এটা মানসিকতার গলদ

মুশফিক যদি সিদ্ধান্তটি নিজেই নিতেন,তাহলে একটা জায়গায় খুশি হতাম যে অধিনায়ক নিজে অন্তত কিছৃ একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কিন্তু আমরা জানি, টেস্ট অধিনায়ক হয়েও টেস্ট দলের নানা সিদ্ধান্তে তার ভুমিকা বা প্রভাব সামান্য। টস জিতে বোলিং নেওয়ার দায় তাই অবশ্যই মুশির একার নয়। সেখানে কোচ আছেন, প্রধান নির্বাচক গেছেন ম্যানেজার হয়ে। আমরা এটাও জানি, সবচেয়ে বেশি প্রভাব কার থাকে।

আমার খারাপ লাগল, ফাফ দু প্লেসির হাসি দেখে। ব্যাটিং পেয়ে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। মুখেও বললেনও বিস্ময়ের কথা।

টসের সময় মুশি বলেছিলেন, শুরুতে একটু ময়েশ্চার থাকতে পারে। সেটা কাজে লাগাতে চান। এটা তো ওয়ানডে না যে শুরুর ময়েশ্চারের কথা ভাবব! বরং শুরুতে একটু ময়েশ্চার থাকলেও সে সময়টা কাটিয়ে পরে আরামসে ব্যাট করার কথা ভাবব। আর কাজে লাগানো বহুদূর,ময়েশ্চারের লেশমাত্র চোখে পড়ল না।

টসের সময়ই মুশি বলছিলেন, উইকেট বেশ শুষ্ক। তৃতীয় দিন থেকে টার্ন করতে পারে। তাহলে সেধে কেন আমরা চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করার প্যারা নেব? উইকেট আসলেই বেশ ড্রাই, শুরু থেকেই দেখা গেছে।

বাংলাদেশ খুব ভালো ব্যাট করে এই টেস্ট ড্র করতে পারে। এই উইকেট যেটি উচিত। অভাবনীয়ভাবে জিতেও যেতে পারে। আলাদিনের চেরাগ পেয়ে ইনিংস ব্যবধানে জিততে পারে। তবু এই সিদ্ধান্ত জাস্টিফায়েড হবে না।

যতটুকু বুঝি, এটা উইকেট রিড করার ভুল না। রিড করা মুখ্যই ছিল না। এটা মেন্টালিটির গলদ। আমরা হয়ত দেশ থেকেই পণ করে গেছি, দক্ষিণ আফ্রিকায় টস জিতলে আগে বোলিং। আর কোনো কথা নেই। তা উইকেট সড়ক হোক বা মহাসড়ক, আগে বোলিং… ব্যস। হতে পারে সাকিব না থাকায় এমন ভাবনা। হতে পারে হারার ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত। হতে পারে নিরাপদ পথে হাঁটার জন্য এই সিদ্ধান্ত।

এই মেন্টালিটিও নতুন নয়। আগে অনেক দেখেছি। তবে এখনকার এই বাংলাদেশের কাছ থেকে এমন মেন্টালিটি দেখা হতাশার।

আল্টিমেটলি দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি টেস্ট ড্র করতে পারাও আমাদের জন্য ভালো ফল। ড্রয়ের ভাবনায় তাই আপত্তি নেই। আপত্তি বেছে নেওয়া পথে। এই পথ খুব ভুল বার্তা দেয়। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে শ্রদ্ধা মেলে না। নিজেদের প্রতিও সম্মান আসে না।

– ফেসবুক থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।