক্ষমতা, পজিশন সেন্স- বিশ্বসেরা হওয়ার সকল গুনই বিদ্যমান এই তরুনের মাঝে।

তাইতো ২০১৬-১৭ মৌসুম শেষে মার্কো এসেন্সিওর প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুরো ফুটবল বিশ্ব। ফুটবল বোদ্ধারা তার ভিতরে দেখছেন আগামী দিনের মহাতারকার প্রতিচ্ছবি। গতবারের এমন উজ্জ্বল পারফর্মেন্সেই কিনা এবছর আরো ক্ষুরধার হয়ে মাঠে নেমেছেন মার্কো এসেন্সিও।

বছরের শুরুতেই স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদন্দ্বী বার্সালোনার বিপক্ষে প্রথম লেগে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। বার্নাব্যু সান্তিয়াগোতে দ্বিতীয় লেগে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, গ্যারেথ বেল ব্যাতিত গড়া রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলার ৫ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে বা পায়ের জোরালো শটে এক দুর্দান্ত গোল করে পরপর দুই এল ক্ল্যাসিকোতে দুই দুর্দান্ত গোল প্রমাণ করেন তাকে নিয়ে রিয়াল ভক্তদের উচ্ছ্বাসের কারন।

এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন- গত এক বছরে রিয়ালের হয়ে মার্কো এসেন্সিওর পারফরম্যান্স এমনই। গত এক বছরে রিয়ালের হয়ে পাঁচটি শিরোপা জয়ে দারুণ অবদান এই স্প্যানিশ তুর্কির। এরই মাঝে অভিষেক হয়ে গেছে স্পেন জাতীয় দলের হয়ে এবং স্প্যানিশরা স্বপ্ন দেখছেন মার্কো এসেন্সিওকে নিয়ে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।